পুজোর ভিড়ে নবদম্পতিদের মুচমুচে প্রেমের নিরাপদ ঠিকানা ‘প্রজাপতি বিস্কুট’!


Movie : Projapoti Biskut
Directed by : Anindya Chattopadhyay
Starring : Aditya Sengupta, Ishaa Saha, Rajatava Dutta, Aparajita Adhya
Music by : Anupam Roy and Shantanu Moitra
Language : Bengali
Rating : 3.5/5


আজকে আপনাদের সাথে একটা ভীষণ বাস্তব ঘটনা শেয়ার করতে চাই, গল্পটা শুরু হয় গত সপ্তাহে, জায়গাটা নিউটাউন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডের পাশের চা’র দোকান। জায়গাটা বেশ নিরিবিলি মূলত অফিস পাড়া বলে হাই-হুই ইংরেজি বলা আইফোন (লোগোটাই চলে কোন মডেল সেটা বড় কথা না) হাতে ফর্মাল ড্রেসধারী পুরুষ-মহিলা’দের চা-সিগারেট নিয়ে মার্জিত বিচরনটাই বেশী চোখে পড়বে আপনাদের। এইরকমই এক পরিবেশে ঠিক সামনে বসে এক নবদম্পতি ,তাঁদের গলাতেও একই কোম্পানির ট্যাগ ঝুলছে, এসে বসল দোকানে, চা-বিস্কুট (প্রজাপতি নয়) নিলেন , খেলেন, নিজেদের মধ্যে গল্প করলেন এবং চলে গেলেন কাজে। ব্যস, ভীষণ সাধারণ একটা ব্যাপার। কি ভাবছেন? এটা আবার কি গল্প হল? এরকম ঘটনা তো নিজেদের মধ্যেই হয়, আশে পাশে সব সময় দেখা যায়!

এবার ঘটনার একটু ডিটেল দিয় আপনাদের, ছেলেটি এক কাপ চা নিয়ে এসে মেয়েটির হাতে তার পছন্দের বিস্কুটটা দিয়ে নিজের চা’য়ের কাপটা এগিয়ে দেয় কারণ মেয়েটি শুকনো বিস্কুট খেতে পারে না, মেয়েটি চা’তে বিস্কুট ডুবিয়ে ফুঁ দিয়ে ঠাণ্ডা করে ছেলেটির দিকে বাড়িয়ে দেয় প্রথম কামড়টা দেওয়ার জন্য! ছেলেটি চা’তে একটু সুড়কি টান কি দিয়েছে ওপার থেকে আলতো ধমক, “অসভ্যের মত আওয়াজ করিস না! চা’টা শেষ করে দিস না এখনো বিস্কুটটা বাকি!” এরকম না যে ওঁদের সামর্থ্য নেই আরেকটা চা কেনার কিন্তু  এই যে ছোট ছোট জিনিস ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে যে সহজ, সরল হৃদ্যতা, প্রেম লুকিয়ে আছে…!

ঠিক এই রসায়নগুলো সামনে নিয়ে আসাই এই পুজোতে পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়ের মূল ভাবনা।  সহজ জিনিসকে সহজভাবে দেখিয়ে তার মধ্যে মজা তৈরি করা ভীষণ কঠিন কাজ, সেই কাজ অতন্ত্য মেধার সাথে করেছেন পরিচালক । বলতে গেলে ‘ওপেন টি বায়স্কোপ’র পর প্রেমটা এবার বেশ পরিনত। একদম আমার-আপনার বাড়ির গল্প , অন্তর (আদিত্য)শাওন (ইশা)’র মত চরিত্ররা আমাদের আশেপাশেই রয়েছে জোরালোভাবে। সিনেমাটার গল্প মারাত্মক কিছু না কিন্তু একটা জার্নি যেটা আপনাকে শুধু রিলেট করাতে থাকবে হয় আপনার সাথে না হয় আপনার কোন পরিচিত প্রেমগুলোর সাথে। এই ফিলগুড ফ্যাক্টরের সাথে এক্সট্রা বোনাস পাবেন পরিচালকের রসালো সংলাপ, যার মধ্যে যৌন সুড়সুড়ি আছে কিন্তু জোর করে হাসাবে না, একদম মন থেকেই হাসতে পারবেন! এই সিনেমা নিয়ে একেবারে যতটা না বললেই নয় সেটাই বলবো কারণ এই লেখা পড়ে সিনেমাটার স্বাদটা পাবেন না, হলে বসেই সেটা ফিল করতে হবে।

সিনেমাতে কার্তিক ঠাকুর ছাড়াও আরও দু’জন ঠাকুর আছেন, রবি ঠাকুর ও প্রজাপতি (উনি তো ব্রহ্মা), এঁদেরকে সাক্ষী রেখেই এগিয়ে যায় এই নবদম্পতির চাওয়া-পাওয়ার গল্প। অভিনয়ে নিজেদের ছাপ ছেড়ে গেলেন নবাগত আদিত্য এবং ইশা, এতো মিষ্টি এবং মুচমুচে সম্পর্ক দেখে বুঝতে পারবেন কেন পরিচালক এই নবাগতদের উপর ভরসা করেছেন, মনেই হবে না যে এটা তাঁদের প্রথম সিনেমা এবং অবশ্যই শান্তিলাল মুখার্জি, রজতাভ দত্ত, অপরাজিতা আঢ্য, সোনালি গুপ্ত’রা বাকি চরিত্রগুলোতে প্রান ঢেলে দিয়েছেন। যদিও চিত্রনাট্য আরও জোরালো হতে পারতো তবে যে বক্তব্যগুলো আমাদের সমাজ এবং অভ্যেস নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে এমনকি সিরিয়ালের প্রসঙ্গ অবধি তা ভীষণ প্রাসঙ্গিক ও আধুনিক। প্রথম প্রযোজনাতে নেমে নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখার্জি’র ‘উইন্ডোজ প্রোডাকশন’ আবার বাজিমাত করলো একই মন্ত্রে, ‘বাঙালীয়ানা’র মন্ত্রে! গোটা সিনেমাটায় আপাদমস্তক বাঙালীয়ানা’তে মুড়ে দিয়েছেন প্রযোজকরা, সে সিনেমার গান কি বা সিনেমার প্রপস! এটা মানতেই হবে এই গল্পের রিলিজের জন্য দুর্গা পুজোকে বেছে নেওয়া বেশ চ্যালিঞ্জিং একটা কাজ! অবশ্য প্রেমের কোন সময় নেই বয়স নেই, তাই সিনেমা দেখে বেরিয়ে আপনিও হয়তো আপনার কাছের সঙ্গিনী কে বলতে পারেন, “তুমি সেদিন বিয়ার খাবে আবদার করেছিলে না?… কি সৌভাগ্য!”