দেখুন তো আপনাদের কেমন লাগে?

গল্পটা ভীষণ মিষ্টি একটা গল্প, পাড়ার প্রেম থেকে পাশের বাড়ির অন্দরমহলে উঁকিঝুঁকি সব খুঁটিনাটি চোখে পড়বে আপনার, সবমিলিয়ে একটি নির্ভেজাল পয়সা উসুল সিনেমা।

রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন হঠাৎ একটা হাফপ্যান্ট পরা ছেলে আপনাকে লিফট চায় তখন আপনার সহৃদয় মন বামদিকের দরজাটা খুলেই দেবে, এতোদূর তো ঠিক আছে কিন্তু ছেলেটি যদি শুধু গাড়ির সিটে নয় আপনার কোলেও জমিয়ে বসার দাবি জানায় মানে আপনাকে হঠাৎ ‘বাবা’ ‘বাবা’ বলে ডাকতে থাকে কি করবেন? রাহুল (সোহম) হলেন সেই হতভাগ্য যার জীবনে এই ৬ বছরের একটি বাচ্চার দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ে এবং আস্তে আস্তে খুলতে থাকে তার চরিত্রের নানান রূপ, আর এরকম একটা মুহূর্তে বোধহয় চরম শত্রুই বলতে পারে ‘দেখ কেমন লাগে’! তারপর সেই ছেলেটাকে রাহুল মেনে নিলো নাকি ফন্দি এঁটে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিলো সেটা দেখার জন্য আপনাদের অবশ্যই দেখতে হবে ‘দেখ কেমন লাগে’।

আরও পড়ুন : “যখনই কোন প্রবলেমে পড়েছি, বুম্বাদাকে অকপট বলতে পেরেছি”- শুভশ্রী।

এই সিনেমার কথা বলতে গেলে চারজনের নাম বলতেই হয় সোহম, শুভশ্রী, সুজন মুখোপাধ্যায় ও মীর। বিশেষ করে মীরের মিমিক ট্যালেন্টের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করেছেন পরিচালকদ্বয় সুদেশ্না রায় ও অভিজিৎ গুহ। ‘তিন ইয়ারি কথা’, ‘বাপি বাড়ি যা’, ‘বেঁচে থাকার গান’র মত সিনেমার পর এই পরিচালক জুটির কাছে প্রত্যাশা আরও অনেকটা বেশী ছিল বোধহয় সেই চাপে কমার্শিয়াল চিন্তাভাবনাগুলো আরও বেশী করে ঢুকে গেছে! একটা জিনিস লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন এই পরিচালকজুটির অধিকাংশ হিট সিনেমাতে ৩টে শব্দ আর এই সিনেমাতেও ৩টে, ‘দেখ কেমন লাগে’ তাহলে এই সিনেমার কপালে “হাউসফুল” বোর্ড দেখা যেতেই পারে, নিউমেরলজিতেও এগিয়ে থাকবে এই সিনেমা অন্তত ইতিহাস তাই বলছে!

রাহুল-গুঞ্জা (শুভশ্রী)‘র খুনসুটি দেখে আপনাদের হাসি পাবেই আর সেটা খুব স্বাভাবিকভাবে, একদম জোর করে না, সেক্ষেত্রে অবশ্য পুরো মার্কস পাবেন চিত্রনাট্য লেখক পদ্মনাভ দাসগুপ্ত।

গল্পটা ভীষণ মিষ্টি একটা গল্প, পাড়ার প্রেম থেকে পাশের বাড়ির অন্দরমহলে উঁকিঝুঁকি সব খুঁটিনাটি চোখে পড়বে আপনার, সবমিলিয়ে একটি নির্ভেজাল পয়সা উসুল সিনেমা।

ফ্রেমগুলো ঝাঁ চকচকে, ভীষণ কালারফুল হলেও কিছু জায়গায় ক্যামেরার কাজ বেশ নড়বড়ে, তবে এই সিনেমার সবথেকে বড় আবিষ্কার কিন্তু বল্টু, এই অল্প বয়সে যেভাবে সোহম-শুভশ্রী’র সাথে তাল মিলিয়ে পাকা অভিনয় করেছে তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। অতএব আপনারা অবশ্যই দেখে আসতে পারেন প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি ও শ্যাম সুন্দর দে প্রযোজিত ‘দেখ কেমন লাগে’, কারণ অনেকদিন পর আপানদের কাছে এরকম একটা দমফাটা হাসির সিনেমা এসেছে আর সঙ্গে সোহম-শুভশ্রী কেমেস্ট্রি, মিস করলে কিন্তু আপনার আফসোস দেখে যে দেখেছে সে বলতেই পারে “দেখ কেমন লাগে”!