‘রাজ’-দ্বন্দ্ব!

ইতিহাস ফিরে আসে ঠিকই। কিন্তু যখনই আসে তখনই মানুষকে চমকায়। মানুষকে চমকে দেওয়া ইতিহাসের পুরোনো স্বভাব, কেরামতিও বলতে পারেন। সেটা হতে পারে কোনো যুদ্ধ নতুবা কোনো মামলা। এই ধরুন মরে গিয়েও ভাওয়াল সন্ন্যাসীর ফিরে আসার ঘটনা। মানুষকে তো চমকে ছিলো বটেই, এর বাদেও অতীত-ভবিষ্যৎকে ভাবাতে ছাড়েনি।

মরা রাজা ফিরলো কি ভাবে ?

এই ঘটনা যেমন অতীতকে অবাক করিয়ে ছিলো, তেমনই যারা ভবিষ্যতে ভাওয়াল রাজার কথা ভাববেন তারাও নিশ্চিত আশ্চর্য হবেন। আপাতত ভাওয়াল রাজার গল্প নিয়ে নিজের পরবর্তী ছবির প্লট তৈরি করছেন পরিচালক সৃজিত মূখার্জী। তবে যারা পঁচাত্তরের স্মৃতিচারণ করে ‘সন্ন্যাসী রাজা’র সাথে সৃজিত বাবুর ছবিকে গুলিয়ে ফেলছেন তাদের জন্যই কিছু পার্থক্য আমরা তুলে ধরেছি।

১৯৭৫ সালে ভাওয়াল রাজার গল্প নিয়ে মুক্তি পেয়েছিলো উত্তম কুমার অভিনীত ছবি ‘সন্ন্যাসী রাজা’। তবে সেসময় প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামোর অভাব থাকায় মামলার মূল বিষয়বস্তু অর্থাৎ কোর্টরুম ড্রামার অনেকটাই ছাড়িয়ে চলে আসেন সেসময়কার পরিচালক। অপরদিকে সৃজিত মূখার্জী খুটিয়ে নজর দিয়েছেন এইসমস্ত ব্যাপার গুলিতেই। তাঁর ছবির বেশিরভাগ অংশ জুড়েই থাকছে কোর্ট রুম ড্রামার অনেক অজানা সত্য। যা অনেকটাই এগিয়ে রাখবে পঁচাত্তরের ‘সন্ন্যাসী রাজা’র থেকে। এছাড়াও পর্যাপ্ত প্রযুক্তি এবং ভাবনা-চিন্তার প্রমাণও গুলে খেতে পারবেন বাংলা ছবির দর্শকরা।

তবে সন্ন্যাসী রাজার চরিত্র নিয়ে একটা মস্ত বড়ো দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে দুই ছবির নির্বিশেষে। দ্বন্দ্ব বাদে তুলনা বললে হয়তো কথাটা বেশি যুক্তিযোগ্য হবে। ১৯৭৫ সালের ছবি ‘সন্ন্যাসী রাজা’য় ভাওয়াল সন্যাসীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার। অপরপ্রান্তে সৃজিত বাবু তাঁর ছবির জন্য বেছে নিয়েছেন যীশু সেনগুপ্ত’কে। দেখুন সৃজিতের ‘এক যে ছিল রাজা’র ফার্স্ট লুক ! 

একটা বড়ো মাপের টাই তৈরি হয়েছে এখানেই। অর্থাৎ,’সন্ন্যাসী রাজা’ বনাম ‘এক যে ছিল রাজা’ অথবা উত্তম কুমার বনাম যীশু সেনগুপ্ত। তুলনার পথ যতটাই আঁকাবাকা হোক না কেন! টলিপাড়ার লাইমলাইটের বাইরে কাউকেই রাখা যাবে না। দুজনই নিজের জায়গায় শ্রেষ্ঠ। যেখানে তুলনা হওয়া একেবারেই অবাঞ্চিত। কিন্তু গল্পের মোড় বদল নিয়ে তুলনা হতেই পারে। কোন বাঁকে গল্পটিকে কোর্টরুম অবধি পৌঁছে দেবেন সৃজিত মূখার্জী আসল টুইস্ট সেখানেই।