কিছু সিনেমা যা পাল্টে দিয়েছিল ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসকে !

বলিউড সিনেমা

লিউড আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। সারা বিশ্বের মধ্যে সবথেকে বেশি সিনেমা তৈরি হয় বলিউড সিনেমায়। অস্কারের ভাগ্য খুব ভাল না থাকলেও বলিউডের রয়েছে নিজস্ব ঘরানা। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে এখন বলিউডের রমরমা বাজার। আজ আলোচনা করব সেইসব সিনেমা নিয়ে যা পাল্টে দিয়েছিল বলিউড সিনেমার ইতিহাসকে। তাহলে শুরু করা যাক …

১০। মুঘল এ আজম (১৯৬০) – পৃথ্বীরাজ কাপুর আর দিলিপকুমারের এই সিনেমাটি দেখেনি এমন লোক খুব কম আছে। পরিচালক আসিফের এই সিনেমাটা ছিল বলিউডের প্রথম বিগ বাজেটের লার্জ স্ক্রিনের ছবি। আকবর , তার ছেলে সেলিম এবং আনারকলিকে নিয়ে টানাপোড়েনের ছবি। আনারকলির ভূমিকায় ছিলেন মধুবালা। ফিল্মটা তৈরি করতে সময় লেগেছিল ১৫বছর! ভাবা যায় ?

mughle azam

৯। মাদার ইন্ডিয়া (১৯৫৭) নার্গিস, মনোজকুমার এবং সুনীল দত্ত অভিনীত কালজয়ী সিনেমা। পরিচালক ছিলেন মেহবুব খান। জমিদার ও মহাজনপ্রথার বিরুদ্ধে এ সিনেমা নির্মিত। প্রথমবারের জন্য অস্কারের দরজায় যাওয়া বলিউড সিনেমা। যা বলিউডকে চিনিয়েছিল সারা বিশ্বে।

Mother India 1957

৮। শোলে (১৯৭৫) রমেশ সিপ্পিশোলে দেখেনি এমন মানুষ বোধহয় পাওয়া মুশকিল। ধর্মেন্দ্র-অমিতাভ-আমজাদ অভিনীত সিনেমাটি আজও পুরোনো হয়নি। সিনেমার প্রতিটি ডায়লগও কালজয়ী। নবাগত আমজাদ খানের ভীলেনগিরি এখনও বলিউড ইতিহাসে জুড়ি মেলা ভার। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গের আগে পর্যন্ত সবথেকে বেশিদিন ধরে চলা সিনেমা ছিল এটি।

Sholey

৭। দিল চাহতা হ্যায় (২০০১) আপাতভাবে দেখতে গেলে ফারহান আখতারের এই সিনেমাটা ব্লকবাস্টার হিট ছিল না মোটেই কিন্তু ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস লেখা হলে এই সিনেমার নাম ওপরের দিকে থাকবে। আমির খান, অক্ষয় খান্না, সইফ আলি খান অভিনীত এই সিনেমাটি পাল্টে দেয় কমার্শিয়াল বলিউড সিনেমার দুনিয়াকে। তিন বন্ধুর কাহিনী নিয়ে সিনেমাটা জেন এক্স দুনিয়াকে আবার বলিউডমুখী করে। আজগুবি কাহিনী বর্জিত হতে থাকে বলিউড।

Dil Chahta Hae

৬। লগান (২০০১) আশুতোষ গোয়ারিকরের ক্রিকেট নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটা বানানোর সময় পাশে পাননি কোন প্রযোজককেই। শেষ পর্যন্ত আমির খান প্রযোজনা করেন। ক্রমশঃ ভারত তো বটেই সারা বিশ্বে সারা ফেলে দেয় এই সিনেমাটা। অস্কারের মঞ্চ অবধি গিয়েও পিছলে যায় পুরস্কার।

Lagaan

৫। থ্রি ইডিয়টস (২০০৯) বলিউড সিনেমা দেখেন কিন্তু থ্রি ইডিউটস দেখেননি এমন মানুষ পাওয়া দুস্কর। তিন বন্ধুর কাহিনী নিয়ে তৈরি সিনেমাটা ইন্সপায়ার করবে সবাইকেই। ভারতের সর্বপ্রথম ৩০০কোটি টাকা ইনকাম করা সিনেমা। পরিচালক রাজ কুমার হিরানী। অভিনয়ে ছিলেন আমির-মাধবন-শরমন। আর কলেজে র‌্যাগিংয়ের দৃশ্যটা কত মজাদার।

3 Idiots

৪। দ্য লাঞ্চবক্স (২০১৩) বহুল প্রশংসিত এবং প্রচুর পুরস্কার পাওয়া সিনেমা হল দ্য লাঞ্চবক্স। মানুষের সিম্পিলিসিটি এবং কিছু অব্যক্ত প্রেম নিয়ে তৈরি এই সিনেমা। অনেকে এখনো বিশ্বাস করে শুধুমাত্র অস্কার কমিটির বোকামির জন্যই অস্কারের মঞ্চে পাওয়া যায়নি লাঞ্চবক্সকে।

The Lunch Box

৩। পথের পাঁচালি (১৯৫৫) অনেকেই বিশ্বাস করে পথের পাঁচালি হল ফার্স্ট জেম অফ ইন্ডিয়ান সিনেমা। অপু ট্রিলজি হল ওয়ার্ল্ডের এপিক সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম। শুধু ভারত নয় সত্যজিৎ রায়ের এই সিনেমাটিই সম্ভবত সারা পৃথিবীর কাছে বহুল পরিচিত।

Pother Panchali

২। গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর (২০১৩) অনুরাগ কাশ্যপের এই সিনেমাটা ভারতীয় সিনেমার সেরা মুভির লিস্টে ঢুকে গেছে। বিহারের ওয়াসিপুর এলাকার তিন প্রজন্ম ধরে তৈরি এক রিভেঞ্জ কাহিনী। হাড় হিম করা থ্রিলার তো বটেই এত হোমওয়ার্ক করে খুব কম পরিচালক মাঠে নেমেছেন। সিনেমার প্রতিটি দৃশ্যই এপিক। সিনেমাটা এতটাই বড় ছিল যে দুটো পার্ট করে সিনেমাটা রিলিজ করতে হয়। নওয়াজ-মনোজ বাজপেয়ীর মত বিখ্যাত অভিনেতাদের সেরা কাজ দেখা গেছে এই সিনেমায়।

gangs of wasseypur

১। বাহুবলী (২০১৪,১৭) বাহুবলী হল সেই সিনেমা যা ভারতে বলিউডের একছত্র অধিকারকে ভেঙে দেয়। তেলেগু ভাষার এই সিনেমাটি বিশাল বাজেটের বিশাল সেট দিয়ে তৈরি যা হলিউডের সাথে টক্কর দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। রাজামৌলির এই সিনেমাটি ভারতীয় সিনেমা হিসাবে লাভের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়। এমনকি আমেরিকাতেও টপলিস্টে চলে যায় বহু হলিউড সিনেমাকে ছাড়িয়ে। মোট ইনকামের পরিমাণ দু-হাজার কোটি টাকা। ভাবা যায় !

Bahubali
তাহলে আর দেরি করছেন কেন , আজই বসে পড়ুন এই সিনেমাগুলো দেখতে।

Writen By – শোভন নস্কর