মৃণাল সেন স্মৃতিতর্পণ !

মৃণাল সেন স্মৃতিতর্পণ অনুষ্ঠান হয়ে গেল গোর্কি সদনে গত শনিবার। এক অনবদ্য স্মৃতি তর্পণ অনুষ্ঠান করলেন মৃণাল পুত্র শ্রী কুণাল সেন,পুত্রবধূ নিশা সেনগৌতম ঘোষ – অঞ্জন দত্ত দের উদ্যোগে। অনুষ্ঠানের সূত্রধর ছিলেন অঞ্জন দত্ত। অঞ্জন দত্ত তাঁর গানে সিনেমার ক্লিপিংসে শ্রদ্ধা জানালেন পিতৃসম পরিচালককে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক তরুন মজুমদার। তিনি বললেন এখন স্টুডিও পাড়ার অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। তখন মৃণাল বাবু, সত্যজিৎ বাবু, তপন বাবু, অজয় কর, অসিত সেন রা স্টুডিও আলো করে থাকতেন। সেখানে আমি নিতান্তই এক ক্ষুদ্র ঘোরাফেরা করতাম ওঁদের সঙ্গে। মূলধারার ছবি আর শৈল্পিক প্রতিবাদের ছবি নিয়ে কি তর্কটাই না হত তাঁর সঙ্গে মৃণাল সেনের। মৃণাল বাবু আমাকে বলতেন “আপনি মশাই ছবিটা করতে জানেন কিন্তু ছবির মাধ্যমে কি বলতে হবে জানেননা। ” তরুন বাবু বলতেন মৃণাল সেনকে ” আপনি কি বলতে হবে জানেন কিন্তু কেমন করে বলতে হবে জানতেন নাহ। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ দর্শকের কাছে ভালো লাগেনা আপনার ছবি। ” মৃণাল সেন হাসতেন। কিন্তু বানিজ্যকরণ করতে ওনার কঠিন বক্তব্য থেকে ছবি বানানোতে সরেননি। সেই লোকটির নাম মৃণাল সেন।

মৃণাল সেনমাধবী মুখার্জ্জী বাইশে শ্রাবণের মাধুরী থেকে মাধবী হবার গল্প। মৃণাল সেন যে কত রসিক লোক ছিলেন সে কথা বললেন। কিন্তু ওনার ছবিগুলো হাসির নয়। মাধবী বলতেন মৃণাল বাবু কে “আপনি এত রসিক লোক কিন্তু হাসির ছবি বানান নাহ কেন?”

শ্রীলা মজুমদার বললেন ” আকালের সন্ধানে র গল্প। “

অনীক দত্ত বললেন “মৃণাল সেনের তাঁর দেখা ‘প্রথম ছবি ইচ্ছেপূরণ’। অনেকেই জানেন নাহ এই ছোটোদের ছবি মৃণাল সেনের বানানো।
‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ মৃণাল সেন হলে টিকিট কেটে দেখেন।

পুত্র কুণাল সেন বললেন তাঁর কাছে বাবা মানে বন্ধু। বন্ধু বলেই ডাকতেন বাবা কে। সেই নিয়ে নানা মজার গল্প। ছোটোবেলার গল্প। যা একদমই অজানা ছিল এতদিন।

পুত্রবধূ নিশা সেন বললেন মৃণাল সেন গীতা সেন তাঁকে যে শাড়ী উপহার দিতেন সেই নিয়ে মজার গল্প। বউমা কে দিয়েই নতুন নিজের শাড়ী ভাঙাতেন পরিয়ে গীতা সেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নৃপেন গঙ্গোপাধ্যায় কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, নীল দত্ত, ওম পুরী জায়া ইনা পুরী প্রমূখ খ্যাতনামা। সঙ্গে প্রদর্শিত হল গোর্কি সদনে মৃণাল সেনের তথ্যচিত্র।

পদাতিক কিন্তু থামবেন নাহ তাঁর চলচ্চিত্র দিয়েই আজীবন রয়ে যাবেন। প্রণাম।