“মা-বাবা কে না জানিয়ে পুরো সিনেমাটা করি!”- মৌলিকা সাজোয়াল।

Moulika

স্থান- যাদবপুরের বিখ্যাত “কাফে কবীরা”, সময় ঐ সন্ধ্যে নাগাদ, সারাদিনের ভ্যাপসা গরমের পর মৃদুমন্দ বাতাসে পরিবেশটা বেশ উপভোগ্য! সান্ধ্যকালীন আড্ডার এরকম সুযোগ কোন বাঙালীই সহজে ছাড়ে না! সেখানে আজকের এডিটরস চয়েসে আড্ডা দিতে এলেন “ডি মেজর”র নায়িকা মৌলিকা সাজোয়াল। ট্রেলার রিলিজের পর বেশ কিছুদিন আগে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রথম অভিনয়ের জন্য কুর্নিশ পাওয়া শুরু এই নায়িকার। তারপর কেটে গেছে অনেকটা দিন! ঝাড়গ্রাম থেকে যাদবপুরে এসে বাংলা নিয়ে পড়াশুনো করা এই অভিনেত্রী কি করছেন এখন? কাফে কবীরার দোতলায় ব্ল্যাককফি হাতে একদম বৈঠকি আড্ডায় চরিত্রের মতই বোল্ড নায়িকা……

ব্ল্যাক কফি! জমিয়ে ডায়েটিং করছো মনে হচ্ছে…

মৌলিকা- না না… একদম না! আমি ডায়েট করি না, যখন যেটা মন চায় খাই। এমনিতে দুধ কফিই খাই কিন্তু আজ মনে হোল ব্ল্যাকটাই খাই!

অভিনয়ে আসা কিভাবে?

মৌলিকা- অভিনয়ের টান আমার ছোট থেকেই আছে আমি আবৃত্তি করতাম, তার পাশে গান, আঁকা, ছোটখাটো নাটকও করতাম, আমার বাড়ি থেকে কোন ঘাটতি রাখে নি এই ব্যাপারে, মা-বাবাও ভীষণ সাংস্কৃতিমনস্ক মানুষ, আমার বোনও আঁকাতে সম্প্রতি জাপানে পেয়েছে সেরার সম্মান! প্রথমে ভেবেছিলাম গান নিয়ে থাকব সেই সময় মা’র মাধ্যমেই পরিচয় হয় গোরাদা’র সাথে, ওনার একটি নাটকের দল আছে আজ সেটা তিন বছর হয়ে গেলো, ওনার হাত ধরেই অভিনয়ে আসা।

সিগারেটের গন্ধ সহ্য হয় না! এই কমন ফ্যাক্টরটা ছাড়া তোমার আর শমিক রায় চৌধুরী’র কি কানেকশন ছিল “ডি মেজর”এ …

মৌলিকা- (হাসি)…আমি ভাবিই নি কোনদিন ফিল্ম করবো! ঐ দলে(ভান থিয়েটার) শমিকদাও অভিনয় করতো তো সেই সূত্রে আলাপ আর এই সিনেমায় অভিনয় করার পেছনে ছিল পুরোপুরি শমিকদার ইন্সপিরেশন!

“ডি মেজর”এ তোমার অভিনয় বেশ প্রশংসিত, তারপর কোন পরিচালক-প্রোডিউসারের ফোন পেয়েছ?

মৌলিকা- নাহ! সেই অর্থে পাই নি, আসলে সিনেমাটার প্রচার সেই ভাবে হয় নি…

এটার জন্য দায়ী কে?

মৌলিকা- এটার জন্য দায়ী…(একটু ভেবে)…টাকা ছাড়া তো কিছুই হয় না! টাকাই দায়ী (হাসি)

তার মানে ঘুরিয়ে প্রোডিউসারকে বলছো?

মৌলিকা- নাহ! একদম না(এক নিঃশ্বাসে) … সেটা কোনভাবে হয়ে ওঠে নি, লাকও একটা ফ্যাক্টর !

এই মুহূর্তে কি কাজ করছো?

মৌলিকা- একটা শর্ট ফিল্ম করলাম গৌরব দত্তের, সেরকম ফিচার ফিল্মের জন্য কোন প্রস্তাব আসে নি তবে বাংলাদেশি পরিচালক হাসিবুর রেজা কল্লোল যোগাযোগ করেছিলেন ওনার সিনেমার জন্য কিন্তু এখনো ফাইনাল কিছু হয় নি।

নাটক থেকে বড়পর্দায় এলে, দুটোতে অভিনয় ধরন বেশ আলাদা…নিজেকে ট্র্যান্সফর্ম করলে কিভাবে?

মৌলিকা- এই ব্যাপারে যিনি আমাকে প্রথম কাজে নিয়েছেন, শমিক রায় চৌধুরী , তিনি অসম্ভব হেল্প করেছেন, প্রথম দিন বলে দিয়েছিলো ক্যামেরার সামনে সবকিছুই বড় করে দেখায় তাই টোন ডাউন করতে হয়, বাকি খুঁটিনাটি সব শমিকদা দেখিয়ে দিয়েছিল!

নিজে এমফিল করছো, তার পাশে অভিনয় এই দুটো ব্যালান্স করে চলতে অসুবিধে হয় না?

মৌলিকা- না! আমি তো বাংলা নিয়ে পড়াশুনো করছি আর সাহিত্য থেকে সংস্কৃতিকে কখনো আলাদা করা যায় না, আমি কোনদিন ফার্স্ট হই নি, হতেও চাই না তাই ঐ মার্কসের ইঁদুর দৌড়ে নেই তাও সৌভাগ্যক্রমে আমার গ্র্যাজুয়েশন ও মাস্টার্সে ভালো পার্সেন্টেজ ছিল!

তাও কতো?

মৌলিকা- এটাও বলতে হবে? (হাসি)… ৭২.৮% গ্র্যাজুয়েশনে আর ৭৩.৮% মাস্টার্সে !

কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তোমার অভিনয় বেশ প্রশংসা পেয়েছে এমনকি পরিচালকেরও একই মত আর এদিকে তুমি বলছো সব কিছু শিখিয়ে দিয়েছেন পরিচালক! আসল ব্যাপারটা কি?

মৌলিকা- (হাসি) সেটা শমিকদার বিনয় বলা যেতে পারে! আমি তো প্রত্যেক শটের আগে জিজ্ঞেস করতাম ডানদিকে বসবো না বামদিকে, শমিকদা সত্যি ধরে ধরে সব কিছু শিখিয়ে দিয়েছেন আর গোরাদাও আসত মাঝে মাঝে, অনেক কিছু টুকটাক ব্যাপার বলে দিয়েছেন তারপর আমিও চেষ্টা করেছি নিজের মত করে চরিত্রটা করার!

সিরিয়ালের অফার আসলে করবে?

মৌলিকা- জানি না! সেটা ডিপেন্ড করবে! আমি যে কাজগুলো করছি সেটা মানুষের কাছে যাচ্ছে না, আমার একটা মাধ্যম দরকার আমি বেসিক্যালি কাজ করতে চাই, যেভাবে হোক কাজের মধ্যে থাকতে চাই…

কি মনে হচ্ছে মেন স্ট্রিম পরিচালকদের কাছে পৌঁছানোটা বেশ কঠিন?

মৌলিকা- (কফির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে) আমার পক্ষে বড্ড বেশি কঠিন মনে হচ্ছে, আমি জানি না কেন সেই অর্থে যোগাযোগগুলো হয়ে উঠছে না !

“ডি মেজর”এ  তোমার বোল্ড ক্যারেক্টার দেখে বাড়িতে রিয়্যাকশেন কি ছিল?

মৌলিকা- আমার বাড়ি থেকে কোনদিনই কোন বাধা ছিল না তবে মা-বাবা সিনেমা করার কথা শুনে প্রথমে বলেছিল সামনে সেমিস্টার (হাসি)! যা হয় মধ্যবিত্ত পরিবারে তো আমি শমিকদা কে বলেছিলাম যে, মা-বাবা কে জানানো যাবে না তখন উনি বলেন যে ,”তুই অ্যাডাল্ট, যদি তুই করতে চাস না জানিয়ে, তো কর, আমার কোন আপত্তি নেই”। প্রথমে মা-বাবা কে না জানিয়ে পুরো সিনেমাটা করি! (হাসি) তারপর ফেসবুকে যখন সিনেমা নিয়ে বিভিন্ন পোস্টার, প্রশংসা সামনে আসে তখন জানতে পারে! মা ফেসবুকে ভীষণ অ্যাকটিভ, ট্রেলার দেখে দুজনেই ভীষণ খুশি হয়েছে যেটা খুবই অপ্রত্যাশিত ছিল আমার কাছে , তবে প্রায়ই বাবা ফোন করে জিজ্ঞেস করে ,”সিনেমাটা কবে রিলিজ করবে?”

জীবনের প্রথম চরিত্র এতো বোল্ড, ড্রাগ এডিক্ট একটা মেয়ে, কেরিয়ারের শুরুতে এটা রিস্ক ছিল না?

মৌলিকা- যখন সিনেমাটা করছিলাম তখন সেই অর্থে ভাবি নি যে অভিনয়টা সিরিয়াসলি করবো তাই সেভাবে কিছু ভাবিই নি এবিষয়ে।

প্রেম করছো ?

মৌলিকা- এবাবা…( হাসি) … হ্যাঁ!

উঠতি নায়িকারা প্রেমের ব্যাপারে প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি করছে ! সচরাচর পাওয়া যায় না…

মৌলিকা- আমি প্রেমের ব্যাপারে ভীষণ সিরিয়াস! আমি এটাই বলবো, (এক চুমুকে কফিটা শেষ করে) এই প্রশ্নটা করার কিছুই নেই কারন প্রত্যেকেই প্রেম করে কিন্তু কেউ স্বীকার করে না এবার তুমি বুঝে নাও আমার  উত্তরটা! (হাসি)

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।