রাখে হরি থুড়ি ‘বস’, মারে কে?

বাস্তব-অবাস্তব’র উর্দ্ধে উঠে হল ফেটে পড়ছে তখন হাততালি আর সিটিতে, বেশ বোঝা যাচ্ছিলো জিৎ-শুভশ্রী কেন একসাথে বারবার ফিরে আসে!


Movie : Boss 2
Directed by : Baba Yadav
Starring : Jeet, Subhashree Ganguly, Nusraat Faria, Chiranjeet, Indraneil Sengupta
Music by : Jeet Gannguli
Language : Bengali
Rating : 3/5


শনিবার ২৫শে জুন রাত ১১ টা কলকাতা, আর পাঁচটা দিনের মত মধ্যবিত্ত বাঙালীর সাধারন খাওয়া-দাওয়া সেরে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর তোড়জোড় চলছে, হঠাৎ মনে হলো পরের দিন সকালে প্রথম শো’তে ‘বস’কে দেখতে যাওয়া হচ্ছে যখন টুক করে ট্রেলারটা দেখে নেওয়া যাক, বিছানায় শরীরটা ফেলে দিয়ে মুঠোফোনের ৫.৫ ইঞ্চির স্ক্রিনে জিৎ’র হিরোগিরি দেখতে দেখতেই চোখ বুজে এলো…

কাট

চোখ খুলতেই সামনে সারি সারি মাথা, অন্ধকারে ঠিক স্পষ্ট নয় মাথাগুলো, চারিদিকে একটা অস্পষ্ট গুঞ্জন কিন্তু বোঝা যাচ্ছে না এরা এতো উৎসাহ নিয়ে ভ্যাপসা গরমে করছে টা কি? সামনের পর্দায় ট্রেন থেকে সূর্য ওরফে বস ওরফে জিৎ’র পা প্ল্যাটফর্মে পড়তেই চিৎকারটা স্পষ্ট হলো এতো হাই ভলিউমে “জিৎ”র নাম আগে তো শুনি নি! তারপর ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ধরে যা হোল এক কথায় রাখে হরি থুড়ি ‘বস’, মারে কে? সেই হিরোইজমের সম্বোহন যার জন্য জিৎ আজও দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বক্স অফিসে, গল্প যদিও মৌলিক লাগলো কিন্তু আমার পাশে বসে থাকা টুপি পরা ভদ্রলোক গল্পটা কিছুটা এগোনোর পর থেকেই নাকি সুরে বলে যাচ্ছিল, “দেখে নেবেন এই হচ্ছে আসল ভিলেন!”, হ্যাঁ দ্বিতীয় হাফ শুরু হওয়ার কিছু পরই বোঝা যায় সেটা, সত্যি মফঃস্বলে বসে থাকা এই ভদ্রলোকের দূরদৃষ্টি কাবিলে তারিফ! হ্যাঁ, মফঃস্বল বলার কারন প্রথম হাফ শেষ হওয়ার পর লাইট জ্বলতেই পাশের ভদ্রলোকের কাছে অবগত হই এটা মেদিনীপুরের ‘হরি’ নামক একটি সিনেমাহল, যার উপর-নিচে উপচে পড়েছে জিৎ-ভক্ত! সূর্যের হবু বৌ মানে রুষা’র (শুভশ্রী) প্রথম প্রকাশেই চূড়ান্ত অ্যাকশেন করে ফেলে, দেওয়ালে পা দিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে ভিলেনকে রড দিয়ে মেরে, তবে সেটা বাস্তব-অবাস্তব’র উর্দ্ধে উঠে হল ফেটে পড়ছে তখন হাততালি আর সিটিতে, বেশ বোঝা যাচ্ছিলো জিৎ-শুভশ্রী কেন একসাথে বারবার ফিরে আসে! কখনো জিৎ গাড়ির নিয়ে ভেল্কি দেখাচ্ছেন আবার কখনো হলিউড স্টাইলে গাড়িতে ছুটে এসে বসে পড়ছেন আবার সেই গাড়ি নিয়ে ট্রেনের উপর দিয়ে লাফিয়ে আটকে ফেলছেন ভিলেনের রাস্তা, এটা কি? সিনেমা না সম্মোহন! সম্মোহন বলাটা প্রাসঙ্গিক কারন এই জন্যই জিৎ-কে বোধহয় সুপারস্টার বলতে বেশী পছন্দ করে ভক্তরা।

আর যখনই কেউ সূর্য’র রাস্তা কাটার কথা ভাবে তিনি তাকে ১নং করিয়ে দেওয়ার চিহ্ন দেখাতেই একটা অদ্ভুত উন্মাদনা দেখা গেল হলে, যেন গরম তেলে কেউ দু’ফোঁটা জল ছিটিয়ে দিয়েছে! সিনেমাতে বাকীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও জিৎ সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন তাঁর স্ক্রিন প্রেজেন্সের ওজনে! বাংলা থেকে বাংলাদেশ সেখান থেকে সবধরনের ভিলেনদের পীঠস্থান ব্যাংককেই হলো জিৎ’র চূড়ান্ত ফাইট, সঙ্গে আলেন আমিনের (ফাইট ডিরেক্টার) কারুকার্য! তারপরই হলে শুরু অন্য এক উন্মাদনা, যেন পারলে গোটা হল স্ক্রিনে ঢুকে পিটিয়ে আসে সেই ভদ্রলোকের ভবিষ্যৎবানী করা ভিলেনটাকে! চরম পর্যায়ে পেছন থেকে এক অন্ধভক্তের মুষ্টিবদ্ধ হাত কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলো, “মার **কে, গুরু কি দিচ্চে! “…

কাট

ধড়ফড় করে উঠে বসলাম, পাশে কিছু শুভাকাঙ্ক্ষীরা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অস্বাভাবিকভাবে তাকিয়ে থাকা চোখগুলোতে স্বাভাবিক প্রশ্ন, “এতোক্ষণ ধরে কেউ ঘুমোয়? “, সম্বিত ফিরতেই মনে হলো কি ছিল এটা? স্বপ্ন না জিৎ’র সম্মোহন? নাহ এই জন্যই জিৎ ১৫ বছর পরও সুপারস্টার!

REVIEW OVERVIEW
Boss 2 : Movie Review