এডিটরস চয়েসঃ কলকাতার সকালের ক্যানভাসে সুর দিলো “হচ্ছে সকাল”!

আমাদের এই প্রিয় শহরের সকালের টিউনটা সেট করে নিতেই পারেন এই গানের সুরে তাই এই সপ্তাহের এডিটরস চয়েসে আমরা নিয়ে এসেছি সৌমিক দাসের লেখা ও সুরে অসাধারন গান "হচ্ছে সকাল"!

কলকাতার সকালের রোজনামচাকে কথা ও সুর দিয়ে ধরা মোটেই সহজ কাজ নয়! আমাদের এই প্রিয় শহরের সকালের টিউনটা সেট করে নিতেই পারেন এই গানের সুরে তাই এই সপ্তাহের এডিটরস চয়েসে আমরা নিয়ে এসেছি সৌমিক দাসের লেখা ও সুরে অসাধারন গান “হচ্ছে সকাল”! এই গানের সাথে যুক্ত তিনটে বেশ ভারী নাম প্রথম তমাল কান্তি হালদার, এঁর গানের অনুরাগীর লিস্টটা অনেক বড়, দ্বিতীয় সৌমিক দাস,  এই মুহূর্তে টেকনো ইন্ডিয়া কলেজে করছেন শিক্ষকতা, তার পাশে নিজের গানে তৈরি করে ফেলেছেন ইয়ং জেনারেশনের মধ্যে অনেক অন্ধভক্ত আর আরেকজন যার কোন ভুমিকার প্রয়োজন নেই, তিনি তিমির বিশ্বাস! এই গানের প্রসঙ্গে গায়ক বিশ্বাস কথা বললেন আমাদের সাথে…

Tamal Kanti Halder and Soumik Das

সৌমিকবাবুর সাথে পরিচয় হোল কিভাবে? আর যখন গানটা প্রথম শুনলে কি ছিল তোমার প্রথম রিয়াকশেন?

তিমির- সৌমিকদার সাথে আমার পরিচয় কলেজের সময় থেকে, আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। সেইসময় আসানসোলের প্রথমদিকে সৌমিকদাই একটা ব্যান্ড তৈরি করেছিল “স্পর্শক”! আমরা তখন রীতিমত “স্পর্শক” ও সৌমিকদা ওরফে জ্ঞানা’দার ভক্ত ছিলাম! তারপর প্রায় ১০-১২ বছর পর জ্ঞানা’দার সাথে আবার দেখা, তখন আমি অনেকটা এগিয়ে গেছি মিউজিকে এবং জ্ঞানা’দাও নিজের মত করে মিউজিকটা নিয়ে গেছেন অন্য পর্যায়ে, তো তখন আমি বলেছিলাম “তোমার লেখাতে আমি গাইতে চাই” কারন আমি অনেকদিন আগে থেকেই জ্ঞানা’দার ফ্যান ছিলাম! তারপর জ্ঞানা’দা আমাকে এই গানের থিমটা শোনায় এবং সেটা শুনে আবার ফ্যান হয়ে গেলাম(হাসি)! এটা আমার পছন্দের গানগুলোর মধ্যে একটা হয়ে থাকবে!

তোমার গলায় কলকাতার সকালের এতো বড় ক্যানভাসটা ধরার জন্য কোন আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছিলে?

তিমির- নাহ কোন আলাদা প্রস্তুতি নিইনি, যবে থেকে আমি আসানসোল নিজের বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় আসি তখন আমার এক বন্ধু সৌমিক ওরফে ফানি’দা আমাকে চেনায় কলকাতার রাত, মধ্যরাত, দুপুর, সকাল, স্ট্রিট ফুড আরও অনেককিছু, এককথায় কলকাতা চিনিয়েছিল! খুব ভালোবাসি এই শহরটাকে তাই আলাদা কিছু করতে হয় নি কারন গানটা গাওয়ার সময় চোখ বন্ধ করে আমি পুরো ভিজুয়্যালটা দেখতে পাচ্ছিলাম, আর সেটাই হয়েছে ভিডিওতে!

এতো সুন্দর লেখা ও সুরের গান, বাংলা সিনেমাতে ভীষণ অভাব! তুমি কি বলো?

তিমির- দেখো এই দুটো জিনিস এক করে দেওয়ার বিরোধী আমি! কারন এইসব গানের কোন সীমাবদ্ধতা থাকে না, স্বাধীন যেটা সিনেমাতে হওয়া সম্ভব না। সিনেমার বাইরেও যে একটা মিউজিক আছে সেই ধারনাটা তৈরি হওয়া খুব দরকার কারন এখনো সিনেমার মিউজিকটাই প্রধান করে দেখা হয়, এই জায়গায় আমার আপত্তি! আমরা যে গানগুলো শুনে বড় হয়েছি সেগুলো কিন্তু সব ইন্ডিপেন্ডেন্ট মিউজিক ছিল এখন আমাদের সেটা আলাদা করে তকমা লাগাতে হয়! এই গানগুলো এরকম স্বাধীন থাকাই দরকার!

তিমিরের এই কথার সুত্র ধরে বলা যায় এটা এখনো আমাদের দুর্ভাগ্য অনেকেই গান বলতে শুধু সিনেমার গানই বোঝেন কিন্তু তার বাইরে যে স্বাধীন গানের অসাধারন সম্ভার আছে সেটাও শোনার দরকার আছে আমাদের, বাংলা গানে অক্সিজেনের জোগান কিন্তু এইসবগানগুলোই দিয়ে যাচ্ছে বহু বছর ধরে! তাহলে দেরি না করে শুনে ফেলুন আমাদের এই সপ্তাহের এডিটরস চয়েস “হচ্ছে সকাল”, আর জানান আমাদের কেমন লাগলো চেনা কলকাতার সকালের সুরেলা ক্যানভাস!