“আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল একজন”- জিয়া।

না আমি নিজে শ্যুটিং করতে গিয়ে একেবারেই ভয় পাইনি, (হেসে) আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল একজন, কিন্তু আমি নিজে ভয় পাইনি।

জীবনে চলার পথে অনেকেই অনেক স্বপ্ন দেখে কিন্তু আজকে যার সাথে আড্ডা দেওয়া সে অনেক ছোট বয়সেই ঠিক করে নিয়েছে নিজে কেরিয়ারগ্রাফ! আর লক্ষ্য যদি স্থির হয় সাফল্য কে আটকায়? লক্ষ্য অভিনেত্রী হওয়া আর সেই লক্ষ্যের প্রথম ধাপ পেরোচ্ছেন পরিচালক সঞ্জয় বর্ধনের সিনেমা ‘চৌধুরী রাজবাড়ি’র লিড রোলের ভূমিকাতে কিন্তু সিনেমার আগেই নিজের জন্মদিনে কিছুটা আভাস দিতে আপনাদের সামনে আসতে চলেছে একটি অসাধারণ রোম্যান্টিক মিউজিক ভিডিও, যার সাক্ষী থাকলাম আমরা…

আচ্ছা সম্প্রতি কোনো কারণে মন কি খুব খারাপ আছে?

জিয়া- (খানিক হেসে) না তো সেরম তো কিছু না।

আসলে ওয়াটসআ্যপ এর ডি.পি. দেখে সেরম কিছুই মনে হচ্ছে।

জিয়া- (একটু হেসে) না আসলে আমার জীবনে এরম অনেক এক্সপেরিয়েন্স আছে, অনেক খারাপ এক্সপেরিয়েন্স, তো সেই কারণেই ওরম ডি.পি টা,আর কিছু না।

এতো কম বয়সে ডেবিউ করছ তুমি ইন্ডাস্ট্রিতে, তোমার এখন ফিলিংসটা ঠিক কি?

জিয়া- একটু নার্ভাস যেহেতু প্রথমবার কাজ করছি,কিন্তু তাও একটি ভালো বাংলা ছবিতে কাজ করতে পারলাম, এবং সব চেয়ে বড় কথা একজন ভালো ডিরেক্টর এর সাথে কাজ করতে পারলাম, তাই ভালো তো লাগছেই।সঞ্জয় দার সাথে কাজ করতে পেরে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আর এতো কম বয়সে অভিনয় শুরু করতে পেরে আমি খুব খুশি কারণ আমার হাতে সময়টাও অনেক বেশি আছে নিজেকে প্রুভ করার জন্য দর্শকের কাছে।

আচ্ছা একটু নার্ভাস বললে যখন তাহলে চাপ লাগছে কি?

জিয়া- না চাপ সেই অর্থে না, নার্ভাস লাগছে একটু কারণ প্রথমবার দর্শকের  সামনে আসব, আর এটা যেহেতু  প্রথম কাজ আমার তাই ভুল তো হয়েছে নিশ্চই, সেটা আমার মনে হয়। তাই আর কি, আর অন্য কিছু না।

মৈনাক বহুদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে রয়েছে আর তোমার এটা প্রথম কাজ, তাহলে ইন্ডাস্ট্রির একজন পুরোনো যোদ্ধার কাছ থেকে কি কি ইনপুটস বা কতটা সাহায্য পেলে?

জিয়া- সাহায্য বলতে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি ওর কাছ থেকে, ও যেহেতু সিনিয়র তাই অনেক সাহায্য করেছে আমায়। একজন কোআ্যক্টর এর সাথে যেমন বন্ডিং হওয়া উচিত আমাদেরও তাই। যদিও সব থেকে বেশি সাহায্য পেয়েছি আমি আমার ডিরেক্টর এর কাছ থেকে, আমার যেকোনো সমস্যায় উনি খুব হেল্প করছেন আমায়, তারপর বাকি সবাই।

‘চৌধুরী রাজবাড়ি’ ছবির গল্পটি পূণর্জন্মের গল্প, সেখানে তুমি কি নিজে পূণর্জন্মে বিশ্বাস কর?

জিয়া- আমি শুনেছি এরকম হয়, কিছু মানুষ আছেন যারা বিশ্বাস করেন তবে আমি নিজে যতক্ষণ না কোনো কিছু এক্সপেরিয়েন্স করছি তখন সেখানে আমি কি বা বলতে পারি, উচিত ও নয়। তবে এটা সত্যি না মিথ্যে আমি জানিনা আসলে।

তোমার ডিরেক্টর সঞ্জয় দা যখন তোমায় এই চরিত্রটির জন্যে সিলেক্ট করেন তখন কি বলেছিলেন?

জিয়া- উনি বলেছিলেন এই চরিত্রটা আমায় আলাদা করে অভিনয় করতে হবেনা আদপে আমি নিজে যেরকম সেটাই যেন তুলে ধরি। এবং সেটাই হয়েছে আমি যে চরিত্রে অভিনয় করেছি তার সাথে আমার নিজের চরিত্রের অনেক মিল আছে এবং বলতে গেলে আমি নিজের চরিত্রটাই প্লে করেছি, (হেসে) তাই অনেক সুবিধাও হয়েছে।

তুমি নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাও নাকি একজন হিরোইন হিসেবে?

জিয়া- আমি প্রথম থেকেই বরাবর চেয়েছি নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। আমার ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল আমি নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে দেখব।

এমন কোনো মানুষ যার সাথে কাজ করার ইচ্ছে?

জিয়া- (হেসে নিয়ে) হ্যাঁ আমি দেবের সাথে কাজ করতে চাই, ওনার কাজ আমার খুব ভালো লাগে, এবং ওনাকে আমি প্রথম থেকেই খুব পচ্ছন্দ করি।যদি কোনোদিন একসাথে কাজ করার সুযোগ আসে তবে খুব খুশি হব আমি।

ইন্ডাস্ট্রিতে সদ্য পা ফেলেছ সামনে কি কি বাধা দেখতে পাচ্ছ যা পেরোতে চাও?

জিয়া- বাধা বলতে আমার নিজের যেটা মনে হয় যে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমরা যারা কাজ করছি সবসময় তো সফলতা আসেনা বা পাওয়া যায়না, তো সফলতা এবং অসফলতা দুটোকেই আ্যকসেপ্ট করা খুব দরকার, ধৈর্য্য রাখা যখন কিনা মাঝে মাঝে সেটা খুব মুশকিল হয়ে যায়, কিছু কিছু সময় এমনও আসে যখন কিনা কিছু মানুষের সাথে আমরা কাজ করতে বাধ্য হই যেটা হয়ত পারছিনা তবু করতে হবে,অফ স্ক্রিন অনেক সময় ঝামেলা হয় কোআ্যক্টর এর সাথে তবু অনস্ক্রিন যাতে সেটা না বোঝা যায় সেটার খেয়াল রাখা। তো এগুলো খুব ডিফিকাল্ট মনে হয় আমার কাছে।এই জিনিস গুলো কে যদি কাটিয়ে উঠতে পারি তবে হয়ত ঠিক ভাবে আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে চলতে পারব।

শুটিং চলাকালীন এমন কোনো ঘটনা যা মনে রাখার মতো?

জিয়া- আমাদের ছবির পার্টিকুলার কিছুটা অংশ বসুবাটিতে শ্যুট হয়েছিল, তো আমার মনে  হয় সেই দিনটা আমাদের সব্বারই খুব মজার কেটেছিল যতদিন আমরা শ্যুট করেছি তার মধ্যে, কারণ ওখানে ভৌতিক কিছু ঘটনা শুনতে পাওয়া যায় যেগুলো ওখানে ঘটে আর কি। আমাদের মধ্যে অনেকেই এসে বলছিল তারা এরকম কিছু ফিল করেছে বা দেখেছে, মন দিয়ে সেগুলো শুনছিলামও,যদিও আমি নিজে এরম কিছু ফিল করিনি। আমার একজন কোআ্যক্টর আমায় ভয় দেখানোর জন্যে ইচ্ছে করে আওয়াজ বের করেছিল ভূতের কিন্তু আমি তাও ভয় পাইনি (হেসে)। বসুবাটিতে শ্যুটিং-এর দিনটা সত্যিই মজার কেটেছিল।

তোমার অভিনীত চরিত্রটি অনেক অলৌকিক ঘটনার মধ্যে দিয়ে গেলেও তুমি নিজে শ্যুটিং করতে গিয়ে ভয় পাওনি বলছ?

জিয়া- না আমি নিজে শ্যুটিং করতে গিয়ে একেবারেই ভয় পাইনি, (হেসে) আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল একজন, কিন্তু আমি নিজে ভয় পাইনি।

আজকে তোমার জন্মদিন আর আজকেই তোমার একটি রোমান্টিক মিউজিক ভিডিও আসতে চলেছে এবং সিনেমাতেও তুমি ভরপুর রোমান্স করেছ আমাদের কাছে খবর আছে, তাহলে আমরা কি বলতে পারি আজকের দিনেই তুমি নিজের সেনসেশন ছড়িয়ে ফেলার দায়িত্ব নিলে দর্শকের কাছে?

জিয়া- (একটু হেসে) কিছুটা সেটাই কারণ আমার জন্মদিনের দিন এই মিউজিক ভিডিওটা রিলিজ করছে। আমার প্রথম কাজ দর্শকের কাছে পৌছাচ্ছে আজকের এই দিনটায়, তো এটা আমার কাছে মোস্ট মেমোরেবল বার্থডে। আর খুব সুন্দর মিউজিক ভিডিও এটা, আমার নিজের কাজ করতে খুব ভালো লেগেছে এবং আমার কোআ্যক্টর সেও খুব ভালো কাজ করেছে। আমি খুব খুশি এটা আমার বার্থডের দিন রিলিজ করছে।

তোমার কি মনে হয় ‘চৌধুরী রাজবাড়ি’ কেন দেখবে দর্শকেরা?

জিয়া- ভালো গল্পের জন্যে তো অবশ্যই কারণ ‘চৌধুরী রাজবাড়ি’র গল্পটা সত্যিই ভালো এবং এটা এমন এক ধরণের ছবি যে ছোট থেকে বড় প্রত্যেকেই এই ছবিটি পচ্ছন্দ করবেন। ছবিটির মধ্যে যেমন রোমান্স আছে তেমন সাসপেন্স থ্রিলারও আছে, বলা যেতে পারে বিভিন্ন ধরণের ফ্লেবার আছে একটাই গল্পের মধ্যে যা দর্শকদের ভালো লাগবে। এটি একদম নতুন গল্প যা আগে কোনোদিন দর্শকেরা দেখেননি, কোনো কিছুর কপি নয় এটা, একদম ফ্রেশ গল্প। আমার মনে হয় গল্পটার জন্যে দর্শকেরা পচ্ছন্দ করবেন এই ছবিটি।

সবশেষে কিছু জানাতে চাও দর্শকদের বা পাঠকদের?

জিয়া- আমি দর্শকদের কাছে এটাই বলব যে এটা আমার প্রথম কাজ তাই যদি কিছু ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে বা ঘাটতি থেকে থাকে আমি চেষ্টা করব যাতে আমার পরের কাজে সেটা না থাকুক, আমি পরেরবার আরোও অনেক চেষ্টা করব ভালো কাজ করার, নিজের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে আরো আরো ভালো কাজ করার, এবং এটাই চাইব দর্শকেরা আমায় যেন আকসেপ্ট করুক যদি ভুল থাকে তাও যেন আকসেপ্টটেনস টা পাই, আর কিছু না।