কখনই সীমারেখার বিভেদ টেনে বাঙালি সাজতে যাননি – তিনি অঞ্জন দত্ত

ডিলান

গতকাল ছিল আরও একজনের জন্মদিন, তিনি অঞ্জন দত্ত। হ্যাঁ সেই অঞ্জন দত্ত যিনি কবির সুমন আর নচিকেতার মাঝে চিড়েচ্যাপটা হয়ে গিয়েছিলেন। জনগন বলে কিসব গান। নচিকেতার মত সহজ সরল নয়। বেশি বোদ্ধারা বলেন, অঞ্জন দত্ত? সে তো বব ডিলান, লেনন দের নকল করে। অঞ্জন দত্তের ভাগ্যে সেভাবে মর্যাদা জুটলই না!অথচ অঞ্জন দত্ত জীবন শুরু করেছিলেন দারুন ভাবে। মৃনাল সেনের সিনেমায় অভিনয় করেন (খুব সম্ভবত ‘চালচিত্র’। তারপর ভেনিস চলচিত্র উৎসবে(ভুলও হতে পারি) গিয়ে সেরা অভিনেতার পুরস্কার নিতে গিয়ে পড়ে যান! কারন? পাশে বসে ছিলেন রবার্ট ডি নিরো!

কিন্তু অভিনয় জীবন সুখের হয়নি। অকপট অঞ্জন দত্ত একটা সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রভাত রায়ের কাছে একটা রোল চাইতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে লুচি খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সত্যজিৎ রায় তাঁকে নিতে চাননি কারণ তাঁর নাকি চোয়াল ছিল না ঠিকঠাক! এরপর কবীর সুমনকে দেখে অঞ্জন দত্তের গান গাওয়া শুরু। তখন বাঙালি তাঁর রঞ্জনা আর বেলা বোস শুনে পাগল ! রঞ্জনায় গানের ভিতরেই সাম্প্রদায়িকতাকে ভেঙে দিলেন। বেলা বোসে যেন গাইলেন হাজার হাজার বেকারের অব্যক্ত কথা। কিন্তু তারপর? কিছু সামান্য শ্রোতা ছাড়া তাঁর গান কেই বা শুনল? শুনলেও মানে বুঝল না। সত্যজিৎ এর ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’র পর বাঙালি আবার পেল দার্জিলিং স্বাদ। “খাদের ধারের রেলিং টা.. ” বলে যখন গান আজো লোম খাড়া হয়ে যায় উত্তেজনায়। কিংবা “শুনতে কি চাও….” যেখানে মানুষ তার জীবন কথা বলে যায়।

আমার এক কবি বন্ধুকে ‘জানালা‘ আর ‘পারিনি’ গানদুটো শুনিয়েছিলাম জোর করে। অবাক হয়ে গিয়েছিল। কারণ বেশিরভাগ বাঙালিই রঞ্জনা আর বেলা বোসের জন্য অঞ্জন দত্ত কে চেনে। কিন্তু কত যে ভাল ভাল গান আছে তার ইয়ত্তা নেই। কলকাতা ১৬ অ্যালবামের ‘একদিন বৃষ্টিতে…’ গানটা যতবার শুনি হৃদয়ে মোচড় দিয়ে ওঠে। শেষ দিকে পরিচালক হলেন, নিউ এজ বাংলা সিনেমার নতুন ধারা তৈরি করলেন। ব্যোমকেশকে নতুন ভাবে চেনালেন। এত প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও ‘রঞ্জনা..” সিনেমায় কবির সুমনের কাছে আক্ষেপ করেছেন, “একটা ভাল গান লিখতে পারলাম না!’ অথচ সেই কবির সুমন, নচিকেতারা নিজেদের ধর্ম রাজনীতির কাছে বিকিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তিনি এখনো অবিচল অকপট। কোনকিছুর কাছেই নত স্বীকার করেননি। অনেকে বলেন, তিনি বড্ড সাহেবি। সেটা একদমই নয়। অঞ্জন দত্ত কখনই সীমারেখার বিভেদ টেনে বাঙালি সাজতে যাননি। ‘রঞ্জনা.. ” সিনেমাতেই বলেছিলেন, আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইনি কিন্তু আমার মনের ভিতর রবীন্দ্রনাথ। জন্মদিনে আমার এই প্রিয় মানুষটিকে জানাই শ্রদ্ধার্ঘ।