কেমন হল থাগস অফ হিন্দুস্থান ?

থাগস

ত কয়েকবছরের অন্যতম অপেক্ষমান সিনেমা গুলোর মধ্যে হল ‘থাগস অফ হিন্দুস্থান‘। একসাথে আমির খান এবং অমিতাভ বচ্চন। সাথে বিগ বাজেটের সিনেমা। এক্সপেকটেশন অত্যন্ত উঁচু দর্শকদের৷ কিন্তু মাছ মাংস হলেই তো হয় না রান্না করতেও জানতে হয়। তা কেমন রান্না করলেন বিজয়কৃষ্ণ আচার্য?

যারা ট্রেলার দেখেছেন তারা অনেকেই বলা শুরু করেছিল এটা পাইরেটস অফ ক্যারিবিয়ানের কপি। সেটা ভাবলে ভুল হবে কিন্তু চরিত্র গুলি প্রায় কপি৷ কেইরা নাইটলি এখানে ফতিমা শেখ, জ্যাক স্পারো আমির, বারবারোসা অমিতাভ। সিনেমার প্রথম হাফ অর্থাৎ দেড় ঘন্টা ইন্ট্রোতেই কেটে যায়। রবার্ট ক্লাইভের কাছে পরিবার হারানো জফিরা অর্থাৎ ফতিমা ক্লাইভকে মারতে চায়। একটা প্রতিশোধের গল্প। কিন্তু গল্পে না আছে জোর না চিত্রনাট্যে। থাগ নিয়ে গবেষণা না করেই চিত্রনাট্য লিখতে বসে গেছেন পরিচালক!

থাগস অফ হিন্দুস্থানআমির খানের চরিত্রটি ছিল খল চরিত্র। যে মাঝে মাঝে ভালো হয়ে যায় মাঝে মাঝে খারাপ৷ কিন্তু দর্শকদের কনফিউজ করতে ব্যর্থ। দর্শক প্রথম থেকেই বুঝে যায় আমির যতই খারাপ কাজ করুক আসলে সে ভালই। অর্থাৎ চরিত্র গঠনে ব্যাপক দুর্বলতা। অমিতাভ বচ্চনের এমন এন্ট্রি বোধহয় সাম্প্রতিক কালে কোন সিনেমায় করেননি৷ যতটুকু ছিলেন পর্দায় দর্শকদের ধরে রেখেছিলেন৷ কিন্তু বয়স হয়েছে তার। অনেক চেষ্টা করেও অ্যাকশনের যে দ্রুততা দরকার ছিল সেই জায়গায় যায়নি। ফতিমা শেখকে এখনো অভিনয় শেখা দরকার। শেষের দিকে দশেরা উপলক্ষে নাচার দৃশ্য ও পটভূমি ছিল বিরক্তিকর। আশি বা নব্বইয়ের দশকের মত অযথা মেলোড্রামা এনে দর্শকদের মাথা বিগড়ে দিয়েছেন পরিচালক। আমির কেন এইসব মেনে নিলেন কে জানে! আজ সকালে দেখলাম আমির বলেছেন, একটা জুয়া খেললাম। বোঝা যাচ্ছিল কেন তিনি এটা বললেন৷ সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ভালো হলেও গানে হতাশ করেছে অজয়-অতুল

এক্সপেকটেশনে পৌঁছাতে পারেনি বলে অনেকে হাহুতাশ করছে। ততটা খারাপ মুভি নয় এটা। দারুন ভি এফ এক্সের কাজ এবং অ্যাকশন দৃশ্য গুলো সত্যিই ভালো। সেটার জন্য একবার হলে যাওয়াই যায়। তবে আমির খান যত দ্রুত যশরাজ প্রোডাকশন থেকে দূরে থাকবেন ততই ভালো হয়। ধুম থ্রির পর আবার পচা শামুকে পা টা কাটলো। আমাদের রেটিং ৬/১০

 

Written By – শোভন নস্কর