“ফারিয়া তো বাঙালি ছেলেকে খুব ভালোবাসে…”- নুসরাত ফারিয়া।

বাংলাদেশের হার্টথ্রব যখন চমকাইতলার চমকের জন্য কলকাতা আসে তখন শহরে তো চর্চা হবেই। ইতিমধ্যেই এপার বাংলাতে নিজের ফ্যানবেসের ভিতটা অনেকটা শক্ত করে ফেলেছেন, তাই ভীষণ আত্মবিশ্বাসী “ইন্সপেক্টর নটি কে”র সমীরা তথা নুসরাত ফারিয়া তবে জিৎ’র অফিসে ঢাকা উড়ে যাওয়ার আগে একান্ত সাক্ষাৎকারে পাওয়া গেল একদম বিন্দাস ফারিয়া’কে..

কেমন আছো তুমি?

নুসরাত- খুব ভালো আছি, ইন্সপেক্টর নটি কে রিলিজ করতে চলেছে, এটার প্রমোশন চলছে যেন একটা একটা ঈদ ঈদ ভাব চারিদিকে! এই মোমেন্টগুলো খুব এনজয় করছি…

একটু বাদেই তো ঢাকার ফ্লাইট ধরবে…সারাক্ষণ কলকাতা-ঢাকা, ধকল কতোটা হচ্ছে?

নুসরাত- (হাসি) একটু তো ব্যস্ততা বেড়েছে, দুইদেশের মানুষের ভালোবাসাটাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে কাজ তো করতেই হবে! আমি নিজে এয়ারপোর্ট খুব ভয় পাই (হাসি)…তাও আমি মনে হয় সবথেকে বেশি ট্রাভেল করি…

তোমার সিনেমাগ্রাফটা যদি দেখা হয় ২০১৫ থেকে সিনেমার সংখ্যা পিরামিডের মত ক্রমবর্ধমান, ২০১৫ তে ১টি, ২০১৬তে ২টি, ২০১৭তে ৩টি, ২০১৮ তে কি সংখ্যাটা ৪ হচ্ছে?

নুসরাত- (হা হা হা) এরকম পিরামিড হলে তো ভালোই! এই কয়েক বছরে ৮টা সিনেমা রিলিজ করছে নটি কে নিয়ে , আমি খুব খুশি যে এইটুকু সময়ে সিনেমাগুলো রিলিজ করেছে যেখানে হিট সিনেমা দেখলে বেশ কয়েকটাই আসে, আমি সত্যি খুব খুশি!

তুমি কি জানো বছরের শুরুতেই তোমার উপর অনেক বাঙালি ছেলেরা অভিমান করেছে…

নুসরাত- (চোখ বড় করে) কেন বলো তো? কি কারনে?

তুমি  বলেছ বাঙালি ছেলেরা নাকি ন্যাকার হদ্দ হয়, এটা কি ঠিক?

নুসরাত- (হা হা হা হা) একদম, কিন্তু এটা সমীরা (নটি কে’তে চরিত্রের নাম) বলেছে একদম ঠিক! লালু ছেড়ে আলু খায় ভাতে দিলে গলে যায় (হাসি)!

নুসরাত কি নিজেও তাই মনে করে?

নুসরাত- না না, ফারিয়া তো বাঙালি ছেলেকে খুব ভালোবাসে…

এতোগুলো সিনেমা করে ফেললে তার মধ্যে বেশিরভাগই যৌথ প্রোডাকশনে, দুটো সিনেমা করেছ শুধু বাংলাদেশের জন্যই তাহলে এখন কি ‘যৌথ ফারিয়া’ নামটা বলা বন্ধ হয়েছে?

নুসরাত-  হ্যাঁ এখন একটু বেটার! আমার মনে হয় কেউ এই সুযোগটা মিস করতে চাইবে না যদি দুই দেশের দর্শকদের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায় । এটা একটা বড় সুযোগ, আর আমি এটা খুবই রেসপেক্ট করি তাতে কেউ যৌথ ফারিয়া বললে কিছু এসে যায় না…

অভিনেত্রী হিসেবে এটা একটু বেশি চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেলা না? দুই দেশের দর্শকদেরকে টার্গেট করার চাপ…

নুসরাত- (চোখ নাচিয়ে) চ্যালেঞ্জই যদি না নিলাম তাহলে জীবনের তো মানেই নেই কোন আর আই লাভ চ্যালেঞ্জেস!

এই সাহসটা কি জিৎ’র থেকেই পাওয়া?

নুসরাত- “আশিকি”র সময় যদি জিৎ’দার সাথে দেখা হত তাহলে হয়তো ব্যাপারটা মিলে যেত কিন্তু এখন হ্যাঁ, আমি প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জ ভালোবাসি আর আমি একটু বেশি সাহসী এটা সবাই জানে। এই ব্যাপারটা আমার সাথে জিৎ’দার কমন।

জিৎ’র সাথে একদম প্রথম যেদিন শট দিতে হয় সেদিন নাকি “আই লাভ ইউ” বলতে হয়েছিল, নার্ভাস ফিল করো নি?

নুসরাত- (হাসি)… “আশিকি”, “হিরো ৪২০” করার পর আমি সেইভাবে বুঝতে পারি নি কে লিড অ্যাক্টর এন অল… মার্কেটটা বুঝে উঠতে পারি নি তখনই বাদশা’র শুট শুরু হয়, আমি ওনার নাম অনেক শুনেছিলাম কিন্তু চিনতাম না! তো সেইদিন জিৎ’দা আসে আলাপ করে তারপর একটা শট দিতে হয় যেখানে আমি দৌড়ে এসে ওঁকে বলবো, “আই লাভ ইউ বাদশা” ! আমি দেখলাম চারিদিকে অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছে ‘জিৎ’,’জিৎ’ চিৎকার করছে তখন বুঝলাম ও একজন বিগ স্টার! জিৎ’দা আমার সামনে দাঁড়িয়ে শট দিচ্ছে তখন আমি রীতিমত গুগুলে রিসার্চ করে যাচ্ছি ওনাকে নিয়ে, কথা বলতে গেলে তো জানতে হবে ওনাকে (হাসি)! তারপর তো একটু নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম, কিছুটা সময় লেগেছিল বাট কাটিয়ে নিয়েছিলাম। তুমি যদি জিৎ’দাকে জিজ্ঞেস করো বলবে, “হ্যাঁ আমার তো ভালোই লাগছিল বারবার এসে হাগ করছিল” (হাসি)!

এই স্টারডমের হুঁশটা কাটতে কত সময় লেগেছিল?

নুসরাত- বেশি সময় লাগে নি কারণ জিৎ’দা ইজ আ নাইস ম্যান। এতো বড় সুপারস্টার হওয়ার পাশে উনি  একজন হাম্বেল মানুষ, হয়তো আমি লাঞ্চ করছি উনি এসে বললেন, “লাঞ্চে কি খাচ্ছো? লেটস শেয়ার ইট!” ভীষণ ভালো মনের মানুষ জিৎ’দা…

তাহলে বলো জিৎ’র বিপরীতে দাঁড়িয়ে শট দেওয়া নাকি জিৎ’র সাথে জ্যামিং করা কোনটা বেশি কঠিন?

নুসরাত- দাঁড়িয়ে শট দেওয়া, জ্যামিং তো আমরা (হাতে তুড়ি মেরে)…আহা!!  এইভাবে শুরু হয়ে যায় যেখানে-সেখানে (হাসি)

এপার বাংলা নাকি ওপার বাংলা ফ্যান ফলোয়িং’র স্ট্যাটাসটা কোন দিকে ভারী?

নুসরাত- আমার মনে হয় দুজায়গাতেই , কিন্তু যেহেতু আমার বেস বাংলাদেশ তাই ওখানে একটু বেশি কিন্তু চিন্তা করো না (আত্মবিশ্বাসের সাথে) এখানেও হয়ে যাবে…

এই ইন্ডাস্ট্রিতে কোন হিরোইনের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে?

নুসরাত- দেখো বন্ধুত্ব করতে হলে ঘুরতে হয়, সময় দিতে হয়… আমি তো থাকিই ওখানে (বাংলাদেশ)…’বস ২’র শুটিংএর সময় শুভশ্রী’দির সাথে খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়েছিল বাকিদের সাথে হাই-হ্যালো হয়েছে কিন্তু সেভাবে কথা হয় নি..

ব্যাক টু ব্যাক জিৎ’র সাথে তিনটে সিনেমা অন্য হিরোইনরা তো ইনসিকিওর ফিল করবে…

নুসরাত- তাই? আমার মনে হয় না কারুর ইনসিকিওর ফিল করার আছে বলে কারণ জুটি প্রথাটা অনেক পুরনো যেমন শাহরুখ-কাজল বা জিৎ-কোয়েল, আমার তো কোয়েলকে খুব ভালো লাগে ওর চুলগুলো খুব সুন্দর (হাসি)! আর আমাদের হিরো-হিরোইন জুটিগুলোর অপশেনটাও লিমিটেড..

একজন ইতালিয়ান মেয়ের চরিত্র করাটা কতোটা কঠিন?

নুসরাত- এখানে আমি একজন ইতালিয়ান পুলিশ অফিসার, আমার (সমীরা) মা-বাবা বাঙালি কিন্তু আমার জন্ম,বেড়ে ওঠা ইতালিতে। এটা আমার কাছে অতোটাও কঠিন ছিল না কারণ আমার ইংরেজিটা একটু বেটার আর চরিত্রটার জন্যও ইংরেজিতে ফড়ফড় করে কথা বলাটা জরুরি (হাসি) তবে হ্যাঁ ফিটনেসের দিকে অনেকটা টাইম দিতে হয়েছিল, বাকি সব পারফেক্ট।

তোমার ড্রিমগার্ল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ওঁর সাথে যদি সামনাসামনি দেখা হয় প্রথম কি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে?

নুসরাত-  আপনি আপনার সব সিধান্তগুলো এতো সঠিক কিভাবে নেন? আমার আর ওনার জার্নিটা অনেকটা এক, কোন গডফাদার নেই ইন্ডাস্ট্রিতে..উনি কিভাবে স্মল পলিটিক্সগুলোকে হ্যান্ডেল করে আরও অনেক কিছু, অনেক প্রশ্ন আছে একটা প্রশ্নে হবে না (হাসি)…

এখানে তুমিও তাহলে পলিটিক্স ফেস করেছো?

নুসরাত- হ্যাঁ, অনেকবারই! পলিটিক্স কিন্তু সব জায়গাতেই আছে, ওটা না থাকলে ভালো-খারাপের পার্থক্য বোঝা যায় না। এগুলো আমার কাছে এক একটা বড় শিক্ষা ছিল, ঐ পরিস্থিতিতে আমি কেমন রিয়্যাক্ট করছি সেটা বেশি ইম্পরট্যান্ট।

একটা ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা শিল্পীদের  ফ্যান ফলোয়িং মারাত্মক, এটাকে তুমি কিভাবে দেখো? আশঙ্কার বিষয় নাকি স্বাস্থ্যকর বিষয়?

নুসরাত- নাহ আমি বলবো এখানের শিল্পীরা ওয়ার্কিং ভেরি হার্ড এবং অবশ্যই থ্যাঙ্কস টু দি মিডিয়া। মিডিয়ার কল্যানে ওঁদের কাজ আমাদের দেশে পৌঁছে যাচ্ছে, বাংলাদেশের মিডিয়াও যদি অত বড় হত তাহলে ওখানের অনেক শিল্পী এখানে অ্যাপ্রিশিয়েশন পেত। আমি মনে করি না আমাদের দেশে প্রতিভার সংখ্যা অন্য কোন দেশের থেকে কম আছে বলে।

কলকাতায় এলে কোন জিনিসটা না নিয়ে দেশে ফের না?

নুসরাত- আমি শু-ফ্রিক! প্রায় হাজারের উপর জুতো রয়েছে। কলকাতায় এলেই নতুন জুতো কিনি সবসময়য় জানি না কেন!  এটা কিনেছি, পরেও ফেলেছি (পা’য়ে নতুন জুতোজোড়ার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে ) এটা পরেই প্লেনে উঠবো (হাসি)!

তবে প্লেনে ওঠার আগে একটা শেষ প্রশ্ন, তথ্যটা একজন বাংলাদেশের সাংবাদিকের কাছে নেওয়া, তুমি নাকি চুড়ি পরে থাকার অভ্যেস শুরু করে দিয়েছো, তাড়াতাড়ি বিয়ে করছো  নাকি?

নুসরাত- (হাসি) নাহ এটা একদম না! আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে বিয়ে কবে করছো? আমি বলেছিলাম যে হ্যাঁ আমি করবো কিন্তু তার আগে আই হ্যাভ টু প্র্যাকটিস টু বি আ ওয়াইফ ফার্স্ট…সেই জন্য চুড়ি-টুড়ি পরে, শাড়ি পরে এখন থেকেই প্র্যাকটিস করা শুরু করে দিয়েছে যাতে তখন শাশুড়ি বকা না দেয় (হা হা হা)!

প্রশ্নের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।