সাধারন নারী এলেন “নায়িকার ভূমিকায়” কিন্তু গল্পটা সিনেমায় এলো কই?

টলিউডে এতোগুলো পার্টনারশিপে ইনিংস খেলার পর এটা ছিল ইন্দ্রাণী দত্তের একক ক্যামবাক ইনিংস এবং প্রমান করে দিলেন !

শিবরাত্রির সন্ধ্যে, প্রিয়া সিনেমার রেড কার্পেট তখন বরন করে নিতে ব্যস্ত স্বাগত চৌধুরীর “নায়িকা”কে! টলিউডে এতোগুলো পার্টনারশিপে ইনিংস খেলার পর এটা ছিল ইন্দ্রাণী দত্তের একক ক্যামবাক ইনিংস এবং প্রমান করে দিলেন এখনো ফুরিয়ে যান নি তিনি, একা হাতে উতরে দিলেন সিনেমাটা, সঙ্গে ছিল অবশ্যই খরাজ মুখার্জির সাবলীল অভিনয়!

গল্পটা একজন মধ্যবিত্ত নারীর অসাধারন হয়ে ওঠার গল্প, আমাদের বাঙালী মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক মা-বোনেরা আছেন যারা সংসার সামলানোর ব্যস্ততায় হারিয়ে ফেলে নিজের পরিচয়, যদিও গল্পে ইন্দ্রাণী দত্তের আরও একটি পরিচয় আছে যে সে ঋতুপর্না সেনগুপ্তের ছোটবেলার বন্ধু, এই লাইনটা ধরেই এগিয়ে যায় গল্পটা এবং সেই বন্ধু ঋতু’র সাথে দেখা করার মধ্যেই ঘটে যাওয়া ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়ে সেও হয়ে ওঠে “নায়িকা”!

গল্পের প্লটটা অসাধারন,ভীষণ ফ্রেশ কিন্তু সেটা কোথাও গিয়ে এলো না সিনেমার পর্দায়, বড্ড বেশী মেগাসিরিয়াল স্টাইল ফলো হয়েছে,তবে পরিচালককে সাধুবাদ দিতে হবে গানের সঠিক জায়গায় সঠিক ব্যবহারের জন্য, জয় সরকারের সুর অনেক সাহায্য করেছে নায়িকার গল্প বলতে!

এই প্রসঙ্গে উনি জানান,“গল্পের মধ্যেই তো গানের মালমশলা থাকে আর যারা গানগুলো লিখেছেন মনজিৎ ও অর্নাশিল খুব ভালো লিখেছে!, গানগুলোর ব্যবহার খুব ভালো হয়েছে!” 

গোটা সিনেমায় প্রাপ্য ইন্দ্রাণী দত্তের অভিনয়, এই অভিনয় দেখার পর তিনি অবশ্যই অনেক পরিচালকের ফোন পাবেন! যদিও ছোট রোলে থাকা চরিত্রাভিনেতাদের অনেকেরই অভিনয় অনেক মেকি মনে হয়েছে, তবে গল্পটা যেহেতু একজন সাধারন মহিলার জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার গল্প তাই আপনাদের ভালো লাগতে পারে!

Rituparna Sengupta and Indrani Dutta

একটা ব্যাপার বোধগম্য হোল না শেষে এয়ারপোর্টের সিনের শেষ শটে দুম করে দুই বন্ধু মানে ইন্দ্রাণী ও ঋতুপর্না এতো কাছাকাছি কি করে চলে এলো যেখানে আগের শটেই তাঁরা ছিলেন বেশ দূরে সঙ্গে আবার ফ্রেম থেকে একজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেরও আকস্মিকভাবে উধাও বোধহয় পরিচালক ব্যস্ত ছিলেন তাড়াতাড়ি প্যাকআপ করতে, এডিটিংও ছবিটা দাগ কাটতে পারে নি সেভাবে! এরকম টেকনিক্যাল কিছু ব্যাপার বাদ দিলে সিনেমার গল্পটা বেশ ভালো এবং আমাদের মধ্যবিত্ত বাড়ির মা-বোনেরা খুব মজা করেই দেখবে সেটা বলাবাহুল্য, আর হ্যাঁ সিনেমাটা অবশ্যই আপনাদের দেখা উচিৎ ইন্দ্রাণী দত্তের জন্য কারন এরকম সাজানো ইনিংস সচরাচর দেখা যায় না!