“অনেকেই বলেছিল বনশালি’র সাথে কাজ করলে লাইফটা শেষ হয়ে যাবে!”- অমিত রায়

রিলিজের পর থেকেই সোশ্যাল সাইটে ক্রমাগত আপডেট পড়ছে গোটা ভারত জুড়ে যে, “ওয়াচিং পদ্মাবত উইথ……”! বিতর্কে প্রায় জল ঢেলে সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কেটে দেখছেন সঞ্জয় লীলা বনশালির “পদ্মাবত” যার ফলস্বরূপ দিন কয়েকের মধ্যেই ১০০ কোটির ক্লাবে ঢুকে গেছে এই সিনেমা। এই সিনেমা এখনো যারা দেখেন নি তারা “সমাজ কি আমাকে মেনে নেবে?” গোছের পোস্ট করে সিনেমাটা দেখার সুযোগ খুঁজছেন! আজকে আপনাদের সাথে এই সিনেমার সাফল্য বা বিতর্ক নিয়ে নয়, চিনতে পারবেন এমন এক বাঙালি’কে থুড়ি দু’জন বাঙালিকে যারা এখন ক্যামেরার পেছনে বলিউড কাঁপাচ্ছেন …বাঙালি হিসেবে গর্ব, আক্ষেপ দুই সমানভাবে নিয়ে যারা এগিয়ে চলেছেন আরও বড় কাজের লক্ষে, তারা হলেন জাতীয় পুরষ্কার প্রাপ্ত সেট ডিজাইনার অমিত রায় এবং সুব্রত চক্রবর্তী।

“পদ্মাবত”র সাফল্যের পর ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে “উড়তা পাঞ্জাব”, “হায়দার”, “রঙ্গুন”, “মেরি প্যায়ারি বিন্দু” এর মত সিনেমার সফল সেট ডিজাইনার জুটির। যেদিন প্রথম বনশালি প্রোডাকশন হাউস থেকে ফোনটা আসে সেইদিনের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ফোনের ওপারে ভেসে আসে অমিত রায়ের গর্বিত গলা, “তখন মেরি প্যায়ারি বিন্দু’র শুট চলছে কলকাতাতে, ওখানে সুব্রত ছিল আমি ছিলাম বম্বেতে তখন আমার ফোনে ঐ ফোনটা ঢোকে তারপর মিটিং আর কাজ শুরু হয়ে যায়…যারা আগে কাজ করেছিল তারা বলেছিল

বনশালির সঙ্গে কাজ করলে লাইফটা শেষ হয়ে যাবে মানে ঐ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে অনেকে সাপের বিন বাজিয়েছিল (হাসি)!”

কিন্তু প্রায় দেড় বছর শুট করার পর আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অমিতবাবু মত, “উনি (বনশালি) বলেছিলেন তোমরা নিজেদের স্টাইলটা ধরে রাখো, উনি এতটাই খুশি হয়েছিলেন আমাদের কাজে যে ট্রেলারে, টিজারে সব জায়গায় রেখেছিলেন আমাদের নাম! এটা একটা বড় পাওয়া, আমরা কৃতজ্ঞ ওনার কাছে…”।

সেট ভাঙচুর, জ্বালানোর ঘটনার পর পদ্মাবত তখন হয়ে যায় জাতীয় সংবাদমাধ্যমের টপ নিউজ, সেই সময় আদপে কি হয়েছিল? উত্তরে বলেন,

“সেট ভাঙচুরের ঘটনাটা অনেকেই ঠিক করে জানেন না! আমাদের বম্বে ফিল্ম সিটিতে হিউজ সেট তৈরি হয় তো ওখানে শুট হওয়ার পর জয়পুরে ছিল শুটিং, ওখানে দ্বিতীয় দিনের শুটে বনশালিকে মারা হয়, টেকনিশিয়ানকে মারধর করা হয়, আমরা চলে আসি ব্যাক টু বম্বে। তার কিছুদিন পর আমাদের শুট ছিল মহারাষ্ট্রের শোলাপুরে, ঐ যেখানে লড়াইটা (সিনেমাতে) হয়, সেখানে আমাদের অনেক অনেক প্রপস (সিনেমাতে ব্যবহৃত দ্রব্য) জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, আলাউদ্দিনের যে হিউজ টেন্টটা ছিল ওটাও নষ্ট হয় এটাই ছিল সবথেকে বড় ঘটনা এর জন্য যেটা হয় আউটদোর শুটগুলো ক্যান্সিল হয়ে যায় তাই আমাদের ফিরে আসার পর পুরো শুটটাই হয় সেট তৈরি করে! প্রায় ৯০% শুট হয় সেটের মধ্যে!”

বম্বেতে ক্রমাগত কাজ করার ফলে কথার মধ্যে অবশ্য মাঝে মাঝেই বেরিয়ে যাচ্ছিল হিন্দি শব্দ যদিও কেরিয়ারের প্রথম দিকে করেছিলেন বাংলাতে কাজ তাহলে এখন কি বাংলাতে ফিরে আসার প্ল্যান নেই? উত্তরটা একটু অভিমানী গলাতেই আসে,

“টাকা পয়সার থেকে বড় হল উৎসাহ! সেটার অভাব আছে কলকাতাতে। ভালোবেসে কেউ যদি জল-বাতাসা খাওয়ায় তাহলেই খুশি, মুখ বেঁকিয়ে রেওয়াজি খাসি খেতে পারব না!”

বাংলা সিনেমাতে অবশ্য এইধরনের সেট তৈরি করে পিরিয়ড সিনেমা বানানোর চল খুব কম সেখানে এই মুহূর্তে বড় খবর রাজ চক্রবর্তী বানাতে চলেছেন “সিরাজউদ্দৌল্লা”, এইরকম একটা সিনেমাতে সেট ডিজাইন খুব গুরুত্বপূর্ণ…কথাটা বলার সাথে সাথেই জবাব, “ইতিমধ্যেই ফোন পেয়েছি এই কাজটার জন্য কিন্তু এখনো আমরা ঠিক করি নি কাজটা করবো কিনা, দেখা যাক এর বেশি কিছু বলবো না!” কথার মাঝে বেশ বোঝা যাচ্ছিল বাংলার আন্তরিক জল-বাতাসা’র অপেক্ষায় আছেন ওঁরা।

জাতীয় স্তরে এতো সম্মান, স্বীকৃতি পেয়েও বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে একটা ফুলের স্তবক পাওয়াটাই সবথেকে প্রাপ্তি মনে করেন তাই আশায় বুক বেঁধে উড়ে যাচ্ছেন জয়পুরে, ওখানে চলছে হ্রত্বিক রোশনের “সুপার ৩০”র শুটিং, হাতে রয়েছে অক্ষয় কুমারের ‘কেশরী’, ভিশাল ভরদ্বাজের ‘রানী’ এরকম একগুচ্ছ বড় বড় সিনেমা। নিজেদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং ট্যালেন্ট দিয়ে আজ তাঁরা গর্বিত বাঙালি, আমাদের অনেক শুভেচ্ছা থাকলো অমিত রায় ও সুব্রত চক্রবর্তী’র আগাম অনেক সাফল্যের জন্য…