প্রেমের ভাষা কখনো পুরনো হয় না, বলছে “চৌধুরী রাজবাড়ি”!

কথায় বলে বিয়ে মানে নাকি সাত জন্মের বন্ধন, উপরওয়ালার অঙ্গুলিহেলনেই লেখা হয় আমাদের প্রেমগুলোর ভবিষ্যৎ, অনেকেই এটা বিশ্বাস করেন আবার কিছু আনাড়ি প্রেমী সেটাকে অস্বীকার করে কিন্তু হয়তো দিনের শেষে তাকেও বলতে হয় ‘কপালের নাম গোপাল”! আপনাদের মনে এই প্রশ্ন আসতেই পারে যে এইসব প্রসঙ্গ টেনে আনার কি মানে? আসলে আগের কথাগুলো একটা দিকেই ইঙ্গিত করে তার নাম ‘নিয়তি’ ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ডেস্টিনি’। আপনি চান বা না চান আপনার নিয়তি আপনাকে সেই রাস্তায় নিয়েই যাবে। এই চিন্তাকেই মূলমন্ত্র করে সেজে উঠেছে “চৌধুরী রাজবাড়ি”র গোপন গল্প।

শ্রী এন্টারটেনমেন্টের প্রযোজনাতে পরিচালক সঞ্জয় বর্ধনের হাত ধরে টলিপাড়াতে অভিনেত্রী হিসেবে ডেবিউ করলেন জিয়া এবং তাকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছে খুবই পরিচিত অভিনেতা মৈনাক। এছাড়াও বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ মুখার্জি, রজত গাঙ্গুলি, পায়েল, রাতুল সহ  পুরনো-নতুন শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অনেকটাই সাহায্য করবে  আপনাদেরকে রাজবাড়ির অন্দরমহলে প্রবেশ করতে। সিনেমাটা দেখতে শুরু করার আগে একটা ব্যাপারে আশঙ্কা ছিল যে একে অভিনেত্রী নতুন তার উপর ডুয়েল রোল মানে প্রথম সিনেমা হিসেবে বেশ চ্যালেঞ্জিং কিন্তু সময় যত এগোয় পরিষ্কার হয় অভিনয়ের ধারে ভালই শান দিয়েছেন নবাগতা জিয়া। দুরন্ত  প্রেমিকা  থেকে একজন বাধ্য মেয়ের অভিনয়, প্রত্যেকটা এক্সপ্রেশেনে বেশ সাবলীল। তার সাথে যোগ হয়েছে মৈনাকের অভিজ্ঞতা, সবমিলিয়ে এই শীতে একটা নিখাদ প্রেম উপভোগ করতে হলে কাছের হলে টিকিট কাটতেই পারেন।

এটা মূলত রিইনকারনেশনের গল্প মানে পুনর্জন্মের গল্প যার মধ্যে  আছে একটা রহস্য, সেই রহস্যের মধ্যে খুন, চক্রান্ত, বিশ্বাসঘাতকটা, শেষে পুলিশ কেস এরকম অনেক উপাদান আছে যা একজন সাধারণ দর্শককে গল্পতে মনোনিবেশ করতে বাধ্য করবে। তবে সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক কিছু জায়গায় ভীষণ দুর্বল কিন্তু গানগুলো আপনার ভালো লাগতে পারে, সঙ্গীত পরিচালক জয়-অঞ্জনের কাজ বেশ ভালো বিশেষ করে “আওয়ারা” ও “আমার এই মন”, আলাদা করে ভালোলাগার জায়গা করে নেবে আপনার মনে। প্রথমেই আপনাদের যে কথা বলেছিলাম ‘নিয়তি’, যা ঠিক করে দেয় পরমুহূর্তে আপনি কি করবেন!

এটাই আদ্যপ্রান্ত জড়িয়ে রেখেছে “চৌধুরী রাজবাড়ি”কে এবং একটা মজাদার ঘটনা যেটা বলা উচিৎ, সিনেমাটা দেখতে ঢুকেছিলাম একজন সিনেমার ব্যাকরণ সচেতন দর্শক হিসেবে কিন্তু সিনেমা শেষে বেরিয়ে আসতে হল একজন সাধারণ দর্শক হিসেবে, এটাও হয়তো ‘নিয়তি’!!  আর যে কোন সিনেমা নিয়ে শেষ কথা বলেন আপনারাই এতএব অবশ্যই  দেখুন এবং জানান আমাদের কেমন লাগলো “চৌধুরী রাজবাড়ি” কারণ এই সিনেমার ভবিষ্যৎ থাকছে এখন ‘নিয়তি’র হাতেই…!