প্রজাতন্ত্রের ফাঁসেই কি আটকে আছে সিনেমার স্বাধীনতা?

বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর অন্যতম ভারতবর্ষ। ২৬ জানুয়ারি তাই তার কাছে একটি বিশেষ দিন-নিজেকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করার দিন। সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষার শপথ নেওয়ার দিন। কিন্তু সেই সাংবিধানিক অধিকারই এবার পড়ছে বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে। প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালেই দেশজুড়ে ঝড় উঠেছে সঞ্জয় লীলা বনশালির সিনেমা ‘পদ্মাবত’ নিয়ে।

রাজপুত কর্ণী সেনা সংগঠনের আক্রমণের সম্মুখীন হয়ে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন পড়ে গিয়েছিল। আপাতত আদালতের রায়ে সিনেমাটি মুক্তি পেতে চললেও ইতিমধ্যেই কর্ণী সেনারা তার বিরোধিতা করেছে, করছেও। ভারতের রাজনীতিও আবর্তিত হচ্ছে এই ঘটনাকে ঘিরেই। সকলেই বলছেন, রিলিজের আগেই এরকম অযৌক্তিক বিরোধিতা আসলে শিল্পীর স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ – যা সংবিধান বিরোধী। তারই মধ্যে, বেশ কিছু রাজ্য উচ্চতম আদালতের রায় সত্ত্বেও সিনেমাটিকে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গ অবশ্য সে পথে হাঁটছে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাঁর রাজ্যে স্বাগত পদ্মাবত। অবশ্য, তাঁর এই পদক্ষেপকে দ্বিচারিতা বলে দাবী করছেন কয়েকজন। লেখিকা তসলিমা নাসরিন যেমন দাবী করছেন, এই মমতাই কিছুদিন আগে বিরোধিতা করেছিলেন তাঁর লেখা ‘দুঃসাহস’ নামে একটি চিত্রনাট্যের। তাতে মুসলিম ধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মীয় মন্তব্য আছে, এই আশঙ্কায়। অথচ সেই চিত্রনাট্য নাকি সরকারের তরফে পড়েই দেখা হয় নি।

এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একটি ছবি ‘রঙবেরঙের কড়ি’ নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে জটিলতার। ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামে একটি সংস্থা ছবিটির বিরোধিতা করেছে। তাদের বক্তব্য, ছবিটিতে রাম ও সীতা নামক দুটি চরিত্রের বিচ্ছেদ দেখানো হয়েছে, যা হিন্দু ভাবাবেগের পরিপন্থী। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তাঁরা, তবে সাম্প্রতিক খবর সিনেমাটিতে কোন রকম কাঁচি না চালিয়েই পাস করিয়ে দিয়েছে সেন্সর বোর্ড এবং জানিয়েছে কোনরকম আপত্তিকর বিষয় নেই সিনেমাতে! তা সত্ত্বেও রিলিজের আগে বিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে সিনেমাগুলো’কে! সব মিলিয়ে, শিল্পীর স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে গণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে। ধর্ম আর রাজনীতি হাত বাড়াচ্ছে বিনোদন মাধ্যমের দিকে। যা চলচ্চিত্র মহলের কাছে নিশ্চিতভাবেই অশনি সঙ্কেত।