১৫ বছর আগের খুশি থাকার এই মন্ত্রে লুকিয়ে ছিল অনেক অজানা গল্প !

হাসি, আনন্দ আর অনেকটা চোখের জল ধোয়া স্মৃতি নিয়ে, আগামীকাল থাকুক বা না থাকুক, কাল হো না হো, বলিউডের মুভি হিস্ট্রিতে চিরকাল সোনায় মোড়ানো খামে থেকে যাবে! পনেরোটা বছর পার হয়ে গেল, করণ জোহরের লেখা চীরনতুন এই ছবি আজো দর্শকের পছন্দের তালিকাতে প্রথম সারিতে! কাল হো না হো নিয়ে নস্টালজিক করণ জোহর সোশ্যাল মিডিয়াতে পরিচালক নিখিল আডবাণীকে ধন্যবাদ দিলেন; শাহরুখ খান, প্রিটি জিন্টা, শৈফ আলি খান, জয়া বচ্চন সকলের জন্য অনেকখানি ভালোবাসা রাখলেন….

জশ জোহরকফি উইথ করণ টক শো তে উঠে এল এই ছবি সংক্রান্ত রেট্রোস্পেটিভ ভিডিও….বাবা জশ জোহরের শেষ প্রডিউসড এই ছবির কথায় কথায় চোখ ভরে এল তার….এসব ছিল কাল হো না হো নির্মাতার নিজের ভাবনার, আবেগের অনেকটা বের হয়ে আসা; কিন্তু যদি সে সব ছাড়িয়ে একটু দর্শক আসনের দিকে তাকাই, তবে কী দেখব আমরা? কেমন করে তৈরী হয়েছিল ছবি? কেমন করেই বা অনেক গুলো ক্যানসেলেশন পেরিয়ে নিখিল-করণ পেরেছিলেন আমাদের সকলের ভীষণ আদরের এই ছবিটা তৈরী করতে? অজানা কিছু তথ্য যা জানলে বেশ অবাক হতে হয়!

শাহরুখ খান করণ জোহরশাহরুখ খানের অসাধারণ অভিনয় ছাড়াও, কাল হো না হো যদি সব চেয়ে বেশী কিছু দিয়ে থাকে তবে সেটা এই ছবির এভারগ্রিন টাইটেল ট্র্যাক। শঙ্কর-আহসান-লয়-এর যে হৃদয় ছোঁয়া কম্পোজিশন। সনু নিগম একবার একটি অ্যাওয়ার্ড সেরিমনিতে বলেছিলেন, তার আর কোনো গান যদি শ্রোতারা মনে নাও রাখে, তিনি জানেন, এই একটি গান তিনি যেদিন পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন, সারা দেশ জুড়ে বাজবে! কথাটা নেহাত বাড়াবাড়ি নয়! ভীষণভাবে আপন করে পাওয়া এই গান ছাড়াও পাওনা ছিল শৈফ-এর অভিনয়! শৈফ-এর কেরিয়ারের গাড়িতে যে অনেকটা ফুয়েল ঢেলেছে কাল হো না হো তা অস্বীকার করা যায় না কিছুতেই।

শৈফ আলি খান করণ জোহরপ্রথমে সলমন খান, তারপর অভিষেক, তারোপর বিবেক ওবেরয় সকলে হেলায় রিফিউজ করেছিলেন এই চরিত্র! আর সেই চরিত্র দিয়েই শৈফ কে অভিনেতা হিসেবে নতুন করে পাওয়া; ভাবলে বেশ অবাক লাগে, তাই না? আর নবাব সাহেবের কথা যখন হচ্ছেই, তখন বেগম করিনা বাদ থাকেন কী করে! এমনিতেই তিনি স্টার মেকার হিসেবে বলিউডে বেশ কুখ্যাত! হাম দিল দে চুকে সনম হোক বা কাহো না পেয়ার হ্যা, এমনকী কাল হো না হো, পরিচালক দের প্রথম পছন্দ কিন্তু ছিলেন তিনিই! প্রিটি জিন্টাপ্রিটীর ফ্যানরা নিশ্চিত নিশ্বাস চেপে ভাবতে বসবেন, ভাগ্যিস করিনা নানান নকরাতে ছবিটা করেন নি, নয় তো চশমা পড়েও যে বলিউডে একটা ফ্যাশন ট্রেন্ড সেট করতে পারেন ডিম্পল গার্ল প্রিটী এ দেখার সুখ হাত ফসকে যেত! ছবির আর এক পাওনা জেনি, মনে পড়ে জয়া বচ্চনের সেই ভীষণ গভীর অ্যাওয়ার্ড উইনিং সাপোর্টিং পারফরমেন্স? জয়া বচ্চন ছাড়া যেন কাল হো না হো ভাবাই যায় না! কিন্তু প্রথমে মোটেই তাকে ভাবেন নি, নির্মাতারা, ভেবেছিলেন নিতু সিং কে, জয়া বচ্চন ছাড়া যে কেমন হতো জেনির চরিত্রায়ন, সে কথা বোধ হয় না ভাবাই ভালো! ছবির বাজেট নিয়েও যথেষ্ট টানাটানি ছিল, টরেন্টো ছেড়ে নিউ ইয়র্কে শ্যুট করতে হয় কাল হো না হো। ভাবলে মনে হয়, এই যেন ভালো হয়েছে। কত ভালোবাসা জড়িয়ে ছিল ছবি জুড়ে।

সঞ্জয় কাপুর, সোনালী, রানী, কাজলআর ছিল মিষ্টি কিছু গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স, সঞ্জয় কাপুর, রানি মুখার্জী, কাজল বা রেস্তোরাতে কাস্টোমারের চরিত্রে ফারহা খান, এক্স ফ্যাক্টর যোগ করে দেয় যেন গোটা ছবি জুড়ে। একটি ক্যামিও ভোলা যায় না কথায় কথায়। ক্যানসার জর্জরিত শাহরুখের ডাক্তার প্রিয়ার চরিত্রে সোনালী বৃন্দের চরিত্র। আজ দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত সোনালী, তার কানে কানে আজো কী কেউ বলে,’ জিও, হাসো, মুসকুরাও, ক্যায়া পাতা, কাল হো না হো!’

রিমা লাগু, দারা সিং, লিলিট দ্যুবে, ডেলনাজ হুসেনছেড়ে যাওয়া অভিনেত্রী রিমা লাগু, শ্রদ্ধেয় দারা সিং, মিষ্টি সাইডকিক লিলিট দ্যুবে বা ডেলনাজ হুসেন, সব মিলিয়ে কাল হো না হো আজো মনের অনেক কাছের এক সৃষ্টি! যুগের থেকে অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখানো, নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির মধ্যেও এক অদ্ভুত মায়ার বাঁধনে জরানো, ভালোবাসার এক অন্য মানে তৈরী করা সময়ের স্রোতে জয়ী এক ছবি কাল হো না হো। অনেক সমস্যার মধ্যে জড়িয়ে থাকা মানূষকে আজো চুপি চুপি বলে যায়,’ এমন অনেক পনেরো বছর কেটে যাবে, শুধু জেনো, যতই দুঃখ আসুক, জীবন বড় সুন্দর, হাসো…খুশি থাকো, আগামীকাল আর আসবে কিনা কেই বা জানে!