আমাজনে বাঙালি দর্শন !

“অলস জাতির রাজত্বে / ভূরিভোজ শেষে / দামাল ছেলের স্বপ্ন ওড়ে / আমাজনের দেশে।”

আমাজনে বাঙালি ! ভাবতে পারছেন রহস্য আর রোমাঞ্চের পারদ কোথায় গিয়ে উঠবে ? অলস বাঙালি নামে বাঙালি জাতির এমনিতেই বদনাম রয়েছে। দুর্নামও বলতে পারেন। তবে আজকের বাঙালি আর চার দেওয়ালের মাঝে আটকে থাকে না, বরং চার দেওয়ালের গল্প লিখতে পারে। এই বাঙালির কল্পনা বহুকাল আগেই করে ফেলেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়। যার সত্যতা যাচাই করলো ‘এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্ট’, তাদের একশো তম উপস্থাপনা “আমাজন অভিযান” দিয়ে।

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত “চাঁদের পাহাড়”র দ্বিতীয় পর্বও বলা যেতে পারে। একটি পাতি বাঙালির গল্প। যেকিনা প্রকৃতির রুদ্র রুপ দেখেছে, দেখেছে অগ্নিদেবের শয্যা’ও। তবু দেখুন অলসতার ভূরিভোজ না সেরেই এই বাঙালি যুবক দৌড় লাগিয়েছে আমাজনের গ্বহণ অরন্যে। এবার তাঁর উদ্দেশ্য প্রকৃতির নৃশংসকতা কাটিয়ে বাঙালি জাতির দুর্নামে পর্দা তুলে দেওয়া। সেটা টলিপাড়ার দেব হোক বা বিভুতিভূষন’র শংকর, আমাজনের প্রতিটি মোড়েই উচ্চারিত হয়েছে বাঙালি জাতির নাম।

কমলেশ্বর মূখার্জী তো আর এমনি এমনি দেড় বছর ধরে এই ছবির স্ক্রিপ্ট লেখেননি। বাঙালির চাহিদা বুঝেই তিনি কলম চালিয়েছেন বিভুতিভূষনের দেখানো পথ ধরে। এটি কমলেশ্ব বাবুর কল্পিত চিত্রায়নও বলা যেতে পারে। তবে তাঁর অনুপ্রেরণা নিতান্তই বিভুতিভূষন। একজন পরিচালক হিসেবেও কমলেশ্বর বাবুর সাহসকে সাধুবাদ জানাতে হয়। যে বাঙালি চার দেওয়ালের কুটকাঁচালি আর পাঁচমিশালি গল্প ছাড়া কিছুই বাঁধতে পারে না সেই কিনা দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছে আমাজনে পাড়ি দিতে।

সবশেষে এবার দর্শকদের কথা। তারা কিভাবে নেবেন ছবিটিকে ?

‘আমাজন অভিযান’ ছবির টিজার বা পোস্টার দর্শকদের মধ্যে যে পরিমাণ ব্যকুলতা সৃষ্টি করেছে, তারওপর ভিত্তি করে মুক্তি অবধি নিশ্চিন্তেই থাকতে পারবেন কমলেশ্বর মূখার্জী বা দেব দুজনই। শোনা যাচ্ছে বাংলার সবচেয়ে চড়া বাজেটের ছবিটি মুক্তি পাবে সাত-সাতটি ভাষায়। কোনো বাংলা ছবির কাছে এই নজির একেবারেই টাটকা।