নট শো টাফ গাই, টাফির গল্প !

টাফি র গল্প !

সালটা উনিশশো পঁচানব্বই। রুপোলি পর্দা কাঁপিয়ে দর্শকের মনে চিরকালের জন্য জায়গা করে নিয়েছিল পরিচালক সুরজ ব্রজতার ছবি হাম আপ কে হ্যয় কন! সলমন খান তখনও সুপারস্টার নন। মাধুরী যদিও ততদিনে বলিউডের ধক্ ধক্ গার্ল হয়েই গিয়েছেন। এই ছবি যেন দুজনের কেরিয়ারের গাড়িতে বেশ অনেকটা জ্বালানি যুগিয়েছিল। তাদের অভিনিত প্রেম-নিশার জুটিকে আজো ভুলতে পারে নি দর্শক! আর এই সিনেমাই বলিউড পিপাসু দর্শকের কাছে উপহার দিয়েছিল আর এক প্রিয় চরিত্র, টাফি! প্রিয় চরিত্র, টাফি!মনে পরে সেই ধবধবে সাদা স্পিচ কুকুরটিকে! টাফি যদি না থাকত, হাম আপকে হ্য কন যে কীভাবে শেষ হতো তা বলা কঠিন। আজকের হিন্দি ছবির নিরিখে যদি বিচার করতে হয়, তবে মাধুরী-সলমন জুটির প্রেমটুকু ছাড়া, এবং টাফির দুষ্টু-মিষ্টি প্রেজেন্স ছাড়া ছবিটি বোধহয় নেহাত সুখকর লাগবে না দেখতে! সুরজ ব্রজতার ছবির একটা বাঁধা গত আছে। ছবি একান্নবর্তী ধনী পরিবারের গল্প দিয়ে শুরু হয়, মাঝে ছোটবড় সমস্যা আসে, এবং সব শেষে সকলে সমস্যা থেকে বেরিয়ে সুখে থাকে! হাম আপকে হ্য কন বোধহয় এর বাইরে গিয়ে কিছু নতুন বলে না!

টাফিকিন্তু টাফির চরিত্রে থাকা এই রেডো নামের সাদা কুকুরটি বোধহয় ছবিটিতে একটা অন্য মাত্রা যোগ করেছিল। ছবির শুটিং-এ মাধুরীর সঙ্গে এতই ভালো সম্পর্ক তৈরী হয় তার, যে ছবির পর মাধুরী তাকে দত্তক নিয়ে নেন! নিশা আর টাফি যে বাকি পথটাও একসঙ্গে ছিল ভাবলে চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে, তাই না! আর টাফির মতো কুকুরকে কেই বা না ভালোবেসে থাকতে পারে বলুন! মাধুরীর মন জয় করা ছিল তার বাঁয় হাত কা খেল!
টাফি কুকুরনব্বই এর দশকে ফেসবুক-ইন্সাগ্রাম, বা প্যাপারাৎজির এত রমরমা ছিল না! ইন্টারনেটের যুগ তখনো রাজত্ব দখলের লড়াইয়ে মেতে, আজকের দিনে হলে যে, ফোলা ফোলা সাদা লোমের রেডো, উরফে টাফি যে সোশাল মিডিয়া দাপিয়ে বেড়াতো, সে কথা বলার অপেক্ষা থাকে না!