Darshana Banik

বাঙালী বছরের আর পাঁচটা দিনকে ইংরাজী তারিখে মনে রাখলেও, কিছু কিছু বিশেষ দিন আছে যে দিনগুলোকে বাংলার তারিখে মনে রাখতেই বেশি পছন্দ করেন। আর ২৫ শে বৈশাখ কিন্তু সেই তালিকায় অন্যতম। সমাজ যতই আধুনিক হোক না কেন এই দিনের কালচারটা কিন্তু আজও একই থেকে গেছে। নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক সব কিছুর মাধ্যমে কবিগুরুর জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়ার যে রীতি তা আজও বিরাজমান। এবার এই ২৫শে বৈশাখ নিয়েই একটু অন্যরকম ভাবে ভাবল হইচই ওরিজিনালস। আজকে কবিগুরুর জন্মদিনেই তার লেখা অবলম্বনে হইচই ওরিজিনালসে মুক্তি পেতে চলেছে ‘ল্যাবরেটরি’। সৌমিক চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, দর্শনা বনিক, কৌশিক সেন ও নন্দিনী ঘোষাল। ছবি সংক্রান্ত নানান কথা নিয়েই ফোনের ওপারে আড্ডা দিলেন দর্শনা বনিক –

রবীন্দ্রনাথের গল্প নিয়ে যখন সিনেমা, স্বাভাবিক ভাবেই তার কথা উঠে এল সর্বপ্রথমে। নাচে হোক কি গানে বা গল্পে আমাদের প্রত্যকের জীবনেই রবীন্দ্রনাথ নানান ভাবে জড়িত। প্রত্যেকের কাছেই তার একটা ব্যখ্যা থাকে, তোমার ক্ষেত্রে সেটা ঠিক কি রকম? দর্শনার কথায়, “রবীন্দ্রসঙ্গীত খুব ভালবাসি, প্রচুর শুনি। রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প আমার ভীষণ ফেভারিট। এক একটা গল্প এক একরকম। আমি শুধু ভাবি উনি সবার সাইকোলজি কি করে বোঝেন, যেমন একজন বিধবা মেয়ের সাইকোলজি”।

ল্যাবরেটরি এর কোনও ট্রেলার দর্শক দেখেননি, আসল গল্পের সাথে ছবির কতটা মিল আছে বা তোমার চরিত্রটা ঠিক কেমন? উত্তরে তিনি জানালেন, “গল্পটা একদমই একই থাকছে। আমার ক্যরেক্টারটা আমার রিয়েল লাইফের থেকে অনেকটা আলাদা। নীলা চরিত্রটা ভীষণ পার্টি করে, প্রচুর ড্রিংক করে, স্মোক করে। তাছাড়া সে লাস্যময়ী এবং ইন্টেলিজেন্ট। আমার খুব ভালো লেগেছে এই চরিত্রটা করতে”।

অনির্বাণ ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই তার অভিনয় দক্ষতার জন্য বেশ পরিচিতি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই একসাথে সিনেমা করে ফেলেছেন এবার এক্সপিরিয়েন্সটা কেমন? “অনির্বাণ’দা প্রচুর হেল্প করেছে। ইনিশিয়ালি আমি নীলা চরিত্রটাকে জাজ করছিলাম। কিন্তু অনির্বাণ দা বললেন চরিত্রটাকে জাজ না করে তুমি এটাকে এটার মতো করে ভালোবাসো। আমার একটা সিন ছিল অনির্বাণ’দার কোলে বসার, যেটা নিয়ে আমি ভীষণ টেনসড ছিলাম, তখন উনি বকে দিয়েছিলেন আমাকে”।

ল্যাবরেটরি হলে মুক্তি না পেয়ে হইচই অ্যপে মুক্তি পাচ্ছে, সে জায়গা থেকে কোথায় গিয়ে মনে হচ্ছে না ছবির ইম্পরটেন্স কিছুটা হলেও কমে যাচ্ছে? উত্তরে তার সাফ জবাব, “একদমই কমছে না বরং আমার মনে হয় বাড়ছে। হইচই অ্যপে রিলিজ করার জন্য একইসাথে আমার বম্বে, দিল্লী বা ইউএস এর রিলেটিভরা দেখতে পাবেন”।

‘সৌন্দর্যের মোড়কে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি’ এই ট্যাগ লাইনটা কি শুধু নীলার চরিত্রের সাথেই জাস্টিফায়েড নাকি দর্শনা বনিকের সাথেও? এই প্রশ্নের উত্তরে তার হেসে জবাব, “সেটা তো দর্শক বলবে, তোমরা বলবে!” এ ক্ষেত্রে অভিনয় জীবনের শুরুর দিকেই দর্শনার যা পারফরম্যান্স তা দেখে বলা যেতেই পারে এই ট্যাগ লাইন তার জন্য নিশ্চয়ই প্রযোজ্য।

এই বছরেই অভিনয় জগতে পা রেখেছো আর ইতিমধ্যেই এটা তোমার ফিফথ প্রজেক্ট, কতটা এনজয় করছো এই ব্যপারটা? “ভীষণ ভালো লাগছে। যখন থেকে অভিনয় করব ভেবেছি ভালো স্ক্রিপ্টের জন্য অপেক্ষা করেছি। জেনারালি ডেবিউ ইয়ারে সবাই একটা, দুটোই প্রজেক্ট করে। আমি ভাবতেই পারিনি এতগুল প্রজেক্টে কাজ করব তাও আবার সব আলাদা আলাদা ক্যরেক্টারে”।

তাহলে মডেলিং না সিনেমা কোনটা এখন বেশি পছন্দ? “মডেলিং করতে আমি এখনও ভীষণ ভালবাসি আর সিনেমা আমার ফিউচার প্ল্যান। এই দুটো আমার দুটো চোখের মতো কোনওটা ছাড়াই আমি চলতে পারব না”।

আপাতত দর্শনাকে আপনারা দেখতে পাবেন ল্যাবরেটরিতে। আজকে, ২৫শে বৈশাখ হইচই ওরিজিনালসে মুক্তি পাচ্ছে রবীন্দ্রনাথের গল্প অবলম্বনে ‘ল্যাবরেটরি’ যা আপনি দেখতে পাবেন আপনার ফোন স্ক্রিনেই, হইচই অ্যপে।