দেবদাস মুখোপাধ্যায় , যার পারো আজও শত শত বঙ্গনারী !

দেবদাস

বাবুজি নে কাহা গাঁও ছোড় দো, সব নে কাহা পারো কো ছোড় দো,পারো নে কাহা শরাব ছোড় দো, আজ তুমনে ক্যাহ দিয়া হাভেলি ছোড় দো, এক দিন আয়েগা যব ওহ ক্যাহেঙ্গে, দুনিয়া হি ছোড় দো।’

তিনি শাহরুখ খান। বলিউডের বেতাজ বাদশা। অথবা ডন কিংবা বাজিগর। কলকাতা থেকে বাংলা আবেগে ভেসে যায় তিনি এখানে এলে। তিনি তো করেছেন বাঙালী বাবুর চরিত্রও। দেবদাস

দেবদাস১৬ বছর পার করল সঞ্জয়লীলা বনশালীর লেজেন্ডারি ছবি ‘দেবদাস‘। সেই ছবি নিয়ে কিছু তথ্য দেব আজ।

শাহরুখ খান, ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন এবং মাধুরী দীক্ষিত অভিনীত এই ছবিটি মুক্তি পায় ২০০২-এর ১২ জুলাই।

ছবিতে খরচ হয়েছিল পঞ্চাশ কোটি টাকার বেশী।

সাতশো লাইট ও বিয়াল্লিশটি জেনারেটার ব্যবহার করে দেবদাস ছবির সেট তৈরী হয়েছিল।

দিলীপ কুমার চিরকাল দেবদাস রূপে সেরা থাকবেন যা স্বীকার করেন শাহরুখও। শাহরুখ পেয়েছিল দিলীপ কুমারের আর্শীবাদ এই লেজেন্ডারি চরিত্র করতে। কিন্তু সঞ্জয়লীলা বনশালীর ‘দেবদাস‘ এক আলোড়ন তৈরী করেছিল। নতুন প্রজন্মের কাছে এ হেন পিরিয়ড ফিল্ম সমাদৃত হয়। বিগ বাজেট বিগ হিট ছবি।

শাহরুখ যখন দেবদাস করছেন তখন বলা যায় তিনি মধ্যগগনে বিপুল জনপ্রিয় নায়ক। কিন্তু এই সিনেমাতে সঞ্জয় লীলা বনশালীর প্রথম পছন্দ শাহরুখ খান ছিলেন না। বনশালী শুরুতে সালমান খানকে ভেবেছিলেন দেবদাস চলচ্চিত্রের জন্যে। কিন্তু ঐশ্বর্যর সঙ্গে প্রেম অপ্রেম সম্পর্কের টানাপোড়েন চলায় দেবদাস করা হয়নি সালমানের। এতে সাপে বর হয় শাহরুখ খান ফ্যান দের।

ঞ্জয়লীলা বনশালীর দেবদাস কিছুক্ষেত্রে শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাহিনীর পথে হাঁটেনি। অনেক জায়গাতেই অতি নাটকীয়তা। তবু সঙ্গীতমূখর, বিগবাজেট সেট, সরোজ খান বিরজু মহারাজের নৃত্যশৈলীতে ছবিটি ইতিহাসে রয়ে যাবে।

ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনসুচিত্রা সেনের অপাপবিদ্ধ মুখশ্রী পার্বতী রূপের কাছে ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন হয়তো পেছিয়ে তবু জগত সেরা রাই সুন্দরী তিনি ,অভিনয়টাও দুরন্ত করেছিলেন ঐশ্বর্যা। দেবদাস এ অভিনয় দেখেই ঐশ্বর্যা কে ‘চোখের বালি’ ও ‘রেনকোট’ র জন্য সিলেক্ট করেন ঋতুপর্ণ ঘোষ।

মাধুরী দীক্ষিতবৈজয়ন্তীমালার চেয়ে চন্দ্রমুখী রূপে মাধুরী দীক্ষিত এগিয়ে। বাঈজীর লাস্য যেন মাধুরী বেশী ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন। যোগ্য সঙ্গত দিয়েছিলেন গানে কবিতা কৃষ্ণমূর্তি। কিন্তু দেবদাস র গান বিশাল হিট হলেও সারা বিশ্বের শ্রোতাদের কবিতা-মাধুরী জুটি ‘মার ডালা’ করে দিলেও দেবদাসের পর বিশাল সময় কোনো ভালো প্লে ব্যাক অফার পাননি কবিতাজী। বিশাল সাফল্য পেলেও কবিতাজীর পরবর্তী কালে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি।

দেবদাস ছবিতে চুণীলালেদেবদাস ছবিতে চুণীলালের ভূমিকায় প্রথম ভাবা হয়েছিল গোবিন্দা কে। গোবিন্দা এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নবাব পুত্র সেফ আলি খানকে চুণীলাল করার প্রস্তাব দেন পরিচালক। তিনিও রাজী না হওয়ায় মনোজ বাজপেয়ী কে ভাবেন সঞ্জয় লীলা বনশালী। তিনিও না করায় শেষমেষ জ্যাকি শ্রফ করেন চুণীলালের ভূমিকায়।

সমাইল দরবারসঞ্জয় লীলা বনশালী প্রায় আড়াই বছর ধরে তৈরী করেন এ ছবির গান। ছবির গান দিয়েই বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পান এ যুগের লতা শ্রেয়া ঘোষাল। এ তো এক বঙ্গকন্যার জয় বটেই সেসময়। তখন শ্রেয়ার বয়সও কম কিন্তু খ্যাতি পান বিশাল।

ঐশ্বর্যা রাই বচ্চনবিশাল বড় দূল পরে ‘দোলা রে দোলা’ নাচতে গিয়ে ঐশ্বর্যার কান কেটে গিয়ে রক্তক্ষরন অবধি হয়। মাধুরী ‘মার ডালা’ গানের সময় সন্তানসম্ভবা ছিলেন। তবু কাজের সঙ্গে নিজের জীবনকে আপোষকে করেননি। ঐ অবস্থাতেই নাচের শ্যুট করেন তিনি।

মাধুরী দীক্ষিতস্টিউমকে বরাবরই প্রাধান্য দেন সঞ্জয় লীলা বনশালী। দেবদাস-এও মাধুরীর কস্টিউম মুগ্ধ করেছিল দর্শকদের। ‘কাহে ছেড় মোহে’ গানে মাধুরীর লেহেঙ্গাটির ওজন ছিল ৩০ কেজি আর দাম ছিল ১৫ লক্ষ টাকা। এত ভারী ওজনের পোশাক পরে নাচতে অসুবিধে হওয়ায় কিছু নাচের দৃশ্য ১৬ কেজির লেহেঙ্গা পরে করেন মাধুরী।

শাহরুখ-ঐশ্বরিয়াদেবদাস আর পার্বতীর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেবছর ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতা ও সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার জিতেছিলেন শাহরুখ-ঐশ্বরিয়া। সেরা পরিচালক হন বনশালী। মাধুরী দীক্ষিত হয়েছিলেন পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রী। ফিল্মফেয়ারের সে বছরের আসরটাই ছিল দেবদাসময়। সেরা চলচ্চিত্রও হয় এই ছবি। সহ মোট এগারোটি পুরষ্কার জিতেছিল ছবিটি।

১৬ বছর পার করে এ বছর নিজের প্রোফাইলে মাধুরী সেই সিনেমার একটি দৃশ্য যেখানে তিনি শাহরুখ খানের সঙ্গে অভিনয় করেছেন একটি ছবি পোষ্ট করেছিলেন।ছবিতে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পরিচালকও। সেই ছবির প্রত্যুত্তরে শাহরুখ এদিন নিজের টুইটার হ্যান্ডেল থেকে এই প্রসঙ্গে মাধুরীকে বলেন ‘মার ডালা’। মাধুরী শাহরুখের উত্তরে লিখে দেন ইশশশশশশশশ্‘।

Written By – শুভদীপ ব্যানার্জী