“এই বছর পুজো রিলিজে আমার একটা বাড়তি সুবিধা আছে…”- সৃজিত মুখার্জি।

বিগত কয়েক বছরে পুজো'র সুপারহিট সিনেমা দেওয়ার অভিজ্ঞতায় ইনি এখন নাম্বার ওয়ান, সেই বিখ্যাত পরিচালকের এই পুজোতে তুরুপের তাস 'কাকাবাবু'র গল্প "ইয়েতি অভিযান"।

বিগত কয়েক বছরে পুজো’র সুপারহিট সিনেমা দেওয়ার অভিজ্ঞতায় ইনি এখন নাম্বার ওয়ান, সেই বিখ্যাত পরিচালকের এই পুজোতে তুরুপের তাস ‘কাকাবাবু’র গল্প “ইয়েতি অভিযান”। কিন্তু এবারের রিলিজ নিয়ে যে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পরিচালক সৃজিত মুখার্জি কারণ গত বছর যে রথী-মহারথী’রা ছিলেন ওনার ছাতার তলায় তাঁরা আজ অনেকেই পৃথক পৃথক ভাবে বক্স অফিসের লড়াইতে নিজেদের অস্ত্রে শান দিচ্ছে মন দিয়ে! এসভিএফ’র অফিসে বসে কাকাবাবু’র অভিযান নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস জানান দিচ্ছিল এবারের পুজোতেও আবার জমজমাট, “শারদীয় সৃজিত”…

তুমি বরাবর চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করো, তো এই কাকাবাবুতে কিরকম চ্যালেঞ্জের সামনা-সামনি হলে?

সৃজিত- প্রথমে বলি কাকাবাবুর এই গল্পটা এভারেস্টে সেট করা কিন্তু ওখানে শুটিং’র অনুমতি পাওয়া সম্ভব না তাই কিছুটা সুইজারল্যান্ডে শুট করতে হয়, কিছুটা সিকিম, কিছুটা নেপাল তো শুরুর দিকে এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। তারপর সুইজারল্যান্ডে যেখানে শুট হয়, অতন্ত্য দুর্গম একটি জায়গা, অক্সিজেনের ঘাটতি, জোরে চিৎকার করা যায় না, ভারী জিনিস তোলা যেত না। স্পটে পৌঁছানোর গাড়ি বলতে শুধু কেবল কার, আর ১২০০০ ফিট ওপরে যাওয়ার মাঝে ১০০, ১৫০ ফিটের ক্রেভাস যেখানে পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু! ওখানে আবার সেট তৈরি করা সম্ভব ছিল না বলে গ্রামে সেট বানিয়ে সেটা হেলিকপ্টারে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হত, প্রায় প্রান হাতে নিয়ে শুট করা যাকে বলে!

তুষার ঝড়?

সৃজিত- দু’বার তুষার ঝড় হয় আর ঐ ওপরে প্রচণ্ড বাজ পড়ে, আমাদের তখন পুরো জায়গাটা খালি করতে হয়, অনেক বিপদের মধ্যে এটাও একটা বড় বিপদ ছিল…

“পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক” থেকে নামটা “ইয়েতি অভিযান” করলে কেন?

সৃজিত- প্রধানত হল এখনকার প্রজন্মকে কমিউনিকেট করতে হলে ডিরেক্ট বলতে হবে, “পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক” নামটার মধ্যে একটা কাব্যিক দ্ব্যর্থক ব্যাপার আছে, আমি সেই অ্যাম্বিগিউটিটা কাটিয়ে সরাসরি বললাম “ইয়েতি অভিযান”। আমি বলেই দিলাম কি নিয়ে সিনেমাটা, কি নিয়ে অভিযান। আরেকটা কারণ আছে সেটা হল, আমি কিছু টুকটাক চেঞ্জেস করেছি ওরিজিনাল গল্প থেকে তাই  টেকনিক্যালি বেটার ওয়ে এটা বলার জন্য যে “পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক”  গল্পের অবলম্বনে তৈরি “ইয়েতি অভিযান”।

শোনা গেছিল এই কাকাবাবু নাকি তাপস পালের করার কথা ছিল?

সৃজিত- নাহ, আসলে যেটা হয়েছিল “মিশর রহস্য”র সময় “পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক” বলে একটি ছবির নাম ঘোষণা হয় যেখানে কাকাবাবু করছেন তাপস পাল, পরিচালক ছিলেন সম্ভবত অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। কোন কারণে সিনেমাটা শেষ হয় নি তাই মুক্তিও পায় নি।

পুজোর রিলিজে তুমি সবথেকে অভিজ্ঞ পরিচালক, তোমার কি মনে হয় পুজো রিলিজ আর পাঁচটা দিনের রিলিজ এখনো কি আর কোণ ফারাক আদপে আছে?

সৃজিত- নাহ! আদপে নেই, লাস্ট তিন, চার বছর ধরেই নেই যে বাড়তি লাভটা পাওয়া যেত কারণ প্রচুর মানুষ বাইরে থেকে কলকাতা আসেন কিন্তু এটা এখন কাটাকুটি করে নালিফায়েড হয়ে গেছে! তার কারণ এখন পুজোতে এতোগুলো সিনেমা রিলিজ করছে সেটা এখন প্রত্যেক সিনেমা সম্ভাব্য রেভেনিউ থেকে ২৫-৩০% লস দিয়েই শুরু করে তাই পুজোতে রিলিজ করানো এখন সবথেকে কঠিন, আর ৬টা, ৭টা সিনেমা একসাথে বেরলে হলও কমে যায়, পুজোর সময় মার্কেটিং স্পেস খুব কম থাকে সব মিলিয়ে বেশ কঠিন…

তুমি হল নিয়ে কিরকম অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছো?

সৃজিত- খুব একটা কিছু অ্যাডভান্টেজ পাচ্ছি না, যেরকম আমি কম হল পাই সেইরকমই পাচ্ছি, তার কারণ যে হাউস থেকে আমাদের সিনেমা আসছে তাঁদের আরও একটা সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে, প্লাস আরও ৪টা সিনেমা আছে, অত হল তো নেই সেই সংখ্যাটাও কমে গেছে তার মধ্যে শুনচ্ছি নন্দন রিইনোভেশনের জন্য বন্ধ থাকবে, সাউথ সিটিও বন্ধ থাকবে! তাই জন্য বলছি পুজোতে রিলিজ করিয়ে হিট করানোটা আরও বেশী কঠিন! আমি এই চ্যালেঞ্জটা নিতে ভালোবাসি…তবে আমার এই পুজো রিলিজে একটা বাড়তি সুবিধা আছে যে এটা খুব পুজো-ফ্রেন্ডলি ছবি, কোন গম্ভীর চিন্তা ভাবনা বা সাইকোলজি নিয়ে খেলা নেই একদম বাচ্চাদের নিয়ে দেখার মত সিনেমা…

ঝাঁ চকচকে সিনেমা…

সৃজিত- একদম ঝাঁ চকচকে, নিখাদ অ্যাডভেঞ্চারের সিনেমা এখানে বিশাল মাথা খাটানোর কিছু নেই! লাস্ট দুটো পুজোতে “রাজকাহিনী” আর “জুলফিকার “এইরকম ছিল না কিন্তু সেগুলো হিট হয়েছে, তাই সেদিক থেকে একটু সুবিধে আছে…

হল বেশী পাচ্ছো না, এটার জন্য কি কাকাবাবুকে থ্রিডি’তে করার প্ল্যান তুলে নিলে?

সৃজিত- না না, এটা অন্য কারণ, এখানে থ্রিডি স্ক্রিনের সংখ্যাটা খুব কম, দেখ একটা মাল্টিপ্লেক্সে থ্রিডিতে চললে পাশের টুডি স্ক্রিনগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয় কারণ সবাই থ্রিডিতেই দেখতে চাইবে আর কলকাতায় এখনো পরিকাঠামোগত সেভাবে উন্নত হয় নি তবে তৃতীয় কাকাবাবুর আগে সেটা হবে আশা করা যায়…

তোমার সিনেমাতে গান একটা বড় ফ্যাক্টর সবসময় কিন্তু এই সিনেমাতে সেইভাবে গান ব্যবহার করতে পারো নি, আবহতেই খেললে?

সৃজিত- হ্যাঁ, ব্যবহার করতে পারি নি, আবহ নিয়েই খেলেছি। মিশর রহস্যে প্রচুর গান ছিল এবং সেইসময় ঐ সিনেমা নিয়ে যে কাঁটাছেঁড়া হয়েছিল সেখানে একটা কথা উঠেছিল যে সিনেমাতে গান প্রচুর, আমি নিজেও ব্যাপারটা অনেকটা সমর্থন করি কারণ একটা অ্যাডভেঞ্চার সিনেমাতে গান বেশী হলে গতিতে সমস্যা হয় কিন্তু এইবারে দুটি গান আছে প্রথমটা রূপম, অনুপম, অরিজিৎ’র গাওয়া যেটা ইতিমধ্যেই হিট হয়ে গেছে, আর একটা গান আছে পাপন গেয়েছে, এই দুটো গানই সিচুয়েশানাল গান এবং সিনেমার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়…

একটা গানে তিনখানা বড় নাম, এটা কি প্রোমোশনাল স্ট্র্যাটেজি নাকি গানের ডিম্যান্ড ছিল?

সৃজিত- যেহেতু আমার গানের সংখ্যা কম তাই আমার এমন একটা গানের দরকার ছিল যেটা স্কেলে খুব বড় হবে কারণ যেই স্কেলের ছবি তার সাথে একটা তাল রেখে তো সঙ্গীত করতে হবে। আমার মনে হয় এই তিনজনের গলাতেই একটা অ্যাডভেঞ্চার আছে, সেটা ধরার চেষ্টা হয়েছে আর সেই স্পিরিটটা আসাধারন সুর দিয়ে ধরেছেন ইন্দ্রদীপ দাসগুপ্ত, এর সাথে প্রোমোশনের কোণরকম সম্পর্ক নেই…

তুমি যেকোণ প্রোডিউসারের কাছে একটা লোভনীয় প্যাকেজ! স্টোরি, স্ক্রিপ্ট, স্ক্রিন-প্লে, লিরিক্স, ডিরেকশন, এডিট আবার এদিকে তুমি সময়ের আগে শুট শেষ করে ফেল, লজিস্টিক দিক থেকেও সচেতন, এই মুহূর্তে বাংলার ইয়ং ডিরেক্টারদের জন্য কি বলতে চাইবে?

সৃজিত- একজন পরিচালকের ধরে নেওয়া উচিৎ তার পাশে কেউ নেই, সেই মা সেই বাবা! সিনেমাটা রিলিজ হয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো অবধি প্রত্যেক নিঃশ্বাসে সিনেমাটা নিয়ে কাজ করে যাওয়া উচিৎ। ডিসিপ্লিনড ভাবে সিনেমাটা যাতে সময় মাফিক দর্শকের কাছে পৌঁছে যায় সেটা দেখার দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ ইয়ং পরিচালকদের।

একটু আগে রুবী ক্রস করার সময় একটা হোর্ডিং দেখলাম, নং ওয়ান ইয়ারি, সেখানে তুমি, প্রসেনজিৎ আর আরিয়ান (সন্তু)… সেই সময় যদি তোমার আর প্রসেনজিৎ’র বন্ধুত্বটা শুরু না হত আজকে সৃজিত মুখার্জিকে পাওয়া যেত?

সৃজিত- উমম এটা বলা খুব শক্ত! অটোগ্রাফ না হলে কি হত বলা খুব মুস্কিল! বাংলা সিনেমার সেই সময় অনেক নতুন দিক খুলে গেছিল, একটা সিনেমাতে অনুপম রায়কে পেলাম, এডিটর পেলাম বোধাদিত্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, আমার ইনিংস শুরু হল, আর্ট ডিরেক্টর পেলাম, প্রসেনজিৎকে আমরা নতুনভাবে পেলাম…বাংলার নতুনধারার সিনেমা শুরু হয়… তো অটোগ্রাফ না হলে কি হত বলা খুব ডিফিকাল্ট (হাসি)

পরিচালনার পাশে এডিটিং করার চাপটা নিতে গেলে কেন?

সৃজিত- নাহ, এটা কোনদিনই আমার কাছে চাপ ছিল না কারণ এডিটর হিসেবে আমি প্রথমদিন থেকেই কাজ করছি। ব্যাপারটা হল নাম গেল কি গেল না, সেটুকুই ব্যাপার। অটোগ্রাফ থেকে ইয়েতি অভিযান পুরোটাই এডিটটা টেকনিক্যালি আমি করে এসছি এবার শুরুদিকে কিছু জায়গায় আমি নাম দিই নি এবার যেখানে প্রয়োজন মনে হয়েছে নাম দেওয়া উচিৎ সেখানে দিয়েছি। আর স্ক্রিন-প্লে’তেই আমার এডিট অনেকটাই করা থাকে সেই ভেবেই গল্পের ছন্দসহ, ট্রানজিশেনসহ এডিট করেই আমার লেখা থাকে পরে সেটার মারাত্বক কিছু পরিবর্তন হয় না! তাই এটা নয় যে আমি দুটো বা তিনটে ছবি এডিট করছি…

অনেকে বলছে প্রায় পুজোতে সাহিত্য নির্ভর সিনেমা করে  সেফ খেলছ তুমি?

সৃজিত- নাহ, ‘রাজকাহিনী’, ’অটোগ্রাফ’, ’২২শে শ্রাবণ’ সাহিত্য নির্ভর নয়, ‘মিশর রহস্য’, ‘জুলফিকার’ আর ‘ইয়েতি অভিযান’।  ৬টা সিনেমার মধ্যে ৩টে সাহিত্য নির্ভর, ৩টে সাহিত্য নির্ভর নয় ,আমার মনে হয় না এরকম কোন ব্যাপার আছে (হাসি)।

শুধু সিনেমা বানানো নয় সিনেমার ব্যবসা নিয়েও অনেক পড়াশুনো আছে তোমার…

সৃজিত- হ্যাঁ, আমি অর্থনীতির ছাত্র ছিলাম কাজেই সংখ্যাতত্ত্বের উপর আমার সবসময় আলাদা ইন্টারেস্ট আছে! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমার ব্যবসা নিয়ে নানারকম অ্যাকাডেমিক পেপারস লেখা হয়, সেগুলোও আমি পড়ি। আমি সিনেমার রেভেনিউ মডেল নিয়ে অনেক রিসার্চও করেছি, এটা বলতে পারো আমার বৈজ্ঞানিক সত্ত্বা(হাসি) কারণ সিনেমাই এমন একটা জায়গা যেখানে সায়েন্স, আর্ট, কমার্স এসে মিশে যায় একটা সুন্দর অনুপাতে…

তাহলে তোমার মতে এই পুজোতে বক্স-অফিস গ্রাফটা কি হতে পারে?

সৃজিত- বক্স অফিস গ্রাফে কিছু সিনেমা ROI মানে return on investment এ ভালো করবে আবার কিছু সিনেমা কতো সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছেছে তার উপর ডিপেন্ড করবে সেখান থেকেই পাই ফুটফল’ র সংখ্যা। মানে কতো সংখ্যক মানুষ আসলে হলে গিয়ে সিনেমাটা দেখেছেন। ইয়েতি এবং ব্যোমকেশ’র একটা ক্যাপটিভ দর্শক আছে ওদিকে প্রজাপতি’র গান ভীষণ হিট হয়ে গেছে, চলচ্চিত্র সার্কাসে মৈনাকের ব্র্যান্ড অফ হিউমারটা পাবে দর্শকরা, ককপিটে দেব অ্যাগ্রেসিভ মার্কেটিং করছে আর রাজের সিনেমা সবথেকে বেশী হলে মুক্তি পাচ্ছে…সবমিলিয়ে দেখলে বাজ ভীষণ ভালো সিনেমাগুলো নিয়ে…

তুমি নাকি প্রজাপতি বিস্কুট’র অফিসে গিয়ে সন্ধ্যেবেলা ফুচকা খাচ্ছো?

সৃজিত- (অট্টহাসি) ওটা প্রজাপতি বিস্কুটের অফিস না, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অফিস! শিবু আমার খুবই কাছের বন্ধু, হ্যাঁ আমি খেতে খুব ভালোবাসি, আড্ডা মারতে ভালোবাসি। আমার মনে হয় পুজোতে কার কি সিনেমা রিলিজ করছে সেই নিয়ে খুনোখুনি করার কোণ দরকার নেই, একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকাটা কাম্য। আমি যেমন শিবুর অফিসে বসে ফুচকা খাই সেরকম শিবু ভেঙ্কটেশের অফিসে বসে বিস্কুট খায়, প্রজাপতি নয় নর্মাল বিস্কুটই খায়(হাসি) আবার দেবের সঙ্গে যখন দেখা হয় একসাথে আড্ডা মারি, মটন স্টু খাই, দেবও ভেঙ্কটেশের অফিসে এসে চা-ঝালমুড়ি খায়! এগুলো চলতেই থাকে…

তাহলে বলছো ককপিট’র ট্রেলার নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল সেই বরফ গলে গেছে?

সৃজিত- (একটু ভেবে) আমার মনে হয় না এটা দেব ইচ্ছাকৃতভাবে করেছিল! হয়তো না বুঝে করেছিল,এ কটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল তো সেই অর্থে বরফ ছিল না, সেটা মিটেও গেছে, যেকোণ পরিবারে বা বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে এটা হয়েই থাকে, আমি তখনও ব্যাপারটা বড় করে দেখি নি এখনো না…

  • সৃজিত মুখার্জি ম্যারেজ-

আই এম ম্যারেড টু সিনেমা।

  • সৃজিত মুখার্জি কনট্যাক্ট-

ফেসবুক, টুইটার ।

  • সৃজিত মুখার্জি বায়োগ্রাফি-

উইকিপিডিয়া

  • সৃজিত মুখার্জি অ্যান্ড ঋতাভরী-

দে আর ভেরি ভেরি গুড ফ্রেন্ডস…

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)