গানের দুনিয়ার এক রাজপুত্রের গল্প !

শমা পড়া লাল চুলো ছেলেটা ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহন করে। ত্রুটিপূর্ণ সার্জারির কারণে চোখে সে কম দেখে, শীর্ণকায়, কথা বলতে বলতে জড়িয়ে আসে। ক্লাসে পারেনা কোন পড়ার উত্তর দিতে। অদ্ভুত এই ছেলেটাকে বন্ধুরা সবাই ক্ষেপাতো। ছোট থেকেই গান গাওয়ার শখ ছেলেটার কিন্তু কথা বলতে পারলে তো গান গাইবে! ভয়ে স্কুল যাওয়াই বন্ধ করে দিতে হল।

এড শিরান

বাবা স্পিচ থেরাপির সাহায্য নিলেন। কিন্তু কাজ হল না। শেষপর্যন্ত হোমিওপ্যাথির সাহায্যও নেওয়া হল। তাও একই থাকলো ছেলেটি৷ চার্চে গান গাওয়াটা সে খুব উপভোগ করতো কারণ গাইলে সে তোতলাতো না। জীবন ঘুরলো এমিনেমের ‘মার্শাল ম্যাথার্স এলপি’ অ্যালবামের গান শুনে। এত দ্রুত একজন মানুষ কিভাবে কথা বলে! মাত্র দশ বছর বয়সেই এমিনেমের সব গান তখন মুখস্ত। র‍্যাপ করতে করতে জড়তা কমে আসে।

সেই থেকে তিনি গান লেখা শুরু করেন। ২০০৫ এ তার প্রথম অ্যালবাম বার হয় দ্য অরেঞ্জ রুম। বয়স তখন ১৪। কোন প্রযোজনা ছাড়াই ২০০৬ এবং ২০০৭ এ অ্যালবাম বার করেন। কিন্তু পরিচিত হতে পারল না।

এড শিরান২০০৮ এ বয়স যখন আঠারো হল তখন কেরিয়ার বানাতে কিছু জামাকাপড় আর গীটার হাতে বেরিয়ে পড়লেন লন্ডনে। রেলস্টেশনে থেকেছেন। অনাহারে কেটেছে বহু রাত কিন্তু হাল ছাড়েননি। লন্ডনে শো হলে অনেকসময় পাঁচ ছজন হাজির থাকতো। ২০১০ এ ইউটিউবে ভিডিও দিতে শুরু করেন নিয়মিত। তার ফলে তার জনপ্রিয়তা একটু বাড়ে। ফক্স হোল ক্লাবে এক রেডিও চ্যানেলের ওপেনিং এর দিন ৮০০জন লোকের সামনে গান গাওয়া শুরু করেন। দর্শকাসনে ছিলেন বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা জেইমি ফক্স। ছেলেটার প্রতিভায় মুগ্ধ হয় ফক্স। তাকে থাকার জায়গা করে দেয় নিজের বাড়িতে। ছয় সপ্তাহ ধরে জেইমির বাড়িতে সোফায় ঘুমাতো।

এড শিরানছেলেটার ভাগ্য ক্রমশঃ ফিরতে থাকে। আইটিউন্সের টপ চার্টে উঠতে থাকে। টেইলার সুইফট, ওয়ান ডিরেকশনের সাথে কাজ করার সুযোগ পায়। ‘আই সি ফায়ার’ বলে একটা গান ব্যবহার হয় ‘দ্য হবিট’ সিনেমায়। ২০১৪ তে তার মাল্টিপ্লাই অ্যালবামটি ‘থিংকি আউট লাউড’ গানটির জন্য হাতিয়ে নেন গ্রামি।

এড শিরান২০১৭ তে বার হয় ‘ডিভাইড’ এবং পৃথিবী জুড়ে তুমুল উন্মাদনা শুরু হয়। পৃথিবীর কোণায় কোণায় তার ভক্ত বাড়তে শুরু করে। ঝুড়ি ঝুড়ি পুরস্কার সহ তার অ্যালবাম বিক্রি হয় দু কোটি ৬০ লক্ষ। এককভাবে গানটা বিক্রি হয় দশ কোটি। ছেলেটা কে দর্শক বুঝে গেছেন নিশ্চয়। তিনি আর কেউ নন ‘শেপ অফ ইউ’ খ্যাত এড শিরান। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিকে তিনি যেভাবে জয় করেছেন তা অনুপ্রেরণা দেয় সবাইকে।