হালকা সাজে, আলতো শীতে জমে যাক এই সরস্বতী পুজো!

সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে। এ কথা বাচ্চা থেকে বুড়ো কারোর অস্বীকার করার উপায় নেই। স্কুলে গিয়ে খিঁচুড়ি খাওয়া থেকে শুরু করে, প্রেমের মানুষটার হাত ধরে প্রথম বেড়ানো সব কিছু নিয়েই সরস্বতী পুজো বাঙালির অনেকগুলো ইমোশনের মধ্যে একটা। তবে সময় বদলেছে, পাল্টেছে মানুষের সরস্বতী পুজো নিয়ে চিন্তা-ভাবনাও। আবার কোথাও হয়তো সব কিছু একই রকম থেকে গেছে। আজকের জেন ওয়াই কিভাবে সেলিব্রেট করছে সরস্বতী পুজো? সরস্বতি পুজোর প্রেম, সাজগোজ এই সব কিছু নিয়েই পুজোর ঠিক আগের দিনেই আমরা ফোনে আড্ডা মারলাম দুই তরুণ তরুণীর সাথে। একজন টলিউডে ইতিমধ্যেই অতন্ত্য জনপ্রিয়, অন্যজন জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের কভার পেজে বা কলকাতার রাস্তার হোর্ডিংএ তবে ইদানীং পা দিয়েছেন বড় পর্দাতেও। একজন হলেন অনিন্দ্য চ্যটার্জী ও অন্যজন দর্শনা বনিক।

প্রেম করার জন্য দিনের দরকার পরে না ঠিকই, তবে সরস্বতী পুজোর দিন প্রেমটা কতটা আলাদা? এক কথায় সরস্বতী পুজোর প্রেম বলতে কি মাথায় আসে? অনিন্দ্য জানালেন,

“সরস্বতী পুজোর প্রেম অনেকটা দূর্গা পুজোর অষ্টমীর মতো ওই দিনটাই লাস্ট করে। তাছাড়া এখন বয়সও কিছুটা বেড়ে গেছে, ২৩ কি ২৪ অবধি ভালো লাগতো, এখন সরস্বতী পুজোর প্রেম উড়ে গেছে”।

অন্যদিকে সরস্বতী পুজোর প্রেম যে শুধু একদিনেরই এ মতে বিশ্বাসী নয় দর্শনা। তার মতে,

“প্রেম টিকে যেতেও পারে! তবে বেসিক্যালি সরস্বতী পুজোর প্রেম মানেই ঝাড়ি মারা! (হাসি)…আশে পাশের স্কুলে যাওয়া, সেখানে ছেলেদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ। ইম্প্রেস করার জন্য ছেলেরাও এদিন বেশ সাজগোজ করে”।

প্রেম তো গেল এবার আসা যাক সাজগোজে। পুজোর দিন সিম্পল সাজতেই পচ্ছন্দ করেন দর্শনা। তিনি জানালেন, “যেহেতু সরস্বতী পুজো একটা ডে ইভেন্ট তাই হালকা কালার পরতেই পছন্দ করি। মেকাপও সেইরমই হালকা, লাইক ছোট্ট টিপ, কাজল, মিনিমাল জুয়েলারী। যেহেতু ইয়াংদের পুজো তাই ফ্রেশনেস থাকাটা ইম্পরটেন্ট”।

আর পুজোর দিনে অনিন্দ্য কি পরতে পছন্দ করেন? জানালেন, ‘একটা সময় অবধি পাজামা, পাঞ্জাবী পরতাম। তবে তাতে ওয়ালেট বা ফোন রাখাটা একটু প্রবলেমের হয়ে যায়। তাই জিন্সটাই প্রেফার করি, তবে ইথনিক কিছু পরার চেষ্টা করি, লাইক জিন্স এর সাথে পাঞ্জাবী’।

কথা প্রসঙ্গে উঠে এল সপ্তাশ্ব বসু পরিচালিত সিনেমা ‘নেটওয়ার্ক’ এর কথা। অনিন্দ্য ও দর্শনা দুজনেই এই ছবিতে করেছেন গেস্ট অ্যপিয়ারেন্স। এ ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? অনিন্দ্য জানালেন, “এক্সপিরিয়েন্স খুবই ভালো। শাশ্বত চ্যটার্জীর সাথে প্রথম কাজ। ছবিতে শাশ্বতদা একটা সিনেমা করছেন যার হিরো আমি, চরিত্রটা শাশ্বতদাকে নানারকম উপদেশও দেয়”।

আর দর্শনা জানালেন এরকম একটা চরিত্র তিনি করতে চেয়েছিলেন অনেক দিন থেকেই। এই ছবির মধ্যেই তৈরী হচ্ছে আরও একটা ছবি যার হিরোইন তিনিই। কো-স্টারদের সাথে শুটিং এর অভিজ্ঞতা কেমন? জানালেন, “অনিন্দ্যের সাথে কেমিস্ট্রি খুব ভালো ছিল, খুব ভালো কো-অ্যক্টর, ভীষণ ফ্রেন্ডলি ছেলে। আর শাশ্বতদার সাথে কাজ করলে বোঝাই যায় না যে তিনি এত সিনিয়র। সব সময় ঠাট্টা করেন, খুব তাড়াতাড়ি আপন করে নেন জুনিয়রদের”। শোনা যাচ্ছে ছবিটি সামনের গরমেই আসতে চলেছে আপনাদের কাছের সিনেমা হলে…!

সবশেষে গুলগালের সমস্ত পাঠকদের জন্য রইল সরস্বতী পুজোর অনেক শুভেচ্ছা। আপনাদের কেমন কাটল সরস্বতী পুজো জানাতে ভুলবেন না কিন্তু…!