অস্কার জয় হোক না হোক, মন জিতল রাতুল-রুদ্র জুটি!

পরিচালক পার্থ সারথি মান্নার প্রথম ছবি ‘অস্কার’। মুক্তি পেল ২৭ শে জুলাই। বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্য দুই ভাইয়ের লড়াই, ছবির মূল উপজীব্য। আর সেই লড়াইকে ঘিরেই আরো অনেক সম্পর্কের-স্বপ্নের ভাঙাগড়ার গল্প বলেছেন পরিচালক।‘অস্কার’ প্রযোজনা করেছেন নবাগত প্রযোজক সুমন পাল। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাহেব ভট্টাচার্য, প্রিয়াংশু চ্যাটার্জি, অপরাজিতা আঢ্য,আয়োষী তালুকদার, খরাজ মুখার্জি, সত্যহরি মন্ডল, অভ্রজিৎ চক্রবর্তি প্রমুখরা।

অচিনপুরের জমিদার বাড়ির দুই ছেলে রুদ্র চট্টোপাধ্যায়(প্রিয়াংশু)রাতুল চট্টোপাধ্যায়(সাহেব)। গ্রামের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কে থাকবেন সেই নিয়ে বরাবর অশান্তি রুদ্র ও দূর্গাদেবীর (অপরাজিতা )। গরীর জেলে পরিবার থেকে উঠে এসেছেন এই দূর্গাদেবী। দুর্গাদেবীর দাপটের কাছে রুদ্র নিতান্তই শিশু যাকে বলে আর কি। সেই দূর্গাদেবীর বোন কোয়েলেরই (আয়োষী) প্রেমে পাগল রাতুল।

দাদা-বৌদি, ঠাম্মা আর এক চাকর, এদের নিয়েই রাতুলের পরিবার। কিন্তু রাতুলের আরো এক সঙ্গী হল উলঙ্গ, সোনালি রঙের একটি লোক, যে বারবার স্বপ্নে আসে ওর। গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার ব্যর্থ হলে এই স্বপ্নের ভূত তাড়াতে রাতুলের উপর শুরু হয় তান্ত্রিকদের তন্ত্র-মন্ত্র। জানা যায় লোকটি আসলে অস্কারের র্ট্রফি। যে অস্কার জয়ের স্বপ্ন দেখতেন রাতুল-রুদ্রর বাবা, যে স্বপ্নকে আঁকড়েই প্রাণ দেন তিনি।

দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেয় বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে তারা। পেশায় লেখক রাতুল একটি চিত্রনাট্য লিখেও ফেলে, জোগাড় হয় এক পরিচালক(খরাজ)। পরিচালক বলেন সুপারস্টার অমিতাভ সচ্চনকে নিয়ে বানাবেন এই ছবি। উৎসাহী গ্রামবাসীরাও সাধ্যমতন সহযোগিতা করতে থাকেন রুদ্র ও রাতুলকে। কিন্তু ঠগ পরিচালক সচ্চন সাহেবের ডুপ্লিকেট জুনিয়র আর্টিস্ট আলিকে (অভ্রজিৎ) দিয়ে কাজ করাতে থাকেন। অপরদিকে মুখ্য খলনায়িকা দূর্গাদেবীর চক্রান্ত বাঁধ সাধতে থাকে ছবির কাজে। অবশেষে সত্যি জানতে পারলে বন্ধ হয় ছবির কাজ। অপমানে গ্রাম ছাড়ে চট্টোপাধ্যায় পরিবার। কিন্তু এমন কোন শত্রুতার জন্য দূর্গাদেবী এভাবে অপমান করলেন রুদ্র-রাতুলকে? কেন কাঁটা হয়ে দাঁড়ালেন তাদের বাবার স্বপ্নের পথে? দুইভাই কি এভাবেই মাথা হেঁট করে থেকে গেল নাকি যোগ্য জবাব দিল অপমানের? অস্কার জয়ের স্বপ্ন কি সত্যি হল রাতুলের? এই উত্তরগুলো তো হলে গিয়ে জানতে হবে।

অভিনয়ে সকলেই বেশ ভালো। তবে অপরাজিতা আঢ্য ও সাহেব ভট্টাচার্য আলাদা করে উল্লেখযোগ্য। নজর কেড়েছেন নবাগতা সুন্দরী আয়োষী তালুকদারও। তবে চিত্রনাট্য একটু দুর্বল। দৈর্ঘ্যটা ২ ঘন্টা ১৪ মিনিট না করে আরো কমপ্যাক্টভাবে গল্পটা বলা যেত। ছবির প্রথমার্ধ বেশি আকর্ষণীয়। ইন্টারভালের পর কেমন যেন খেই হারায় দর্শকের। তবে পুরোটা পরিচালক গুছিয়ে নিয়েছেন সহজেই। লয়-দ্বীপের সঙ্গীতপরিচালনায় ছবির চারটি গান বেশ মন ছুঁয়ে যায়। ছবির লোকেশনও বেশ দৃষ্টিনন্দন। ঝাড়খন্ড, নলবন, মেদিনীপুর ও কলকাতায় হয়েছে ছবির শ্যুটিং। ডায়লগ বেশ প্রশংসনীয়। আলাদা আলাদা সময়কালের প্রেক্ষাপট রয়েছে ছবিতে। প্রধানত হাসির ছবি হলেও প্রেম, ঘৃণা, মৃত্যু, রহস্য, প্রতিশোধ সব মিলিয়েই ‘অস্কার’। তবে যাই হোক, মনে দাগ কাটে রুদ্র-রাতুলের ভালবাসা। ‘অস্কার’ আদতে স্বপ্ন দেখার গল্প, সম্পর্কের ভাঙা-গড়ার গল্প, ভালবাসার গল্প।

REVIEW OVERVIEW
Oskar : Movie Review