ছায়াছবির ছয় নারী !

ছায়াছবির ছয় নারী !
“ দেবী প্রপন্ন-আর্তি-হরে প্রসীদ
প্রসীদ মাতঃ জগতঃ অখিলস্য।
প্রসীদ বিশ্বেশ্বরি পাহি বিশ্বং
ত্বম ঈশ্বরী দেবী চরাচরস্য।। ”

টালিগঞ্জ পাড়া যেমন টলিউড হয়েছে, বায়োস্কোপের নাম যেমন সিনেমা হয়েছে তেমনি বাংলা ছবিতেও নায়িকা দের পট পরিবর্তন হয়েছে। নটি বিনোদিনী, তিনকড়ি দাসী, কুসুমকুমারী, নরীসুন্দরী থেকে প্রভা দেবী, দেবিকা রাণী প্রমুখ আদি যুগের থিয়েটার বায়োস্কোপের নায়িকা থেকে প্রতি যুগেই এক একজন পরিপূর্ণ নায়িকাকে পেয়েছে বঙ্গজীবন। পরিপূর্ণ নায়িকা সেই যে বানিজ্যিক থেকে শৈল্পিক ছবি দুই ধারাতেই সফল। যে নায়িকারা নারীদের আদর্শ হয়ে উঠেছে। কারো স্টাইল,কারো অভিনয়,কারো প্রোডাকশান হাউস খোলা ইত্যাদি অনন্যা করেছে তাঁদের আরো নারীদের কাছে। পুরুষের সমকক্ষ যে নারীরা। সাধারন নারীদের অসাধারন হয়ে ওঠার গল্প।

আজ বাংলা ছবির ছয় নারীর কথা বলব। যুগে যুগে অবতীর্ণ হয়েছেন নারীরা। স্নেহবলে তিনি মাতা, বাহুবলে তিনি রাজা হয়ে। আমাদের প্রথম নারী ,

কাননবালা : এক নিরাশ্রয়া পিতৃহীন বালিকা মায়ের হাত ধরে আশ্রয় নিল এক আত্মীয়ের বাড়ি। সেখানে দু-মুঠো অন্নের জন্য দুজনকে বিনা বেতনের পাচিকা কাম পরিচারিকা হতে হল। একদিন মায়ের হাত ফসকে চায়ের প্লেট পড়ে ভেঙে গেল। বাড়ি শুদ্ধ লোক তাঁদের ধরে মারতে এল। মায়ের লাঞ্ছনা সহ্য করতে পারেনি সেই বালিকা। “মা আর এক মুহূর্ত নয় উপোস করে মরব সেও ভালো এ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ি চল।” কটুবাক্য বর্ষন ও অত্যাচারে সেই আত্মীয়ের বাড়ি মায়ের হাত ধরে ছাড়তে বাধ্য হল সেই বালিকা। সে জোরটা পেয়েছিল বালিকাটি সেদিন। যে জোর তাঁকে লেজেন্ড বানালো। এক উঠোন বারো ঘরে থাকার ব্যবস্থা হল। কানন ও তাঁর মায়ের জীবন আরো কষ্টের হল বেশ্যা পাড়াও ঘোরা ছিল। সেইসব অনাদরের মাঝেই গান শেখার সুযোগ হলে কানন গান শিখতেন বিভিন্ন জনের কাছে। এরপর একদিন এল বায়োস্কোপে নামার অফার। ধীরে ধীরে কানন হয়ে উঠল হিরোইন। নীচের তলা থেকে অভিজাত শ্রেণীতে উঠে এল কানন। কাননবালা শেষ নায়িকা বাংলা ছবির যে নীচু তলার থেকে উঠে এসছেন এবং অটোগ্রাফ পরিবেষ্টিতা হয়ে ইন্ডাস্ট্রির সর্বা হয়েছেন। জীবনের এত পট পরিবর্তন ও দুষ্টকে দমন করে শিষ্টের পালনে কাননের নজির অনন্য।

প্রথম জীবনে কাননবালা

কাননবালার রূপ যৌবন দেখে পুরুষদের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যেত। রূপবাণী সিনেমায় একটি রোম্যান্টিক দৃশ্যে কাননের অভিনয় দেখে একদিন এক যুবক পর্দার দিকে ছুটে গিয়েছিলেন একবার কাননবালাকে একটু স্পর্শ করার জন্যে। কলকাতার রাস্তার ধারে চট বিছিয়ে কাননের আলোকচিত্র বিক্রি হতো। সৌন্দর্যে এবং ফ্যাশনে কানন এ সময়ে আদর্শ স্থাপন করেছিলেন। মহিলারা তার ফ্যাশনের শাড়ি-সেমিজ পরতে আরম্ভ করলেন। তার ফ্যাশনের কানের দুল তৈরি করান। কিন্তু কানন যেহেতু নীচু তলার থেকে উঠে আসে বিভিন্ন পরিচালক অভিনেতা প্রযোজক তাঁর গায়ে হাত দেবার সুযোগ নিত। একবার তো জোরবরাত (১৯৩১) ছবির একটি দৃশ্যে সংলাপের পর হঠাৎ নায়ক তাঁকে জড়িয়ে ধরে ওষ্ঠ চুম্বন করে দেন। কাননের বয়স তখন বছর ষোলো। কানন জোর করে ছাড়িয়ে দেন সেই দুষ্টের আলিঙ্গন। ‘বাসবদত্তা’ ছবিতে জোর করে তার নগ্ন দৃশ্য শ্যুট করা হয়। গরীব ঘরের মেয়ে তখন তাই প্রতিবাদ করতে পারেননি। এরপর কানন হলেন বিশাল নায়িকা।

তাঁকে প্রথম জীবনে সবচেয়ে খ্যাতি এনে দিয়েছিলো মুক্তি (১৯৩৭)। মুক্তি ছবিতে কাননের পা হাঁটু অবধি দেখানোয় ক্ষিপ্ত মৌলবাদী জনতা হলের সিট ভাঙাভাঙি শুরু করেছিল। পরের বছর বিদ্যাপতি এবং সাথীও জনপ্রিয় হয়েছিলো। তিনি পরিচয় এবং শেষ উত্তর ছবির জন্যে পর-পর দুবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। এরপর মেজদিদি,দর্পচূর্ণ, অনির্বান কাননময়। কানন তো শুধু নায়িকা নন সফল প্লে ব্যাক গায়িকা। দুই বিবাহ। তাঁর প্রথম স্বামী অক্সফোর্ড ফেরত অশোক মৈত্র ও দ্বিতীয় স্বামীকে কানন গড়ে তোলেন পরিচালক হরিদাস ভট্টাচার্য। যদিও হরিদাসও সেপারেশনে থাকতেন। কানন সব স্বামীর চিকিৎসার দায়িত্বও নেন স্বামীর অভব্যতা সত্ত্বেও। কানন তৈরী করেন শ্রীমতী পিকচার্স নিজের প্রোডাকশান হাউস। আশা, মেজদিদি, ইন্দ্রনাথ শ্রীকান্ত ও অন্নদা দিদি, রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত। এ সবই কাননের প্রোডাকশান। কানন দেবী এক যুদ্ধের নাম যে নীচু তলা থেকে অত্যাচার থেকে দহিতা হয়ে ফিল্মের মুকুটমণি হয়ে ওঠেন। যাকে দেখে রাজ্যপাল উঠে দাঁড়াতেন। আবার প্রতিদিনের অভ্যস্ত সংসার জীবনে নিরালা গৃহকোনে এক হৃদয়ভরা স্নেহময়ী। এমনকি কোনো প্রীতিভোজে ভিখারীর দলকে তাড়িয়ে দেওয়া হলে সেই স্টার কানন দেবীই বলতেন “একটি লোকও যদি ফিরে যায় তবে আমি খাবোনা। এটা মনে রেখে কাজ কর।”

সুচিত্রা সেন : যার মুখ এতটাই সুন্দর ছিল যে ক্যামেরা বেশীক্ষন তাঁর মুখে থাকত। যে কোনো গানে সুচিত্রা সেনের মুখ হাসি চোখ বেশী দেখা যেত। সেটাই চাইত দর্শক। এমনকি কলকাতা শহর জুড়ে যার মুখের ছবিতে ছেয়ে যায়। আজও যে মুখ ভার্চুয়াল জগতে সর্বাধিক লাইক পায়। বাংলা ছবিতে সুচিত্রা সেনের অবদান তার রূপ তার ভূবন ভোলানো হাসি তার চোখ এসব শুধু নয়…..আসল অবদান হল তার আভিজাত্য। তিনি প্রথম নায়িকা যিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠা করেন।

সুচিত্রা

তবে কাননবালার অভিনয় জীবনের নীল নকশায় সুচিত্রার যাত্রাপথ আঁকা হয়। আসলে নায়িকার জন্য পার্সোনাল মেক আপ রুম সুচিত্রাই চালু করেন। নারী সর্বংসহা নয়, প্রতিবাদী সেটা দেখিয়েছেন সুচিত্রা।নারী শিল্পীর প্রতি অবজ্ঞা দূর করেছেন তাঁর অনমনীয় ব্যক্তিতের দাপটে। এককথায় বলতে গেলে পুরুষশাসিত সমাজে নায়িকাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। সেটে নাম ধরে নয়, সমীহ করেই তাঁকে ম্যাডাম বা মিসেস সেন বলে ডাকতে বাধ্য করেছেন। যার ভয়ে সেটে নাকি সবাই তটস্থ থাকতো। তার পারমিশান ছাড়া তার ছবির শ্যুটিং দেখতে পেতেননা কোন সাংবাদিক। এই গরিমাতেই তিনি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন সত্যজিৎ রায়ের দেবী চৌধুরানীর কন্ট্রাক্ট। যাঁকে দিয়ে ছবি করানোর প্রস্তাব নিয়ে একরাশ লালগোলাপ সহ তাঁর বাড়িতে হাজির হয়ে গিয়েছিলেন রাজ কাপুর। তাঁর পায়ের কাছে বসে পড়ে রাজ কাপুর তাঁর সিনেমায় অভিনয় করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সুচিত্রা পরে বলেছিলেন, মেয়েদের পায়ের কাছে যিনি ওভাবে বসে পড়েন, তাঁর ছবিতে কাজ করা যায় নাকি? সুচিত্রা পূর্বযুগের অভিনেত্রী নায়িকাদের কোনও সম্মান ছিলনা।নারীর অধিকার আদায়ের লড়াইটা সুচিত্রা করেছেন। সফল হয়েছেন।আসলে এর প্রয়োজনও ছিল। না হলে তিনি নিজেকে গুছিয়ে রাখতে পারতেন না।কানন দেবী, ছায়া দেবীর মতো শিল্পীরাও সুচিত্রাকে আশীর্বাদ করেছেন। কানন দেবী তার জীবনীতে বারবার একথা বলে গেছেন। কানন দেবীর যুগে নায়িকাদের গায়ে হাত বুলিয়ে রোল দেওয়া হত।সুচিত্রাই সেই নায়িকা যে নারীর সম্মান প্রতিষ্ঠা করেন।

“উত্তর ফাল্গুনী” র একটা সিন মনে পড়ে যেখানে সুপর্ণা সুচিত্রা মইয়ে উঠে বিশাল লাইব্রেরী থেকে আইনের বই পাড়বে বইগুলো ধরতে দেবে দিলীপ মুখার্জ্জীকে।আমরা এইটুকু দেখেছি ছবিতে। সেটে ঘটেছিল যুগান্তকারী ঘটনা। ওখানে একজন পরিচালক ছিলেন যিনি সুচিত্রার অভিনয়ের শুরুর দিনগুলোয় খুব অপমান করে ছোট করেন সুচিত্রাকে।সুচিত্রা সেটা মনে রেখেছিলেন। “উত্তর ফাল্গুনী” র সেটে ওই মই থেকে সুচিত্রার জুতো টা পড়ে যায়। সেখানে দাড়িয়েছিলেন ওই পরিচালক। সুচিত্রা তাকে বলেন “আমার জুতোটা তুলে ধরে আমার পায়ে পরিয়ে দিনতো”। উক্ত পরিচালক সেটাই করেন। এই হল সুচিত্রা। বলিউডেও সুচিত্রার মতো সম্মান আর কোনো নায়িকা পাইনি। এছাড়াও একটা সময়ের পর থেকে সব ছবির টাইটেল কার্ডে সুচিত্রা উত্তম নাম যেত। তিনি জেহাদের সঙ্গে বলতে পারেন “আমি সুচিত্রা আমি ইন্ডাস্ট্রি”।

পার্সোনাল মেকআপ রুম সুচিত্রাই চালু করেন।

অপর্ণা সেন : চিদানন্দ দাশগুপ্ত, সত্যজিৎ রায় ও উৎপল দত্ত ব্রক্ষা বিষ্ণু মহেশ্বর সৃষ্টি করেন এই নায়িকাকে। তিন কন্যার এক কন্যা মৃণ্ময়ী নারীদের চিন্ময়ী হয়ে উঠলেন। অপর্ণা স্বর্ণযুগে এক আধুনিকার আইকন তৈরী করেন। যে পুরুষদের কাঁধে হাত দিয়ে সিগারেট খেতে পারেন আবার মিটিং মিছিলে পা মেলান। যদিও এই সিগারেট অনেক আগে অনেক নায়িকা খেয়েছেন সেগুলো বাইরে নয় প্রচারে ছিলনা। অপর্ণা বাঙালী মহিলাদের সনাতনী পোশাক ভেঙে আধুনিকা ভাবে সাজতে শেখান। অপর্ণা সেন পরিচালিকা নায়িকা। যদিও এর আগে মঞ্জু দে, অরুন্ধতী দেবীদের নায়িকা পরিচালিকা আমরা পেয়েছি।

কিন্তু অপর্ণার আইকন আইডল অনেক বেশী হয়ে উঠেছেন। নায়িকা জীবন পরিচালিকা জীবন সফর আজও চলছে তাঁর। তাঁর প্রায় প্রতিটি ছবিতেই নারীদের কথা বলেছেন অপর্ণা … 36 চৌরঙ্গী লেন, পরমা, সতী, পারমিতার একদিন, গয়ণার বাক্স, সোনাটা। এক এক ভাবে নারীদের গল্প। মহিলা পত্রিকা ‘সানন্দা’ অপর্ণার হাত ধরে আইকনিক। এরপর আরো মহিলা পত্রিকা করেন পরমা, প্রথমা। মহিলা টিভি শো ‘সানন্দিতা’। তিন বার বিবাহ নিয়ে সমাজ যাকে বিদ্ধ করেছে। কম কথা শোনায়নি। কিন্তু মেয়েদের নিজের লাইফ সেলিব্রেট করবার অধিকার আছে তিনি বোঝান। আবার প্রাক্তন স্বামীরা প্রয়াত হলেও অপর্ণা পাশে থেকেছেন। অপর্ণা সেন এক নবজাগরণের নাম।

দেবশ্রী রায় : এগারো মাস বয়সে অভিনয় জীবন শুরু যার। পাগলা ঠাকুর, বালক গদাধর, কুহেলীর মতো ছবিতে নজর কাড়েন যিনি। যিনি ও তাঁর দিদি ঝুমকি রুমকির জুটি ছাড়া কোনো কলকাতার বড় জলসা হতনা। তরুন মজুমদার র হাত ধরে যার নায়িকা হওয়া। দেবশ্রী রায় থাকা মানেই সে ছবি ব্লকবাস্টার হিট। এমন এক বানিজ্যিক ছবির নায়িকা জাতীয় পুরস্কার পাওয়াতে চমকে যায় সবাই। ‘ঊনিশে এপ্রিল’ বাংলা ছবির বাঁক বদলের ছবি। ছেলেবেলার বন্ধুত্ব বিবাহে আবদ্ধ হন প্রসেনজিৎ র সাথে। হয়তো ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। পুরুষ ব্যাতীত একক মহিলাও যে জীবনে চলতে পারে দেবশ্রী রায় দেখিয়ে দেন।

Debasree Roy Untold Story

দেবশ্রী সেই অভিনেত্রী যার উপর নারীবাদী মহিলাকেন্দ্রিক ছবি গুলোয় টাকা লগ্নি করত পরিচালকরা। স্বর্ণযুগের পর যে নায়িকার একার জোরে ছবি চলত। প্রসেনজিৎ আজও স্বীকার করেন টলিউডের কমপ্লিট নায়িকা দেবশ্রী রায় বাদে আর কেউ নয়। দেবশ্রী পশুপাখীদের মাতা হয়েও তাঁর হাজার অবলা সন্তানদের আগলে রেখেছেন। এমন নারী তো দৃষ্টান্ত।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত : প্রভাত রায়ের পরিচালনায় অপর্ণা সেনের নারীর গল্প ‘শ্বেত পাথরের থালা’ দিয়ে ঋতুর চলা শুরু। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। সেই নব্বইয়ের শুরু থেকে আজও তিন দশক নায়িকা ঋতুপর্ণা। এখন ঋতুপর্ণা প্রযোজিকা। ভাবনা আজ ও কাল যার প্রোডাকশান হাউস। একসময় প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা জুটি ভেঙে যায়।

তখন একার জোরে ইন্ডাস্ট্রিতে লড়ে নায়িকার আসন অটুট রাখেন ঋতুপর্ণা। সেই লড়াই করে সম্মানের সঙ্গে আজ ঋতুপর্ণা আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি। নারীকেন্দ্রিক ছবি থেকে হার্ডকোর কমার্শিয়াল ফিল্ম … ঋতু অনন্যা।

রাইমা সেন : শেষ করছি একটা বৃত্তে এসে। সুচিত্রা সেন দৌহিত্রী রাইমা সেন। মুনমুন সেন ভরত দেববর্মন কন্যা। যার পূর্বনারী ইলা দেবী কোচবিহারের রাজকুমারী ছিলেন, যার ছোট বোন গায়ত্রী দেবী জয়পুরের মহারানী ছিলেন।

রাইমা সেন

রাইমা একটা আভিজাত্যপূর্ণ পরিবারের থেকেই এসেছেন কিন্তু চাপ ছিল এই আভিজাত্য ধরে রাখার। রাইমা সেন নিজেকে বিভিন্ন ছবিতে অনেক ভেঙেছেন। সুচিত্রা সেন কন্যা মুনমুনের অভিনয় জগতে আসা নিয়ে যে আপত্তি জানান নাতনিদের বেলায় তা করেননি। রাইমাকে বলতেন সুচিত্রা “সবসময় পরিচালক দের কথা মতো অভিনয় করবে। ওনারাই শিক্ষক।” শুরু শাবানা আজমীর সঙ্গে স্ক্রীন শেয়ার ‘গড মাদার’। এরপর কল্পনা লাজমির ‘দমন’। রাইমাকে নায়িকা করলেন হাতে ধরে তৈরী করলেন এরপর ঋতুপর্ণ ঘোষ। ‘চোখের বালি’, ‘নৌকাডুবি’, ‘খেলা’, ‘আরেকটি প্রেমের গল্প’, ‘সানগ্লাস’, ‘চিত্রাঙ্গদা’। বলিউডে অভিষেক তো শুরুতেই তারপর পরিণীতা, একলব্য, হানিমুন ট্রাভেল প্রাইভেট লিমিটেড, চিলড্রেন অফ ওয়ার, ভদকা ডায়ারিজ। বাংলায় আরো কিছু উল্লেখযোগ্য ছবি রাইমার ‘নিশিযাপন’, ‘ক্ষত’, ‘বং কানেকশান’, বাস্তুশাপ, এবি সেন প্রভৃতি। মুনমুন সেন সেভাবে ভালো চিত্রনাট্য পাননি কিন্তু রাইমা অনেক ভালো চিত্রনাট্য পরিচালক পেয়েছেন। আজও সুচিত্রা সেনের মুখের ছায়া সবাই খুঁজে পান রাইমার মুখে। নতুন ধারার ছবি হইচই এপে রাইমা সেন অভিনীত ‘হ্যালো’ সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়।

“নহ মাতা, নহ কন্যা,
নহ বধূ, সুন্দরী রূপসী
হে নন্দনবাসিনী উর্বশী। ….”

লেখক : শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here