বাংলার অনেক ইতিহাস লুকিয়ে আছে এই “চিলেকোঠা”য়!

বাঙালি জাতি বরবরই একটু নস্টালজিয়া প্রিয় জাতি, অর্থাৎ ভাবতে খুব ভালোবাসেন। আর সেই ভাবনাকেই আবারও একবার নাড়া দিতে চলেছে বাংলার এই আগত ছবি 'চিলেকোঠা'।

হালফিলের বাঙালি সমাজ প্রগতির মত্ততায় যখন তার বাঙালী সত্ত্বাকে প্রায় ভুলে যেতে বসেছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আপনার কাছে বাঙালিদের বাঙালিয়ানাটা ঠিক কতখানি? অতীতের বাঙালিয়ানার কাছে আজকালকার বাঙালীয়ানাই বা ঠিক কতটা তাৎপর্যপূর্ণ! সেই একান্নবর্তী পরিবারের একসাথে আনন্দ করা, সাথে বাড়ির ক্ষুদেদের সঠিক শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ, দূর্গা পূজোয় সমস্ত পরিবার-পরিজনদের সাথে এক অনাবিল আনন্দের উন্মত্ততা, বাড়ির চিলেকোঠায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলের তার পাশের বাড়ির মেয়ের সাথে প্রেম করা, পূজোর ফাঁকে পাড়ার সম্মিলিত জ্যাঠা-কাকাদের নাটক মঞ্চস্থ করা, ফুটবল প্রিয় বাঙালীদের মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের ঠান্ডা লড়াই, থিয়েটারে গিয়ে নাটক দেখা, আবার বাংলা সিনেমা মানেই সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের মত অনন্য পরিচালকদের পরিচালিত অসাধারণ চলচ্চিত্রশৈলী প্রায় সবটাই যখন বিলুপ্তির পথে, মানুষ যখন পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে আধুনিক গ্যাজেটস নিয়ে এত বেশি তৎপর, সাবেকিয়ানা দূর্গা পূজোর পরিবর্তে প্রতিযোগিতামূলক থিম পুজোয় মশগুল হয়েছেন, বাঙালীদের সেই হারিয়ে যাওয়া বাঙালীয়ানার ভারেই ভারাক্রান্ত হয়ে পরিচালক প্রেমাংশু রায়ের এই নতুন প্রচেষ্টা ‘চিলেকোঠা’, যার একটি কমপ্যাক্ট ট্রেলার ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এলো।

বাঙালি জাতি বরবরই একটু নস্টালজিয়া প্রিয় জাতি, অর্থাৎ ভাবতে খুব ভালোবাসেন। আর সেই ভাবনাকেই আবারও একবার নাড়া দিতে চলেছে বাংলার এই আগত ছবি ‘চিলেকোঠা’। ছবিটি মূলত একটি অবসরপ্রাপ্ত এন.আর.আই. ব্যাক্তি অনিমেষ চট্টোপাধ্যায়ের, যার ছেলে আমেরিকাতেই তার পরিবার নিয়ে থাকে এবং অনিমেষ বাবুর স্ত্রী আগেই ওনাকে ছেড়ে চলে যান। তাই নিজের কাজের থেকে অবসর নেওয়ার পর দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে বিদেশ ছেড়ে আবারও তিনি ফিরে এসেছেন তার দেশের মাটিতে।দীর্ঘ বহু বছর বাদে দেশে ফিরে অতীতে কাটিয়ে আসা এক একান্নবর্তী পরিবারের মধ্যে দেখা ভালো-মন্দের বিভিন্ন স্মৃতিগুলো তরতাজা হয়ে ফিরে আসতে চলেছে তার জীবনে।

আরও পড়ুন : এ যেন সেই বিয়ে বাড়িতে খেতে বসার লাইনে হাপিত্যেশ করে অপেক্ষা করা…!

ছিয়াত্তরের মন্বন্তর থেকে ছবির গল্প শুরু হয়ে ১৯৭০ সালের নক্সালপন্থী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এই ছবির সমাপ্তি।এরই মধ্যে কখনও ধূতি-পাঞ্জাবি পরিহিতা বাঙালিদের আনাগোনা, তৎকালীন রাজনীতির কিছু উপমা, ঘামে ভেজা শরীরে কাদা মাখা ফুটবল খেলা, সাবেকি সজ্জায় সজ্জিত দুর্গা মায়ের আরাধনা সাথে মিষ্টি প্রেমের খুনসুটি, পূজোর অনুষ্ঠানের নাটক, অন্যদিকে রাজনীতির পেছনে নক্সালপন্থী আন্দোলনের এক গোপনীয়তা সব মিলিয়ে কয়েক মিনিটের এই ট্রেলার ইতিমধ্যেই নজর করেছে অধিকাংশের।

ছবিটির মুখ্য চরিত্রে আছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী, তার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন বেশ কিছু কৃতিমান বাঙালী যেমন ব্রাত্য বসু, ধৃতিমান চ্যাটার্জি, পরান বন্দোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অচিন্ত্য দাশ, গৌতম মুখার্জী, শর্বরী মূখার্জির মত বর্ষীয়ান কলাকুশলীরা ও তার পাশাপাশি দেখা যাবে বেশ কিছু নতুন মুখও, আর ক্যামেরার কাজ সামলেছেন অরিন্দম ভট্টাচার্য ও সঙ্গীত পরিচালনাতে আছেন দিশারী।

গত ২০শে আগস্ট ‘চিলেকোঠা’ ছবির ট্রেলার আসা মাত্রই তা চর্চিত হয়েছে গোটা টলি মহলে।বাঙালীদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গা পূজা একেবারেই আসন্ন, এই পূজোর মরসুমে ছবিটি কি পারবে গতানুগতিক আধুনিক বাঙালীদেরকে আবারও এক খাঁটি বাঙালীত্বের আস্বাদন দিতে, সেটা জানতে হলে অবশ্যই আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে ছবিটির রিলিজের।