হল থেকে বেরিয়ে পুলিশদের বক্তব্য,”এত রিয়্যালিস্টিক সিনেমা দেখি নি তো!”

Kabir : Movie Review

“কবীর” দেখার জন্য হাতে দুটো উপায় ছিল এক প্রিমিয়ার যেটা হচ্ছে শহরের এক নামী মলে আর একটা হল কলকাতা পুলিশ ও স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের আবাসনের মধ্যে অডিটোরিয়াম হলে। বেছে নিলাম দ্বিতীয়টাকেই আর এই সিধান্তের পেছনে দুটো কারণ আছে সেটা আপনাদেরও জানা প্রয়োজন! প্রথমত এই সিনেমাটার পুরোটাই সন্ত্রাসবাদ, পুলিশ প্রশাসন, এসটিএফ এইসবকে ঘিরে আর সেই বিষয়বস্তু নিয়ে রোজ যারা নাড়াচাড়া করেন সেই পুলিশদের মাঝে বসে সিনেমাটা দেখলে বোঝা যাবে দেব কতোটা বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে পারলেন “কবীর”এ আর দ্বিতীয় কারণ হল এই সিনেমা একজন সাধারণ মানুষের মনে কতোটা জায়গা করে নিতে পারল? কারণ সিনেমার ভাষা দিয়ে বিচার করতে গেলে খুঁতখুঁতে ব্যাপারটা লেগেই থাকবে, এটা হওয়া দরকার ছিল, এটা হলে ভালো হত কিন্তু দেবের প্রোডাকশন হাউসের কাছে এটা অবশ্যই বড় পরীক্ষা ছিল অ্যাডাল্ট সার্টিফিকেট নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দাগ কাটা আর ঐ অডিটোরিয়ামে শুধু পুলিশ নয় তাঁদের পরিবারও ছিল যারা এই দ্বিতীয় কারণের উত্তরটা দিতে পারবে সিনেমার শেষে।

সিনেমা শুরু হওয়ার পরই শুরু হল তিনটে খেলা…এডিটিং, সিনেমাটোগ্রাফি আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় তিনটে প্লেয়ারকে নিয়ে বেশ ভালো খেলেছেন যে মানুষ চমকে উঠতে পারে এক একটা সিনে! সিনেমা দেখে বোঝা যাচ্ছিল অনেকটা সময় দেওয়া হয়েছে রিসার্চ করার জন্য এবং দেব-রুক্মিণী সেই প্রসেসের মধ্যে দিয়ে গেছেন সেটা অভিনয়ে বেশ স্পষ্ট।

Dev and Rukmini
Dev and Rukmini

স্ক্রিন প্লে’তেও সেই ছাপ রেখেছেন যথাযথভাবে যে হল থেকে বেরিয়ে পুলিশদের বক্তব্য, “এত রিয়্যালিস্টিক সিনেমা দেখি নি তো!”  এটাই বোধহয় টিম “কবীর”র কাছে বড় প্রাপ্তি কারণ রিয়েল লাইফ একদম মিশে গেছে রিল লাইফের গল্পের সাথে। দেব তাঁর ভূমিকায় একদম যথাযথ কিন্তু আলাদা করে বলতেই হবে রুক্মিণীর কথা, এই সিনেমা দেখলে আপনারা নিজেরাই বুঝতে পারবেন দেবের সিনেমাতে রুক্মিণীর নিয়মিত থাকাটা কোনরকম পক্ষপাতিত্ব নয়! এখানে মাত্র একটাই গান ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেটা সঠিক জায়গায় বসানো হয়েছে সিনেমাতে, একদম মিউজিক্যাল রিলিফের মত। এইসব কিছুর পাশে এই ব্যাপারটা আপনাদের লক্ষ্য হতেই পারে যে একই শট ঘুরে ফিরে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটা একটু হলেও একঘেঁয়ে লাগতে পারে তবে মাঝখানে চমকে দিয়েছে একটা এডিট, যেখানে রুক্মিণী তাঁর জবানবন্দীতে এমন একটা কথা শেয়ার করছিল যার ঠিক পরিবর্তী শটে ট্রেনের লাইন চেঞ্জ হওয়ার একটা শট রাখা হয়েছে এবং এই দুটো শট পরপর রাখার ইমপ্যাক্ট আপনাকে একটু হলেও নাড়িয়ে দেবে। রুক্মিণী কি কথা বলছিল সেটা আপনারা হলেই দেখবেন। শুধু এই এডিটের জন্য এক পয়েন্ট বেশি পাবে টিম “কবীর”।

Dev
Dev

সিনেমার গল্প নিয়ে কোনরকম আভাস দেব না তবে এটা যে মৌলিক গল্প তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই আর সিনেমার শেষে এক জনৈক ব্যক্তি বললেন, “ইন্টারভ্যাল অবধি যেটা  ভেবেছিলাম সেটা তো হলই না! গল্প তো অন্যদিকেই চলে গেল(হাসি)!” হ্যাঁ, বুঝতেই পারছেন একটা জোরালো টুইস্ট আছে সিনেমার শেষে এবং অবশ্যই একটা বার্তা যা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক,

“দাঙ্গা করে দাঙ্গাবাজরা, হিন্দু বা মুসলমান নয়!”

আপনারা অবশ্যই এই সিনেমা হলে গিয়ে দেখুন কারণ এইরকম বিষয়বস্তু নিয়ে সিনেমা বাংলাতে হয় নি। শেষে একটা কথা হলফ করে বলা যায়, এই দেব আর পাগলু’তে নেই, এগিয়ে যাচ্ছে একটা বৃহত্তর দর্শক মহলের কাছে…