যে মেয়ে সমাজের নিয়মের তোয়াক্কা না করে, নিজের মতো করে বাঁচার সাহস দেখায় সেই ‘উড়নচন্ডী’।

‘উড়নচন্ডী’ শব্দটা শুনলে আপনার মাথায় প্রথম কি আসে বলুন তো? বেশিরভাগেরই মনের মধ্যে একটা বিগড়ে যাওয়া মেয়ের ইমেজ তৈরী হয়। অভিষেক সাহা পরিচালিত ছবি উড়নচন্ডী কিন্তু সেই গতানুগতিক কল্পনায় বদল আনবে। যে মেয়ে সমাজের নিয়মের তোয়াক্কা না করে, নিজের মতো করে বাঁচার সাহস দেখায় সেই ‘উড়নচন্ডী’। কিন্তু কথা যখন হচ্ছে ‘মেয়ে’ কে নিয়ে, তখন সে যে সমাজের নিয়মের বাইরে কোনও আচরণ করবে না এমনটাই ধরে নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, তা যদি হয় শহর পেড়িয়ে একটু গ্রামের দিকে, এমন গ্রাম যেখানে মেয়েদের শিক্ষা নৈব নৈব চ। তাই সেই সব মেয়েদের স্বামীরা মদ খেয়ে বউকে পেটাতে পারে, কিন্তু বউ কখনও স্বামীর গায়ে হাত তুলেছে কি? এই প্রশ্ন শুনলেই মেয়েদের কপালে হাত। আবার বুড়ো মা কে তার ছেলে থেকে শুরু করে নাতিরা মারে, জোড় করে বুড়ো লোকের সাথে মেয়ের বিয়ে দেওয়া এসব তো লেগেই আছে। কিন্তু এই সব কিছুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার সাহস কারোর আছে কি? আছে, ‘উড়নচন্ডী’ দের আছে।

ছবির শুরুতে মনে হতেই পারে তিন উড়নচন্ডী তাদের নিজেদের জীবন থেকে পালাচ্ছে। কিন্তু ছবির শেষে আপনি নিজেই এই কনক্লুশনে আসবেন যে তারা আসলে পালাচ্ছে না, তাদের বাঁচার সাহস আছে, তাই তারা বাঁচতে যাচ্ছে, ‘পালাচ্ছি তো আমারা’, আমার আপনার মতোই কি শহুরে কণ্ঠে শোনা যায় এই কথা। ছবির গানে এক লাইন উঠে আসে, ‘দিখা দে ক্যয় হ্যয় জিনা, কোথাও তুই থমকাবি না’। সত্যিই তারা দেখিয়ে দিয়েছে।

খুব সহজ সরল, অথচও গুরুত্বপূর্ণ একটি ছবি উপহার দিয়েছেন ‘প্রেজেন্টার’ প্রসেনজিত চ্যটার্জী, তার এই উদ্যোগকে কুর্ণিশ। অভিষেক সাহার পরিচালনা নিখাদ, বাংলার দর্শককে প্রথম আক্ষরিক অর্থে একটি রোড মুভি উপহার দিলেন তিনি। নবাগত অমর্ত্য রায় এবং রাজনন্দিনী পাল এর কাজে তাদের পরিশ্রম ও সিনেমার প্রতি আগ্রহ দুটোই স্পষ্ট। চিত্রা সেন কে একেবারেই অন্য রূপে পাবেন দর্শক। এবং যে মহিলাকে নিয়ে বলতে শুরু করলে ভাষার কম পরে তিনি সুদীপ্তা চক্রবর্তী। প্রতিটা মুহুর্তে সুদীপ্তার অভিনয়ে, করতালির শব্দ শোনা যায় হলে। ছবির বুনোন খুবই সুন্দর, সেকেন্ড হাফ টানটান উত্তেজনায় ভরপুর।  অতএব, একেবারে অন্য স্বাদের একটি ছবি দেখতে, ‘উড়নচন্ডী’ দেখুন।

REVIEW OVERVIEW
Udonchondi - Movie Review