‘ওরে হিরোয়িন ছেড়ে অন্য হ, ভালো লাগবে ’ – ঋত্বিক ঘটক

ঘটক

হ্যাঁ , আবার ছবি বানাচ্ছি.. ছবি বানানো ছাড়া আর কী-ই বা করতে পারি আমি !” ভবানীপুরের বাড়িতে বসে ঋত্বিক ঘটক একথাই বলেছিলেন সুচিত্রা সেন-কে । তাঁদের কথা হয়েছিল “রঙের গোলাম” ছবিটির জন্য ।

ছবিটির শ্যুটিং শুরু হয় সুচিত্রা সেন ও ঋত্বিক ঘটক দুই কিংবদন্তির। কিন্তু মাঝপথে ছবিটি বন্ধ হয়ে যায় ছবির শ্যুটিং তো পুরো হয়-ই নি , চিত্রনাট্য-ও আর খুঁজে পাওয়া যায়না আজকাল ।ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে সুচিত্রা প্রথম কাজ হিন্দি ছবি “মুসাফির“-এ । ছবির পরিচালক ছিলেন হৃষীকেশ মুখার্জী এবং কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ঋত্বিক ঘটক। দুজনের আদি নিবাস পাবনা। সেই সূত্রেও আলাপ ছিল। “সুবর্নরেখা” করতে গিয়ে ঋত্বিক বহুবার হমকি দিতেন মাধবী মুখার্জ্জীকে –

“ছেড়ে দে মাধু। তোর সঙ্গে আমার পোষাবে না। আমি রমাকে (সুচিত্রা সেন) দিয়ে অভিনয় করিয়ে নেব।”

হয়তো যাতে মাধবীর অভিনয়টা আরও ভালো হয় তাই রাগিয়ে দিতে বলতেন। কিন্তু সুচিত্রা সেনের সঙ্গে ছবি করার খুব ইচ্ছে ছিল ঋত্বিকের। দুজন দুজনের খামখেয়ালি মেজাজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করা অত সোজা!ঋত্বিক ঘটক মানুষটা কেমন ছিলেন তা নিশ্চয়ই জানতেন তাঁর রমাও। তা সত্ত্বেও ওঁদের মধ্যে একটা আত্মিক যোগাযোগ ছিল। ছবি ওঁদের জুটির সেভাবে না হলেও এক সঙ্গে কাজ করার কথা বহুবার হয়। ‘চতুরঙ্গ‘ করার প্রস্তাব সুচিত্রা একবার ঋত্বিক কে দেন। এই অবিসংবাদিত নায়িকা নায়িকার মতোই এসেছিলেন ঋত্বিকের বাড়ি। সঙ্গে ছিলেন মুনমুন। সেদিন বেশ উদ্বিগ্ন ছিলেন সুচিত্রা৷ বার বার বলছিলেন, ‘আমাকে কেউ দেখেনি তো? গাড়িটা বাড়ির সামনে রাখা৷’ ঋত্বিক বলেন, ‘ভয়ের কিছু নেই, এখানে কেউ আসবে না ৷’ ঋত্বিক আরও মজা করে বলেছিলেন ‘

‘ওরে হিরোয়িন ছেড়ে অন্য হ, ভালো লাগবে৷’ শুনে রমা সেন সেই বিখ্যাত হাসিটি হেসেছিলেন

কিন্তু একটি উল্লেখ যোগ্য দিক ঘটে,‘রঙের গোলাম‘ যে সামান্য কদিন শুটিং হয়েছিল । ঋত্বিকের রেট্রোস্পেক্টিভে অল্প একটু রাশ দেখানো হয়েছিল। পরে বোধহয় ফিল্ম ডিভিশন অফিসে (Ex রাধা Film Studio, Golf Club) খুঁজলে পাওয়া যেত। কিন্তু সে বাড়িও নাকি আর অবশিষ্ট নেই। ‘রঙের গোলাম’ সম্পূর্ন ছবিটি হলে একটি কালজয়ী চলচ্চিত্র হত ‘

Written By – শুভদীপ ব্যানার্জী