এটি একটি কমার্শিয়াল এবং শিক্ষামূলক সিনেমা!

Alinagarer Golokdhadha - Movie Review

এক বিখ্যাত পরিচালক বলেছিলেন জ্ঞান বা শিক্ষা মূলক কিছু জিনিস সিনেমার মাধ্যমে বলতে গেলে সেটা পাঁচনের মত মিশিয়ে দর্শকদের খাওয়ানো উচিৎ তাতে কি হয় দর্শকরা গল্পটা উপভোগ করতে করতে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো জেনে নেয়। সায়ন্তন ঘোষালের ‘আলিনগরের গোলকধাঁধা’ এক কথায় এটাই! গল্পের ওঠানামার মধ্যে দিয়ে সিনেমার শেষে বুঝে উঠতে পারবেন না কখন কলকাতা নিয়ে এবং বাংলার ইতিহাস নিয়ে এত কিছু জেনে গেছেন আপনি! এটি একটি নির্ভেজাল কমার্শিয়াল ও শিক্ষামূলক সিনেমা, হ্যাঁ এই দুটো বিশেষণ একই সিনেমার আগে বসানো খুব কঠিন কাজ কিন্তু এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় সিনেমা দেখে আসার পর আপনিও বক্তব্যের সাথে একমত হবেন।

সিনেমা দেখতে দেখতে একটা জিনিস বেশ বোঝা যাচ্ছিল সেটা হল আত্মবিশ্বাস। সায়ন্তন ঘোষালের এই টিম কিছু মাস আগেই আপনাদের দিয়েছিল যকের ধন’, সিনেমাটি বহু মানুষের ভাল লেগেছিল বিষয়বস্তু দেখে আবার অপরদিকে অনেকেরেই মত ছিল এই টিম নিয়ে পরিচালকের সিনেমা করা উচিৎ নয় কিন্তু টিমের প্রতি সায়ন্তনের আত্মবিশ্বাস প্রমান করে দিল “আলিনগর” কতোটা পরিণত, শুধুমাত্র দেখতে ভাল ফ্রেম, একাধিক ড্রোন শট বা কিছু আলোর খেলা দিয়ে দু’ঘণ্টা ভরিয়ে দেন নি, যতটা ব্যবহার করেছেন সবটাই একদম গল্পের পক্ষে অনুকূল। কিছু কিছু শটে বেশ স্পষ্ট এই পরিচালক টেকনিক্যালি ভীষণ মজবুত এবং আগামীদিনে আমাদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিল পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল এবং তাঁর টিম।

এই সিনেমার তিনটে পাওনা আছে প্রথমত সৌগত বসুর স্ক্রিপ্ট, এইরকম রিসার্চ করে কলকাতা ও বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে মিল খাইয়ে রহস্যের জাল বোনা এবং সেটার সমাধান করা বেশ কঠিন ব্যাপার। কবরস্থান থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুজোর খিঁচুড়ি, ধাঁধা বানাতে কোনকিছুই বাদ দেন নি তিনি। দ্বিতীয় সুদীপ্ত মজুমদারের ক্যামেরা, বেশ কিছু ফ্রেম দাগ কেটে যাবে আপনার মনে এবং সবকিছুতে যিনি রাজত্ব করে গেছেন নিজের অভিনয়দক্ষতা দিয়ে তিনি আর কেউ নন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সেরা মুহূর্ত, যেখানে একঘরে সাক্ষীগোপালের (পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়) সাথে সোহম (অনির্বাণ) নিজের আসল পরিচয় জানতে পারছে সেই মুহূর্তটি, ঐ কিছু সেকেন্ডে অনির্বাণের চোখের অভিনয় অবশ্যই প্রলুব্ধ করবে অন্যান্য পরিচালকদেরকে। ব্যোমকেশ খোলস থেকে বেরিয়ে যথার্থই সোহম হয়ে উঠেছেন তিনি। এছাড়া পার্নো, কৌশিক সেন, গৌতম হালদার প্রমুখরা চরিত্রগুলোকে ভীষণভাবে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন তবে কিছু কিছু অভিব্যক্তিতে গৌতমবাবুর অভিনয় অতিনাটকীয় মনে হয়েছে।

পরিচালক ঘোষাল যেভাবে গল্পটা এগিয়ে নিয়ে গেছেন আপনি কোথাও বোর ফিল করতে পারবেন না, টানটান উত্তেজনটা ধরে রেখেছেন যদিও কিছু স্লো-মোশন অতিরিক্ত মনে হতে পারে এবং পুরো রহস্যকে আরও জমিয়ে দিয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, “ইতিহাস কবিতা” গানটির ব্যবহার একদম যথাযথ আর এই সুরের জন্য প্রশংসা প্রাপ্য মিমো’র। কলকাতার অলিতে গলিতে ছড়িয়ে আছে বাংলা ও বাঙালির অনেক বিস্ময়কর ইতিহাস যেটার জানার চেষ্টা হয়ত আমরা করি না কিন্তু এই সিনেমাতে চিত্রনাট্যকার সৌগতবাবু শুধু ইতিহাসটা নিয়ে পড়াশুনো করেছেন তা নয় সেগুলো একজায়গায় এনে রীতিমত থ্রিলার গল্প লিখে ফেলেছেন! সবমিলিয়ে সায়ন্তনের এই ইয়ং ব্রিগেড কিন্তু বাংলার দর্শকমহলের কাছে বাংলার কমার্শিয়াল সিনেমার সংজ্ঞাটা নতুনভাবে তৈরি করার সব ইঙ্গিত দিচ্ছে তাই অবশ্যই আপনারা দেখে আসুন “আলিনগরের গোলকধাঁধা”, কে জানে হয়ত ঐ জায়গা বা রাস্তাগুলোর সাথে জড়িয়ে আছে আপনার নিজের কোন স্মৃতি!

REVIEW OVERVIEW
Alinagarer Golokdhahdha : Movie Review