এই সিনেমা আপনার জন্য একদম পারফেক্ট ‘নিউ ইয়ার রেজোলিউশেন’!

নতুন বছর শুরু করে দিয়েছে তার পথ চলা…আন্তর্জাতিক, জাতীয়, স্থানীয় সমস্যাগুলো মাথায় নিয়ে প্রবল শীতে লেপের ভেতরে ঢুকে অনেক বাঙালিই ঠিক করে ফেলেছেন নতুন বছরের রেজোলিউশেন যদিও অধিকাংশ লক্ষ্যগুলো ফেসবুকের টাইমলাইনেই মুখ থুবড়ে পড়ে যায় আবার কিছু মানুষ অবশ্য খুঁজে পাচ্ছেন না নতুন বছরে নতুন কিছু করণীয় আছে কিনা! তাই সবার জন্য একটা কথা বলা যেতে পারে, এই ঠাণ্ডায় একটু গা-হাত-পা ঝেড়ে সিনেমাহলে এই জয় চ্যাটার্জি মানুষটাকে দেখে আসুন, ওখানেই পেয়ে যাবেন নতুন বছরের পারফেক্ট রেজোলিউশেন।

“জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”

স্বামীজির এই আপ্তবাক্যকেই হাতিয়ার করে ‘থ্রিলার’ গল্প সাজিয়ে ফেলেছেন পরিচালক মনোজ মিশিগান। ‘আমি জয় চ্যাটার্জি’ আসলে নিজেকে নতুন করে চিনে নেওয়ার গল্প। নিজেকে নিজের অবশ্যই ভালোবাসা উচিৎ কিন্তু কখনো কখনো সেই ভালোবাসাতে স্বার্থ ঢুকতে শুরু করে এবং তৈরি করে দেয় একটা আপাদমস্তক স্বার্থপর লোক, এক্ষেত্রে এই মানুষটা হলেন জয় চ্যাটার্জি। চরম স্বার্থপর জয় কিভাবে একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে ওঠে সেই নিয়ে এগিয়েছে পুরো গল্প, সঙ্গে অবশ্য গল্পের আঁকেবাঁকে আপনাকে বুঝিয়ে দেবে কিভাবে আপনাদের অজান্তেই অনভিপ্রেত ব্যবহার করে থাকেন আশেপাশের মানুষদের সাথে। আবির চ্যাটার্জি, জয়া আহসান, সতাফ ফিগার, সৌম্যজিত মজুমদার, তপতী মুন্সি’দের অভিনয় আপনাকে মুগ্ধ করবেই, এঁদের প্রত্যেকেই নিজের চরিত্রে ভীষণ বিশ্বাসযোগ্য এবং আরেকজনের নাম বলতেই হবে যার নির্বাক অভিনয় সিনেমার শেষে আপনাকে দেবে এক তৃপ্তির হাসি, তিনি হলেন সন্ন্যাসী দিকপাল ভিকু।

আবির আবার প্রমান করে দিল কেন সারা বছর পরিচালকদের লাইন লেগে থাকে ওনার বাড়িতে। এসবের পাশে একটা ব্যাপার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ যে, পরিচালক গুলি, বন্দুক, খুন এসবের বাইরে একটা থ্রিলার গল্প লিখে ফেললেন, এই জয় চ্যাটার্জি’কে নিখোঁজ করিয়ে মনোজ মিশিগান নামটা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে এক ধাক্কায় অনেকটা উপরে ঠেলে দিল!

খুবই নির্মেদ স্ক্রিপ্ট যাতে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন এডিটর সংলাপ ভৌমিক, এইরকম একটা গল্পকে এডিট করতে যে দক্ষতার প্রয়োজন সেটা আপনি হলে বসেই বুঝতে পারবেন। সিনেমাতে কমিক রিলিফও আছে একদম পরিমিত, গানের ব্যবহারও যথাযথ বিশেষ করে রাজা নারায়ন দেবের সুরে ‘রাহে যুদা’ গানটি মন ছুঁয়ে যাবে আপনার…সব মিলিয়ে এরকম একটা গল্পকে প্রযোজক হিসেবে প্রথম সিনেমাতে প্রযোজনা করার জন্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাহসী সাধুবাদ প্রাপ্য শিভাঙ্গি চৌধুরী’র।

আপনারা অবশ্যই যান আপনাদের কাছের সিনেমাহলে, দেখুন জয় চ্যাটার্জি’কে কারণ আমার আপনার সবার মধ্যেই কোথাও না কোথাও লুকিয়ে আছে এই মানুষটা এবং সিনেমাতে একটা সংলাপ রয়েছে যে, “যত দেবে তত পাবে” সেই কথা ধার করেই পরিচালক মিশিগান’কে বলা যেতে পারে, “যত এইরকম সিনেমা দেবেন তত মানুষের ভালোবাসা পাবেন”…