মনোজ বাজপেয়ী – এক উত্তরনের গল্প

মনোজ

বিহারের দরিদ্র পরিবারের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিল ছেলেটি। বাবা মনোজকুমারের ভক্ত ছিলেন তাই ছেলের নাম রাখেন মনোজ। বাবার সাথে স্কুলে থেকে ফিরে চাষাবাদ করতেন মনোজ৷ পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ার সময় গ্রামে এক যাত্রাদল আসে৷ সেটা দেখেই অভিনয়ের ভুত চাপে। যাত্রা করতে বেরিয়ে যেতেন নানা জায়গায়।

দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় একবার নাসিরুদ্দিন শাহের সাক্ষাৎ পান। নাসিরকে নকল করে অভিনয় করে দেখান মনোজ। নাসির মুগ্ধ হয়ে যান। এরপর তিনি ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার জন্য পরীক্ষা দেন কিন্তু চার চারবার ব্যর্থ হন লিখিত পরীক্ষায়। প্রচন্ড হতাশায় ডুবে আত্মহত্যারও সিন্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। এইসময় অভিনেতা রঘুবীর তার পাশে দাড়ান এবং ব্রিটিশ মঞ্চ পরিচালক জন ব্যারীর সাথে কাজ করতে পরামর্শ দেন। বাগদাদ গোলাম নামক নাটকে জন তাকে একটি চরিত্রে সুযোগ দেন। এবং তাতেই মাত করে দেন মনোজ ৷ পারিশ্রমিক হিসাবে পেতেন ১২০০টাকা।

এরপর ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা তাকে ছাত্র হিসাবে না , শিক্ষক হিসাবে গ্রহন করে। জন ব্যারীর সহায়তায় নিজের ইংলিশও শুধরে নেন মনোজ। ১৯৯৪তে গোবিন্দ নিলহানির ‘দ্রোহকাল’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন৷ ওইবছরই ব্যান্ডিট কুইনে মান সিং চরিত্রটি বেশ আলোচিত হয়৷ তবে মনোজ প্রচারের আলোয় আসেন ১৯৯৭ তে সত্যা সিনেমায় ভিখু মাত্রের চরিত্রে অভিনয় করে। এরপর আর তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি৷ কৌন, শূল, রাজনীতি থেকে গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর সিনেমায় নিজের নাম ছড়িয়েছেন। এই মুহুর্তে তার ঝুলিতে রয়েছে ২টি জাতীয় পুরষ্কার এবং চারটি ফিল্মফেয়ার। খারাপ সময়ে তার প্রথম স্ত্রী ছেড়ে চলে যান৷ কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। ‘আলিগড়’ এ অভিনয়ের জন্য ২০১৭ তে এশিয়ান স্পেসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। বহু বড় বাজেটের সিনেমা তিনি ফিরিয়ে দেন হাতে কম বাজেটের ভালো সিনেমা পেলে৷ বহু সিনেমাতে তিনি বিনা পারিশ্রমিকেও কাজ করেছেন এই মহান অভিনেতা।