যদি এমন একটা চরিত্র সৃষ্টি করা যেত যে দেওয়ালেও হাঁটতে পারতো !

মার্টিন

১৯৪০ সাল। আঠারো বছরের যুবক ছেলেটি ইতিমধ্যেই দেখেছে পরিবারের নানারকম অভাব ৷ বাবা জ্যাক লিয়েবার পেশায় দর্জি কিন্তু বেশিরভাগ সময় থাকতেন বেকার। মাত্র সতেরো বছর বয়স থেকেই সংসারের জন্য ইনকাম করতে হত। কিন্তু তার মা সবসময় ছেলেকে স্বপ্ন দেখাতে শেখাতেন। ছেলে কিছু লিখে দেখালে বলতেন, বাহ তুমি তো শেক্সপীয়র৷ কখনো নিরাশাবাদী হতে দেননি। এমন সময় তার কাজিনের স্বামী মার্টিন গুডম্যান তাকে ‘টাইমলি ম্যাগাজিনে’ একটা কাজ দিলেন। কলমে কালি ভরা, সম্পাদকের টুকটাক কাজ করে দেওয়া এবং প্রুফ রিডিং করা। তখন সুপারম্যান বার হয়ে গেছে। হ্যারিকেন চরিত্রটি খুব জনপ্রিয়। সে খুব জোরে দৌড়তে পারতো। ছেলেটা তখন ভাবলো তাইতো! যদি এমন একটা চরিত্র সৃষ্টি করা যেত যে দেওয়ালেও হাঁটতে পারতো !

সুযোগও পেয়ে গেল একদিন। সেখান থেকে দুজনের কাজ চলে যাওয়ায় মার্টিনের সহযোগী হওয়ার সুযোগ পেলেন ৷ তখন ক্যাপ্টেন আমেরিকা বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে টাইমলি। কিন্তু ছেলেটার ইচ্ছা ছিল কপি না করে নিজের মত কাজ করা ৷ বউকে এসে বললো চাকরি ছেড়ে দিতে চায়। বউ যুক্তি দিল চাকরি যখন ছাড়বেই তাহলে নিজের মত কাজ কর। বড় জোর তোমাকে তাড়িয়ে দেবে। তুমি তো তাইই চাও।

জেদ করে বানিয়েই ফেললেন স্পাইডারম্যান। ১৯৬১তে ডিসির জাস্টিস লিগ তুমুল জনপ্রিয়তা পেল। সে বানালো ‘এক্স মেন‘ । তারপর ইতিহাস। পর পর হাল্ক, ডঃ স্ট্রেঞ্জ, আয়রন ম্যানের মত ইউনিক চরিত্রগুলি এল। টাইমলির নাম হয়ে গেল ‘মার্ভেল‘। একাই পালটে দিলেন কোম্পানিটিকে। ছেলেটা আর কেউ নন বিখ্যাত স্ট্যান লি। এই মুহুর্তে মার্ভেল হলিউডে কোটি কোটি ডলার কামাচ্ছে। অ্যাভেঞ্জারের সিরিজগুলি সর্বকালীন সেরা হিট সিনেমায় নাম লিখিয়েছে। মার্ভেলও তাঁকে ভোলেনি। প্রতিটা সিনেমায় মজার মজার ক্যামিওতে স্ট্যান লিকে রাখা হত। বিখ্যাত সব চরিত্রগুলোর পিতার উপস্থিতি থাকতো। তিনি সবসময় সৌভাগ্যকে বিশ্বাস করতেন। ডিজনীর পর সবথেকে জনপ্রিয় মানুষটি চিরকাল বাচ্চাদের মতই উচ্ছ্বল ছিলেন। মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন পৃথিবীতে একটা সুপারহিরো থাকার দরকার। বাস্তবে না হলেও দিয়ে গেছেন কল্পনায়৷ ৯৫ বছর বয়সে গতকাল কার্লিফোর্নিয়ায় অগনিত ভক্তকে কাঁদিয়ে মৃত্যুবরণ করেন স্ট্যান লি।

Written By – শোভন নস্কর