সুপারহিরো নয় , মন কেড়েছিল একটি জোকার

ভিলেন

শ বছর আগে তখন এত ইন্টারনেট সহজলভ্য ছিল না। একটা সিনেমা দেখতে গেলে হানা দিতে হত সিডি বিক্রেতাদের কাছে নয়ত সেই টিভিতে। যাইহোক ডার্ক নাইট জোগাড় করলুম। ব্যাটমানের মুভি এটাই জানতাম শুধু নোলানের সম্পর্কেও তেমন জানতাম না। প্রথম সিনেই ভিলেন দেখলাম ঘাড় নিচু করে মুখোশটা পড়ে নিল। তারপর আধ ঘন্টা সিনেমাটা দেখার পরই বললাম এই লোকটা অস্কার পাবেই। এত ভাল প্রেডিকশন খেটে যাবে ভাবিনি। সুপারহিরো মুভি থেকে একমাত্র অস্কার পেয়েছিল এই লোকটা। ড্যানিয়েল ডে লুইস থেকে শন পেনের মত মেথড অ্যাক্টিং না করেও অ্যাকাডেমি আওয়ার্ড! হিথ লেজার। কিন্তু সে মঞ্চ ছিল শূন্য। কই তিনি? অতিরিক্ত ড্রাগ সেবনের ফলে কার্ডিয়াক অ্যাটাকেই মারা গেছেন! হলিউডের এক অপূরণীয় ক্ষতি। সেই সময় থেকেই জোকার প্রীতি শুরু। ২০০৯ থেকেই মোবাইলের ওয়ালপেপার থেকে কভার শুধু জোকার ছিল একসময়।

১৯৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ হিথ। ‘১০ থিংস আই হেট অ্যাবাউট ইউ’ এর ফলে লাইমলাইটে আসেন। পেট্রিয়টে মেল গিবসনের সাথে তারপর অ্যাং লির সাথে ২০০৫ এ সমকামী প্রেমের জোয়ার নিয়ে আসেন পর্দায়। বিপরীতে জেক গ্যালেনহ্যাল। এরপর নোলান যখন ডার্ক নাইট নিয়ে কথা বলে হিথের সাথে তখন হিথ রাজী হয়নি জোকার করতে। কারন জোকার চরিত্রটি মধ্য বয়সী। বরং হিথ চান ব্যাটম্যান করতে। কিন্তু ইতিমধ্যেই বেল ব্যাটম্যান হয়ে বসে আছেন। অবশেষে হিথ সেই চরিত্রে পা গলালেন যেটা জাক নিকোলসনের মত কিংবদন্তীরা আগেই করে গেছেন। রেফারেন্স হিসাবে হিথ বেছে নেন স্ট্যানলি কুবরিকের ক্লকওয়ার্ক অরেঞ্জকে। সিনেমার ক্ষেত্রেও হিথের অবদান অনেক ছিল। জোকারের লুকটা তিনি নিজে চেঞ্জ করেছিলেন। মেক আপ আর্টিস্টকে বলে দেন, মেকআপ টা এমন ভাবে করাতে যাতে মনে হয় কোন পাগল লোক ক্যাজুয়ালি এটা করেছে। বিখ্যাত হসপিটাল ব্লাস্ট এর সিনটাও হিথের ইম্প্রভাইজ ছিল। নোলান অন্যান্য জোকারের মত এই জোকারকে শুধু পাগল বানাননি, করেছেন বুদ্ধিমান পাগল।

হিথ জোকার চরিত্রটায় অমরত্ব প্রদান করলেন। জোকারকে কমিকস বইএর বাইরে টেনে সবাইকে চেনালেন। কাল তার চল্লিশতম জন্মদিন ছিল। কেউ কেউ বলে শেষ চরিত্রটি নাকি তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গিয়েছিল! সেই ডিপ্রেশন থেকে নাকি আর বেরোতে পারেননি।