সিনেমা শেষে উপলব্ধি হতে পারে, “এরা তো আমার মনের কথা বলে দিল…”!

Antor Shotta : Movie Reviewa
Antor Shotta : Movie Review

জীবনের মাঝপথে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকটা বসন্ত পেরিয়ে কখনো পেছন ফিরে তাকিয়ে কি মনে হয়েছে পুরনো সেই বসন্তের দিনগুলো ছিল সবচেয়ে দামি? বুকে হাত দিয়ে এই সত্যিটা অনেকেই লুকিয়ে রাখতে পারবেন না! ছোটবেলা থেকে শুরু হওয়া কিছু বন্ধুত্ব পরিণত বয়সে এসেও সেই সম্পর্ক পরিণতি পায় না, ছোট ছোট অনুভূতিগুলো জমা হতে হতে কখন যে ভালোবাসার লাইব্রেরীতে বসিয়ে দেয় সেই বন্ধুত্বকে, অনেকেই বুঝতে পারে না আর তার ফলে যেটা হয় ঐ মিষ্টি অনুভূতিগুলো মনের এমন ঘরে বাসা বাঁধে যেখানে কোনদিনও পৌঁছাবে না আশার আলো! ঠিক এটাই হয়েছিল উজানের জীবনে।

মিষ্টি’র সাথে ছোটবেলার বন্ধুত্ব একটা সময় যে তার অবকাশের অবসাদ হয়ে উঠবে সেটা আন্দাজ করতে পারে নি, তাই বোধহয় কোন বড় মানুষ বলে গেছেন, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে কখনোই ভালো বন্ধু হতে পারে না! কি? বেশ জটিল লাগছে না ব্যাপারটা, হ্যাঁ, অনেকেই এই মন্তব্যের বিরোধিতা করবেন কিন্তু এটাও ঠিক অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলে সেই বন্ধুত্বটা এতোটাই গভীরতা পায় যে অন্য কোন সম্পর্কে আগ্রহটাই চলে যায় যদিও সেই সংখ্যা একটু হলেও কম,মন ভাঙার তালিকাটাই বেশি। এইরকমই সম্পর্কের একটা গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে “অন্তর সত্তা”।

এই সিনেমা নিয়ে বলতে হলে প্রথমেই উল্লেখ করতে হবে দুই নবাগতের, রাজদীপ সরকার (উজান) ও গীতশ্রী রায় (মিষ্টি)। গীতশ্রী’কে ছোটপর্দার দরুন অনেক মানুষই চেনেন কিন্তু রাজদীপ এলেন প্রথমবার  বাংলার দর্শকদের সামনে। এই নতুন জুটি আপনাদের ভালো লাগতেই পারে কারণ যে গল্পটা বলা হয়েছে সেটা আমার আপনার পক্ষে অনুধাবন করা মোটেই কষ্টকর নয় ফলত এই জুটিকে মানিয়েছে গল্পের সাথে। এই সিনেমার পরিচালকরাও নবাগত ঋক চ্যাটার্জি ও বিহান সেন। প্রথম কাজ হিসেবে যথাযথ হলেও কিছু কিছু সিনে স্ক্রিপ্টের ঘাটতি মনে হতে পারে আপনার।

Rajdeep Sarkar and Geetashree Roy
Rajdeep Sarkar and Geetashree Roy

এই সিনেমার অন্যতম প্রাপ্তি সিনেমার গান, রবীন্দ্রসঙ্গীত ব্যবহার হলেও সেটা রাখা হয়েছে একদম সঠিক জায়গায়, সেই ইমোশেনগুলো গানের কথায় এবং দৃশ্যায়নে যথাযথভাবেই ফুটে উঠেছে যদিও সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক নিয়ে আরও কাজ করার জায়গা ছিল, সিনেমার এডিটিং ও সিনেমাটোগ্রাফি নিয়েও আলাদা করে কথা বলার জায়গা নেই।

এইসবের বাইরে সিনেমাটা দেখার পর যেটা আপনাদের আলোচনার বিষয় হতে পারে সেটা হল, গল্পটা ভীষণ প্রাসঙ্গিক এইসময়ে। আরও একটা বিষয় ভালো লাগতে পারে এই সিনেমাতে যে, প্রেম কাহিনীর মধুরেণ সমাপয়েৎ হয়েছে ঠিকই কিন্তু একটু অন্যভাবে মানে শেষ জীবনে উজান তার ভালোবাসা ফিরে পেয়েছিল তবে সেটা একদম আলাদাভাবে যেটা কিন্তু আপনাদের অবশ্যই মন ছুঁয়ে যাবে । এতএব একটা নিখাদ, নিঃস্বার্থ প্রেমের গল্প, বন্ধুত্বের গল্প দেখতে হলে আপনারা দেখতেই পারেন রাজদীপ-গীতশ্রী’র প্রথম সিনেমা “অন্তর সত্তা”। কারণ কে জানে ওরাই হয়তো দেখিয়ে দিল আপনার মনের কোণে লুকনো গোপন কথাটা…