‘চ্যাম্প’ না ‘বস ২’ কে ওড়াবে ‘টিউবলাইট’র ফিউজ? নাকি দুজনে একসাথেই…!!

একহাত দেব এর "চ্যাম্প" এবং অন্যহাতে জিৎ এর ড্রিম প্রোজেক্ট "বস ২"। হাড্ডাহাড্ডির এই লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছে সলমানের "টিউবলাইট"ও।

সামনেই ঈদ। অগত্যা শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলা সিনেমা। কেবল বাংলা সিনেমা বললে হয়তো ভুল বলা হবে। ঈদ রিলিজে বেশ শক্ত করেই কোমর বাঁধছে বলিপাড়াও। সবশেষে মুশকিলটা এসে ঠেকেছে দর্শকদের কাছে। কারণ তারাই একটি ছবির বিচারক, আবার তারাই ভাগ্যবিধাতা। আগামী ঈদ রিলিজে কোন ছবিটিকে বেছে নেবেন তারা তা নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই। কোন ছবিটিই বা নতুন কিছু শিখিয়ে যাবে তা নিয়ে নিত্য দিনই তৈরি হচ্ছে আগাগোড়া সংশয়। ব্যাপারটা প্রায় দিনেই ঘোরপাক খাচ্ছে দর্শকদের মাথায়, একগুচ্ছ ছবির মাঝে কোনটি বেছে নেবেন তারা ?

এই একই ভয় থেকে বাদ যাননি সিনেমা জগতের স্রষ্টারাও। একহাত দেব এর “চ্যাম্প” এবং অন্যহাতে জিৎ এর ড্রিম প্রোজেক্ট “বস ২”। হাড্ডাহাড্ডির এই লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছে সলমানের “টিউবলাইট”ও।

সবরকমের আজগুবি প্রশ্ন এসে ঠেকছে এখানেই। তিনটি ছবিই কারোর থেকে কম যায় না। কিন্তু একজন দর্শক হিসেবে কোন ছবিটিকে আগে রাখবেন আপনি ?? বলা বাহুল্য, এই প্রশ্নের সমাধান দেওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। পশ্চিমবঙ্গের বক্স অফিসে কোন ছবি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে তা নিয়ে প্রেডিকশনের অন্ত নেই।

প্রথমেই উকি মারা যাক “টিউবলাইট” এর অন্দরমহলে। স্ক্রিন কাউন্টের দিক দিয়ে বিচার করলে এই ছবিটির ধারে পাশে আসতে অনেকখানি কাটখড় পোড়াতে হবে বাকি দুই ছবিকে। রিলিজের সম্পূর্ণ রেকর্ড খতিয়ে দেখলে সমগ্র ভারতের প্রায় ৪৩৫০ টি স্ক্রিনে মুক্তি পাচ্ছে সলমানের “টিউবলাইট”। ছবিটির বাজেটে নিয়ে কাটাছেঁড়া করলে চক্ষু চড়কগাছ হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। নিজের আগামী ছবিটির জন্য সলমান খরচ করেছেন প্রায় ১০০ কোটির মতো একটা উচ্চ তরঙ্গের অঙ্ক। সলমান ভক্তদের কাছে উপরিউক্ত তথ্য গুলি সোনায় সোহাগার থেকে কোনো অংশেই কম না।

তবে বিশ্লেষণে নিজের জায়গা বুঝে নিয়েছে বাংলার দুই হাইবাজেট ছবি। বাংলার প্রায় সিংহভাগ প্রেক্ষাগৃহেই মুক্তি পাচ্ছে দেব এর “চ্যাম্প”। জিৎ এর “বস ২” এর ক্ষেত্রেও এই বিশ্লেষণ প্রায় এক। যদিও বাজেটের দিক দিয়ে বাংলার দুই ছবিই অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে “টিউবলাইট” এর থেকে। তথ্য বলছে “বস ২” ছবির জন্য ৭.৫ কোটি টাকা বাজেট তৈরি করেছেন জিৎ। ওদিকে “চ্যাম্প”এর খরচের খাতায় কতখানি মূল্য ধার্য্য হয়েছে সেই সম্পর্কে কোনোরকম আগাম প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি ছবিটির স্রষ্টারা। অনুমান করা যায় “চ্যাম্প” কে একটি মজবুত খুটিতে দাড় করাতে অঙ্কের কোনো খামতি রাখেননি প্রযোজক দেব।

গুগল থেকে জানা তথ্যানুযায়ী, গুগল সার্চের প্রতিযোগিতায় “বস ২” কে আছড়ে ফেলেছে দেব এর “চ্যাম্প”। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ “বস ” এর চেয়ে “চ্যাম্প” সম্পর্কেই জানতে চেয়ে বেশির ভাগ সময় সার্চ করেছে গুগলে। প্রোমোশনের দিক খতিয়ে দেখলে সেখানকার অধিপত্য আগে থেকেই নিয়ে রেখেছে “চ্যাম্প”। তবে থেমে নেই জিৎ এর “বস “ও। সমপরিমাণ প্রোমোশনের জোগান দিতে না পারলেও এই লড়াইয়ে হাড্ডাহাড্ডির চরিত্র রেখেছে ছবিটি।

“বস ২” এবং “চ্যাম্প” দুটি ছবিই তৈরি হয়েছে একটি প্রাথমিক গল্প দিয়ে। যদিও সালমানের “টিউবলাইট” প্রজ্জলিত হয়েছে হলিউডি ছবি “লিটল বয়” থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। এই দিক দিয়ে বিচার করলে পশ্চিমবঙ্গের বক্স অফিসে বাংলা ছবির দৌড় অনেক এগিয়ে। লড়াইটা যেন বলিউড এবং টলিউডের মধ্যে অবাধে ঘোরপাক খাচ্ছে। টলিউড এবং বলিউডের লড়াই আজকের নয়।

এর আগেও ২০০৯ সালে একসঙ্গে ময়দানে নেমেছিলো দেব’র “পাগলু” এবং সালমানের “রেডি”। এই লড়াইয়ে সমান ক্ষমতায় যোগদান করেছিলো জিৎ’র শত্রু’ও। ফলস্বরূপ দেব’র “পাগলু”র কাছে পশ্চিমবঙ্গের বক্স অফিসে পিছিয়ে পড়তে হয়েছিলো বাকি দুই ছবিকে। গল্পটা পাল্টায়নি ২০১৩ সালেও। এইসময় আমীর খানের “ধুম ৩ ” কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছিলো দেব’র অনবদ্য ছবি “চাঁদের পাহাড়”।

ইউটিউবের ট্রেডিং লিস্ট বিচার করলে “বস ২” ও যে কারো থেকে কম যায় না তা কোনো প্রমাণ ছাড়াই বিশ্বাস করা যায়। ঘুরেফিরে ২০০৯ সালের গল্প যেন আরও একবার এসে দাড়িয়েছে অতীতকে তাচ্ছিল্য করে। এবারও তিন সুপারস্টারের তিন অনবদ্য ছবি টেক্কা দিতে চলেছে একে অপরকে। “টিউবলাইট” এর পাশাপাশি “চ্যাম্প” এবং বস ২ এর থেকে প্রত্যাশার পাহাড় বানাচ্ছে দর্শক মহল।

তবে শেষমেষ বিশ্লেষণের আগাগোড়া খতিয়ে দেখলে আর বাকি দুটি ছবির চেয়ে “চ্যাম্প” এর পাল্লা খানিকটা ভারী বলেই মনে হচ্ছে। এবারেও কি বলিউডকে ছাপিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বক্স অফিসে বাজিমাত করবে বাংলার ছবি, নাকি বাংলা ছবির ইতিহাস পাল্টে দর্শকদের মনে ছাপ ফেলবে সালমানের “টিউবলাইট” ?