“এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কাউকে সরিয়ে দিতে পারে না !”- অঙ্কুশ হাজরা।

এই বছরের পুজো স্পেশাল "বলো দুগ্গা মাইকী" আর তাতে এই সাম্য রায়ের চরিত্রে আমরা পেতে চলেছি বাংলা সিনেমার অন্যতম নিয়মিত নায়ক অঙ্কুশ হাজরা'কে।

এই বছর মা দুর্গার সাথে আরও একজন আসছে বাংলার পুজোতে  আপনাদের মাতাতে, বাংলার দ্বিতীয় বিদ্যাসাগর সাম্য রায়, মিথ্যে কথা বলাতে এনার জুড়ি মেলা ভার! বুঝতেই পেরেছেন কার কথা বলছি, রাজ চক্রবর্তী’র এই বছরের পুজো স্পেশাল “বলো দুগ্গা মাইকী” আর তাতে এই সাম্য রায়ের চরিত্রে আমরা পেতে চলেছি বাংলা সিনেমার অন্যতম নিয়মিত নায়ক অঙ্কুশ হাজরা’কে। সেই জার্নি নিয়ে কথা বলতে বলতে অবশ্য শেষে সাম্য রায় ভর করে ফেলে অঙ্কুশ’কে, তারপর কি হল নিজেই পড়ে দেখুন না…

এমনিতে তুমি খুব হাসিখুশি, কিন্তু নাকি একটুতেই রেগে যাও, চট করে মাথা গরম করে ফেল…

অঙ্কুশ- নাহ (হাসি) একদম ভুল খবর এটা বরং পুরো উল্টো আমি। রাগ হলেও সেটা দেখানোর একটা ওয়ে আছে হুট করে আউটবার্স্ট করি না…

সাম্য’কে কতোটা ভালোবেসে ফেলেছ?

অঙ্কুশ-  স্পেশালি ছবিটা যেভাবে এগিয়েছে সেখানে সাম্যর মধ্যে যে চেঞ্জটা আসছে সেটাকে যে কেউ ভালোবাসবে। ক্রিমিলান নয় কিন্তু ভীষণ নটি ও আর চূড়ান্ত মিথ্যে কথা বলে, খুব কাছের মানুষ হার্ট হতে পারে এরকম মিথ্যে কথা বলে। বাই হার্ট ও যা ছেলে, ওর মধ্যে যে এথিকস, ফ্যামিলি ভ্যালু আছে সেটা সিনেমাটা দেখলে বুঝতে পারবে , এদিক থেকে সাম্য খুবই ফেভারিট আমার কাছে।

অঙ্কুশ কি সাম্য’র মত মিথ্যে কথা বলে?

অঙ্কুশ- (হাসি) মিথ্যে তো সবাই কম বেশী বলেই থাকে, কিন্তু মিথ্যেটা ঐ লেভেলের কাউকে যেন হার্ট না করে। বড় কোন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য মিথ্যে বলা যায় কিন্তু কাউকে দুঃখ না দিয়ে কাছের মানুষকে কষ্ট না দিয়ে বলাই যায়।

ট্রেলার দেখে বোঝা যাচ্ছে নায়িকার সাথে সেটে বেশ খুনসুটি করেছ…

অঙ্কুশ- হুম, আসলে এই ছবিটার পরিবেশটা ওরকম! শুধু আমার সাথে না, রাজদা নুসরাতের, আমার রাজদার, পরাণদা, রনিদা প্রত্যেকের মধ্যে এতো ভালো সম্পর্ক তাই শুটিংটা খুব মজা করেই হয়েছে…

পরিচালক তো খুব লেগ পুল করেছে শুটিংএ তোমার…

অঙ্কুশ- রাজদার সাথে আমার একটা আলাদাই সম্পর্ক, সেই কানামাছি থেকেই! এতোদিন একসাথে সিনেমা করি নি কিন্তু ঐ রিলেশেনে কোনরকম ফাটল ধরে নি বা খামতি ছিল না…এই ছবিতেও সেটা বেশ কাজে লেগেছে…

১৫তে ৩টে সিনেমা, ১৬তে ৪টে, ১৭তে ইতিমধ্যেই ২টো কমপ্লিট! এতো নিয়মিত নায়ক বাংলা সিনেমাতে…

অঙ্কুশ- হ্যাঁ, দেখো সমস্যাটা হল আমাদের ছবি দিতে হবে দর্শকদের। কারণ অনেক হল বন্ধ হয়ে গেছে এখন যে কটা ভালো ভালো হল আছে সেখানে আমাদের ফিট করতে হবে আর এখানে প্রোডাকশন হাউস কম, সবথেকে বড় প্রোডাকশন হাউস এসভিএফ,তো তাঁদের একটা প্রেসার আছে, একটা দায়িত্ব আছে কি করে বাংলা সিনেমাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, বাঁচিয়ে রাখা যায়। আর সিঙ্গেল স্ক্রিনের জন্য একটা সংখ্যক কমার্শিয়াল সিনেমা লাগে আর আমি এখন ঐ জোনে ঢুকি নি যে বছরে একটা-দুটো সিনেমা করবো কারণ আমাকে এখনও অনেক কাজ করতে হবে…

মানে এখনো অন্যধরনের চরিত্র নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে রাজি নও ?

অঙ্কুশ- না সেটা নয়, দেখো যে গল্প আসে আমার কাছে সেটা ভালো লাগলে অবশ্যই করি আবার দেখলাম গল্পটা খুব ভালো কিন্তু চরিত্র নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করার মত কিছু নেই তাই বলে করবো না সেটা নয়… আমি ফ্লো’য়ের সাথে যেতে বেশী পছন্দ করি…

এই মুহূর্তে তবে প্রতিদ্বন্দ্বী কে?

অঙ্কুশ- প্রতিদ্বন্দ্বী বলে কিছু হয় না, দেখো কেউ যদি ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে গেল বা একটা টিপিক্যাল কথা আছে ‘এ আর চলছে না’ , সেটা কিন্তু তাঁর নিজের দোষে, সেটা আমি নিজেও হতে পারি হয়তো ভবিষ্যতে আমি আর চললাম না কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ কাউকে সরিয়ে দিতে পারে না ! ধরো রাজেশ খান্না একসময়ে চলে ছিল তারপর মিঃ বচ্চন আসার পর অনেকে বলেছিল রাজেশ খান্না আর চলবে না,সেটার পেছনে রাজেশ খান্নার নিজের অনেক ফ্লয়’স ছিল, লাইফস্টাইল চেঞ্জ হয়ে গেছিল অনেক কারণ ছিল, কই অমিতাভ বচ্চনের পর এত তাবড় তাবড় হিরো এসেছে কিন্তু ওনার জায়গা কি নিতে পেরেছে? এখানে বুম্বাদা’র জায়গা কি কেউ নিতে পেরেছে? বুম্বাদার পর আমি এসছি, দেব, জিৎ, সোহম আরও অনেক হিরো… কেউ তো পারে নি বুম্বাদা’র জায়গা থেকে সরাতে তাই বলছি কেউ পারে না কারুর জায়গা নিতে… তাই নতুন কাউকে কেন আমি প্রতিদ্বন্দ্বীর জায়গায় বসাবো? এগুলো সবই মিডিয়ার ক্রিয়েট করা!

ট্রেলার মিলিয়নসের ওপর মানুষ দেখে ফেলেছেন, কতোটা চাপ লাগছে?

অঙ্কুশ- এটা আমাদের কাছে পুরো অপ্রত্যাশিত ছিল যে বাংলা সিনেমার ট্রেলার দু’দিনের মধ্যে ২.৫ মিলিয়ন মানুষ দেখে ফেলবেন। এটা হঠাৎ করে স্বপ্নপূরণ ,খুবই ভালো লাগছে আমাদের আর ট্রেলারের যে মেন ফিডব্যাকটা পাচ্ছি সেটা হল এটা টিপিক্যাল হিরো-হিরোইনের প্রেমের গল্প নয় একদম অন্যরকম আর আমাদের লক্ষ্য ছিল ট্রেলারে গল্পটা বলে দেওয়া এবার সেটা কিভাবে হচ্ছে সেটা হলে গিয়ে দেখুক সবাই! বেসিক স্টোরিলাইনটা বলে দিয়েছি…

এই পুজোতে তোমার সিনেমা সবথেকে বেশী সংখ্যক হলে রিলিজ করছে, সেদিক থেকে চাপ তো অনেক কম…

অঙ্কুশ- না না, দেখো এটা  এই পুজোর একমাত্র হার্ডকোর কমার্শিয়াল সিনেমা যেটা রিলিজ করছে তো সেই দিক থেকে ব্যাপারটা জাস্টিফায়েড। কারণ যে দর্শকের জন্য বানানো তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হবে তো আর আমরা এদিকেও মানে মাল্টিপ্লেক্সেও আশাবাদী যে এখানেও ভালো ফল করবে তাই এখানেও কিছু কিছু শো রয়েছে। এটা আমাদের করতেই হত…

পুজোর প্রেম একটা বড় ফ্যাক্টর এই সিনেমাতে, তোমার কাছে পুজোর প্রেম কেমন?

অঙ্কুশ- পুজোতে কোনদিন আমার প্রেম হয় নি! ভালো লাগে যেটা যে সবাইকে ভীষণ মিষ্টি লাগে, অনেক প্রেম দেখেছি পুজোতে তবে একটা জিনিস অনেক সময় ফ্লার্টিং করতে করতে সেটা ইভটিজিং’র জায়গায় পৌঁছে যায় সেটা ভীষণ খারাপ। পুজোতে আনন্দ করবো বলে সেটা অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার কোন মানে নেই এর বাইরে সুন্দরী মেয়েদের প্রপোজ করা, হেলদি ফ্লার্টিং ভালো…

অঙ্কুশ কি এইসব দুষ্টুমির বাইরে?

অঙ্কুশ- (হাসি) পুজোতে আমি বন্ধু-বান্ধবদের সাথেই ঘুরি, মজা করি, মেয়েদের ঝাড়ি মারি না…

তোমার গার্লফ্রেন্ড (ঐন্দ্রিলা) নিজেও একজন ভালো অভিনেত্রী তো তোমাদের অনস্ক্রিন সেভাবে দেখা যায় না কেন?

অঙ্কুশ- ও শুরু করে টেলিভিশেন থেকে আর আমি ফিল্ম থেকে, এবার ডিপেন্ড করে এটা  প্রোডিউসারের উপর, এবার দেখো দুটো জিনিস হতে পারে হয় আমাকে টেলিভিশেনে যেতে হবে না হলে ওকে বড়পর্দায় আসতে হবে। হতেই পারে আগামীদিনে আমি ছোটপর্দায় বেশী কমফর্ট ফিল করলাম, কাজ করতেই পারি। আমার ওরকম কিছু নেই যে আমি ছোটপর্দায় কাজ করবো না। তাই হয় আমাকে যেতে হবে না হলে ওকে এদিকে আসতে হবে… আশা করছি কোন না কোনভাবে এটা হবে আগামীদিনে…

নিজের সিনেমা বাদ দিয়ে আর কোন সিনেমা পুজোতে দেখার জন্য টিকিট কাটতে চলেছ?

অঙ্কুশ- এটা ডিপেন্ড করবে আমার বন্ধুদের ওপর! আমার নিজের দেখার খুব ইচ্ছে আছে ‘ইয়েতি অভিযান’। তবে বাকি বন্ধুদের উপর নির্ভর করছে, দেখো পুজো তো কোনদিন একা এনজয় করা যায় না, আমার যে গ্রুপ আছে তাদের অবশ্যই আমার সিনেমা নিয়ে একটা আগ্রহ থাকবেই, তারপর যা প্ল্যান হবে ফাইনালি সবাই কি দেখবে? সেই অনুযায়ী দেখা যাবে…

৭ বছর হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রিতে, সুপারস্টার অঙ্কুশের স্টারডমের পেছনে রহস্যটা কি?

অঙ্কুশ- (মাথা নামিয়ে) না না, আমি চাই না সুপারস্টার হতে, আমি চাই আমার সিনেমা যেন সুপারস্টার হয়! সবার ভালো লাগে ঐ স্টারের ট্যাগ কিন্তু আমি চেয়েছি সবদিন মানুষ আমার অভিনয়টাকে চিনুক সেই জায়গা থেকে অনেক ভালোবাসা পাচ্ছি, আমি কৃতজ্ঞ আমার প্রোডিউসারদের কাছে আমার উপর বারবার ভরসা করার জন্য। এই সিনেমাতে ফটাফট আমাকে চড় মারছে, পুঁতে রাখছে বালির মধ্যে সুপারস্টার হলে তো এসব আমি করতে রাজিই হতাম না (হাসি)… ঐ ট্যাগ আমার দরকার নেই!

তাহলে সুযোগ পেলেই সন্তোষপুরে ক্রিকেট খেলে আসবে?

অঙ্কুশ- হ্যাঁ হ্যাঁ, করি তো এখনো। আমি কলকাতার মলগুলোতে নর্মালি শপিং করতে যাই, বিন্দাস ঘুরে বেড়াই! আমি কোনদিন নিজেকে ওভাবে বেঁধে রাখি নি! কি এমন হাতি ঘোড়া অ্যাচিভ করেছি? চেয়েছিলাম সিনেমা করতে সেটা করতে পেরেছি, যে যে মানুষগুলোকে টিভিতে দেখতাম তাঁরা এখন আমার কলিগ একসাথে অভিনয় করছি, এটাই ভেবে ভালো লাগে…

হঠাৎ করে সাম্য রায় ভর করে বসল অঙ্কুশের ওপর আর শুরু করে দিল আবার মিথ্যে কথা বলা… টলিপাড়ার এই নামগুলো শুনে কি বলল সাম্যরূপী অঙ্কুশ, শুনুন আপনারা…

সায়ন্তিকা- ভীষণই খারাপ ডান্স করে…

রাজ চক্রবর্তী- প্রচণ্ড অ্যাটিচিউড

নুসরাত- খুব ট্যানট্রামস দেখায়

ঐন্দ্রিলা- ওর মধ্যে ভীষণ একটা ডোন্ট কেয়ার ভাব আছে!

সৃজিত মুখার্জি- ও ভীষণ গম্ভীর এবং সবসময় সিরিয়াস।

অঙ্কুশ- ভবিষ্যতে এই লোকটার কিছু হবে না!!

অঙ্কুশ হাজরার ফোন নাম্বার?

অঙ্কুশ-  অ্যার-রি ব্বাস!(বাঁকা হেসে)…৯৪৩৪২৩৮২০১!

বোঝা গেল এই সাম্য রায় আপাতত অঙ্কুশকে ছাড়ছে না অন্তত পুজো অবধি তো নয়ই…

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।