“গলাটা নাকি অরিজিতের মত!”, শুনে কি বললেন অর্নব?

সপ্তাহ খানেক আগে এক সন্ধ্যের ঘটনা, সেই ঘটনা আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চলেছি তাই আগাম মাফিনামাটা দেওয়া থাকলো! ঘটনাস্থল নিউটাউন ফেরত একটা বাস, মানে বুঝতেই পারছেন গলায় বেসরকারি কোম্পানির ট্যাগ ঝোলানো, ফর্মাল ড্রেসে একঝাঁক তরুণ-তরুণীর স্বাভাবিক উপস্থিতি। সেই বাসে দুই তরুণীর আলোচনাতে উঠে এলো তাদের ফোনের কলার টিউনের গল্প, কার কলারটিউন বেটার সেই নিয়ে গল্প! দুটো গান ছিল একটা “সুন লে জারা” আরেকটা “কুছ ইস তারা”, দুটোই অবশ্য একই সিনেমার গান, বিক্রম ভাটের “1921”।  হয়তো আপনিও আপনার পরিচিত কারুর কলারটিউনে শুনে থাকতে পারেন গানগুলো কারণ এখন জিও’র দৌলতে কলারটিউনে সেই পরিচিত রিং’র শব্দ কিছুদিনের মধ্যেই হেরিটেজের তকমা পাবে! দুই কলারটিউনের মধ্যে কোনটা ভালো সেই যুদ্ধ কোন পরিনতি না পাওয়ায় প্রসঙ্গ ঘুরে যায় গায়কের দিকে, একজনের মুখে “অরিজিৎ সিং’র মত পুরো গলাটা” শুনে পাশেরজনের সংশোধন, “ইনি আরেকজন বাঙালি , অর্নব দত্ত!”… বেশ বোঝা যাচ্ছিল কোন্নগরের ছেলে আজ নিজের প্রথম বলিউডি সিনেমাতে অনেকখানি মাইলেজ পেয়ে গেছে অগত্যা বম্বে নিবাসী গায়ক দত্তকে ফোনেই পাকড়াও করতে হল, একগুচ্ছ প্রশ্ন নিয়ে…

আপনি কি জানেন আপনার নামে কলকাতায় দু’ধরনের কথা চলছে একটা ভালো একটা মন্দ, কোনটা আগে শুনবেন?

অর্নব- (হাসি) আমি আগে মন্দটাই শুনতে চাইবো কারণ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে তো এটা ভাবাই থাকে যে প্রথমে অনিয়মিত কিছুই হবে (হাসি)…

এইরকম গায়কদের উত্থান অনেকটা ধূমকেতুর মত আজ আছেন কাল নেই!

অর্নব- (একটুও না বিব্রত হয়ে) দেখুন আমি প্রত্যেকটা দিনের, প্রত্যেকটা মুহূর্তের উপর বিশ্বাস করি! এটাও আমার কাছে একটা শিক্ষা, ওনারা হয়তো ঠিকই বলছেন! আমাকে আরও স্টেডি থাকতে হবে কারণ একটা সময় ছিল আমি তো ভালো ভাবে মানুষের সাথে কথা বলতে পারতাম না, সত্যিই তো এরকম ফেজও কাটিয়ে এসেছি…

ভালো কথাটা হল, বাংলা থেকে নাকি আরেকজন অরিজিৎ সিং উঠে এলো, গলাটা নাকি অরিজিতের মত…

অর্নব- (হাসি) একটা সময় ওঁর সাথে আমার ভালো যোগাযোগ ছিল, কাজের দিক থেকে অবশ্যই সিনিয়ার। অরিজিৎ, আতিফ, সোনু নিগম, শান দাদা এরা প্রত্যেকের কাছেই আমি প্রতিনিয়ত শিখচ্ছি…

বম্বেতে নতুনদের উপর ভরসা করার প্রবণতা কলকাতার থেকে বেশি?

অর্নব- দুর্ভাগ্যবশত হ্যাঁ, প্রবনতাটা বেশি কিন্তু এটা কলকাতার মানুষের  দোষ নয়!

আপনি কি এরকম কিছু এখন শুনেছেন যে বাংলাতে যাদেরকে বলেছিলেন কাজের জন্য এখন তারা আফসোস করছে?

অর্নব- দেখুন এগুলো তো থাকেই, জীবনে বড়, মেজ, সেজ ঘটনাটা আসেই আর আমি মনি করি সবার একটা সময় আসে। ঈশ্বরের আশীর্বাদে সেই সময়টা উপলব্ধি করা শুরু করেছি, আশা করছি ভালো হবে…

তাহলে আপনি এখন এই অভিমান ঝেড়ে ফেলতে প্রস্তুত?

অর্নব- (হা হা হা হা) একটা শিল্পীর জীবনে অভিমানটাই বড় জিনিস তো (হাসি)…

বিক্রম ভাটের সান্নিধ্যে কিভাবে আসেন?

অর্নব- প্রায় ২০১৪ থেকেই চলছে পুরো ব্যাপারটা, মহেশ স্যারের মাধ্যমেই বিক্রম স্যারের সাথে আলাপ। আগে “মায়া” বলে একটা ওয়েব সিরিজ বেরিয়েছিল বিক্রম স্যারেরই তো সেখানে “সুন যারা” বলে একটা গান ছিল তখনই উনি বলেন এটা আমার লাগবে, মায়াতে আমি চারটে গান গেয়েছিলাম, আমি অনুরোধ করবো সিরিজের ৬টা গান সবাই যাতে শোনেন এরমধ্যে “মেরে খুদা” ভীষণ হিট ছিল, এই কাজ থেকেই আমাদের শুরু! সবাইকে শ্রদ্ধা রেখেই বলছি বিক্রম স্যার একজন অসাধারণ মানুষ, ভীষণ মিউজিক্যাল পারসেন উনি।

এখন কোন কাজ চলছে?

অর্নব- কাজ চলছে, বেশ কিছু প্রজেক্ট নিয়ে এখানে কাজ চলছে, কলকাতাতেও কথা হচ্ছে…

বলা যাবে না?

অর্নব- (হাসি) খুব তাড়াতাড়ি জানতে পারবেন…

তাহলে আরও একজন বাঙালি এখন পুরোপুরি বম্বেনিবাসী?

অর্নব- (হাসি) পাঁচ বছর হয়ে গেল এখানেই আছি তবে দুর্গা পুজো কি করে মিস করি? আমি একদম ডালে-ভাতে বাঙালি, মাছে-ভাতেও নয় !(হাসি)

ইঞ্জিনিরায়িং লাইফ ছেড়ে এসে মধ্যবিত্ত বাঙালি বাড়ির ছেলে আজ মা’য়ের সাপোর্টে প্রত্যেকদিন নিজেকে তৈরি করে গেছেন এই সুপ্ত প্রতিভার জনসমক্ষে তুলে নিয়ে আসার জন্য! আজকে প্রথম সারির বলিউড সিনেমাতে তিনটে গান, এভাবেই এগিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন বছরে মুখিয়ে আছেন গায়ক অর্নব দত্ত। শেষে একটা তথ্য দিয়ে রাখি যে তরুণীদের কথোপকথন দিয়ে শুরু করেছিলাম তারা যদি এই সাক্ষাৎকারটা পড়েন জেনে নিন, অর্নব দত্ত তাঁর কলারটিউনে দিয়ে রেখেছেন “সুন লে জারা” গানটা! এবার ভেবে দেখুন সেই অসমাপ্ত যুদ্ধ আবার শুরু করবেন কিনা…

ফোনের ওপারে- শুভদীপ কাজলী (এডিটর)।