সুপারস্টার নয় অভিনেতা জিৎ এর খোঁজে !

দর্শক

টালিগঞ্জের সুপারস্টার জিৎ  বললেই প্রথমে বেশ একটা চেনা ছবি মাথায় আসে। গুন্ডা পেটানো, গ্যাংস্টার বাবার মেয়েদের সঙ্গে জমাটি প্রেম, জিতের সিনেমা মানেই বেশ চটকদার তিন চারটে গান, আর সব শেষে বেশ সরল সাদাসিধে একটা হ্যাপি এন্ডিং! জিৎ বললে এই একটা বিষয়ে সবাই বেশ এক কথায় থিতু হয়ে যাবে! আমরা তখন ভুলে যাই, বেশ অনেকগুলো দিন আগে যখন জিৎ সুপারস্টার ইন মেকিং, তখন তার ঝুলিতে একটা পিতৃভূমি বা কৃষ্ণকান্তের উইলের মতো ছবিও ছিল! বেশ অনেকটা সময় পেরিয়ে এসে যখন টালি পাড়ায় তার ভিত বেশ পাকাপোক্ত, একটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার-এর মতো ছবিও এসেছিল; তবু জিৎ বললেই কেমন যেন ভীষণ মেনস্ট্রিম কমার্শিয়াল অ্যাংড়ি হিরোইজম ছাড়া কিছুই মাথায় আসে না। দশ বারো বছর ধরে এক রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়া এক্সপিরিমেন্টাল কাজ সে ভাবে করেন নি তিনি। মূলধারার বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করতে করতে, নিজের এমন একটা ইমেজ তৈরী করে ফেলেছেন, একটু সিরিয়াস দর্শক বোধহয় তাকে অন্য চরিত্রে ভাবতেও পারবেন না। এই রকম কমার্শিয়াল ছবি করার একটা সুবিধা আছে, প্রথমত ছবির ফ্লপ করার সম্ভাবনা থাকে বেশ কম, আর দ্বিতীয়ত একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ দর্শকের কাছে হার্ট থ্রব হওয়া যায় বেশ সহজে। তবে বোধহয় তাতে শিল্পীর যে ব্যক্তিগত শিল্পীসত্ত্বা তার সন্তুষ্টি হয় না কিছুতেই! জিত বাঘ বন্দি খেলাজিৎ যে সেদিক থেকে ভীষণ ব্যতিক্রম কিছু না, তার প্রমাণ তিনি করে চলেছেন বেশ কিছু ছবির হাত ধরে! বদলটা শুরু হয়েছিল বাঘ বন্দি খেলার হাত ধরে, সাধারণত আওয়ারা, হানড্রেড পার্সেন্ট লাভ বা এই ধাঁচের অসংখ্য ছবিতে জিত কে যে ভাবে দর্শক পেয়ে এসেছে, তার থেকে বাঘ বন্দি খেলা ছবিতে তার চরিত্রটা ছিল বেশ কিছুটা আলাদা। তবে কোথাও গিয়ে যেন বিরাট বড় একটা চেঞ্জ দরকার ছিল। অন্য ধারার ছবিতেও যে জিৎ সমান সাবলীল, সেটা দর্শক এবং তথাকথিত নাকউঁচু ডিরেক্টরদের কাছে প্রমাণ করে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, আর নিজেকে একেবারে ভেঙে ফেলে মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল সুপারস্টার নয় অভিনেতা জিৎ কে। জিত বাচ্চা শ্বশুরদায়িত্বটা খানিকটা নিজের কাঁধেই নিয়ে নিলেন সুপারস্টার। তার নিজের প্রোডাকশন আর সুরিন্দর ফিল্মস এর গাঁটছড়া বাঁধিয়ে বাচ্চা শ্বশুর ছবির কাজ শুরু করাটা বোধহয় অনেকটাই সেই চেষ্টার বহিঃপ্রকাশ। ছবির ট্রেলর রিলিজ করে গেছে। ট্রেলার দেখে যে টুকু বোঝা যায়, তাতে এটুকু নিশ্চিত, একেবারে মেনস্ট্রিম জিত ঘরানার ছবির তুলনায় এই ছবি অনেকটাই আলাদা! ডার্ক হিউমারের মোড়কে দেখা মিলবে এক নতুন অভিনেতা জিতের। ছবিতে চিরঞ্জীত চক্রবর্তীর প্রেজেন্স বেশ বড় রকমের একটা চমক বলা যায়। বাঙলার দুই দিকপাল নায়কের যুগলবন্দি দেখতে কার না ভালো লাগে। ছবির পরিচালনায় বিশ্বরূপ বিশ্বাস, আর গল্পে, চিত্রনাট্যে এবং ডায়লগে পাভেল! এইবার একটু ভরসা করা যাচ্ছে যেন! রসগোল্লার হ্যাঙ্গ ওভার কাটতে না কাটতেই পাভেলকে আবার পাওয়া ছবির ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যেন। ছবির ট্রেলর, ছবির বিষয়বস্তু জিৎ এর কমার্শিয়াল ছবি গুলোর থেকে বেশ আলাদা। নিজেকে প্রমাণ করার এক লড়াইয়ে নেমেছেন যেন সুপারস্টার। এর পরিণাম কী হবে তা রিলিজ ডেট বলতে পারে কেবল। কেবল এই রকমের প্রচেষ্টার জন্য অভিনেতা জিৎ এর প্রতি সম্মান বেশ বেড়ে যায়। নিজের শিল্পীসত্ত্বার স্যাটিসফ্যাকশনের জন্য তার এই প্রচেষ্টা, তার এই লড়াই-এ তাকে একান্ত অভিবাদন জানাই।