দেল তোরোর গল্প !

দেল

জ থেকে তিপ্পান্নো বছর আগে মেক্সিকোর একটা ছোট্ট শহরে একটা বাচ্চার জন্ম হয়৷ ছোট থেকেই পড়াশোনার থেকে বেশি আগ্রহ ছিল রুপকথার গল্প আর ভিডিও গেমে। রঙ তুলি দিয়ে আঁকতে থাকে তার কল্পনার দুনিয়া। কলেজে থাকতে থাকতেই শুরু করেন শর্ট ফিল্ম বানানো। সেগুলো এতটাই জনপ্রিয়তা পায় যে ১৯৯৩ সালে ‘ক্রোনস‘ নামক হরর মেক্সিকান ছবি বানানোর জন্য ডাক পান৷ সেটাও তুমুল জনপ্রিয় হলে হলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন ‘মিমিক‘ এর মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে! এ যেন এক রুপকথার সাফল্য। মিমিক তেমন জনপ্রিয় না হলেও হলিউড বুঝতে পারে এক প্রতিভাবান ডিরেক্টরের আগমন ঘটেছে ( দেল তোরো )।

প্রিয় বিষয় ছিল হরর আর রুপকথা। দুটোকে মিশিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ২০০১ এ গথিক হরর ‘দ্য ডেভিলস ব্যাকবোন‘ তুমুল জনপ্রিয়তা পায়৷ রটেন টমেটোর সেরা ১০০ ভৌতক সিনেমার মধ্যে ৬১ তম স্থান পায়। এরপর তিনি কাজে হাত দেন মার্ভেলের ‘ব্লেড‘ সিরিজে। হরর এবং অসাধারন অ্যাকশন সিকোয়েন্স মেশানো গল্প। ২০০৪ এ আরো একটি কমিকস চরিত্র ‘হেলবয়‘ এর কাজ শুরু করেন৷ যেটাকে রটেন টমেটো সেরা কমিক অ্যাডপ্টেশন বলেছিল।

এরপর ২০০৮ সালে মেক্সিকান সিনেমা “প্যানস ল্যাবিরিন্থ” বানান। যেটা সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল৷ কাল্পনিক এবং কঠোর বাস্তবতাকে মিশিয়েছিলেন এক সুতোয়। এ যেন প্রাপ্তবয়স্কদের রুপকথা৷ এরপর কয়েকটি কাজ করলেও জীবনের সেরা সাফল্য আসে ২০১৭ এর ‘শেপ অফ অফ ওয়াটার‘ -র মাধ্যমে। এক কাল্পনিক প্রানী ও মানুষের মধ্যে ভালোবাসার গল্প। যা আগে কেউ কখনোই দেখেনি। আবার সেই বড়দের রুপকথা। ১৩টি অস্কার নমিনেশন পায় সিনেমাটি এবং জিতে নেয় বেস্ট সিনেমার পুরষ্কারটি। এইভাবেই হয়ত চলতে থাকবে গিয়ের্মো দেল তোরো গোমেজের রুপকথার গল্প।

Written By – শোভন নস্কর