“প্রিয়াঙ্কা বলেছিল, আমিও করছি তুমিও করবে..!” – সম্পূর্ণা লাহিড়ী।

‌টিভির পর্দায় প্রতিনিয়ত দেখতে পাওয়া জনপ্রিয় মুখগুলি যতটা সহজ-সরল বলে মনে হয়, তাদের জীবন, কাজ, সময় কিন্তু ততটাও সহজ নয়। আর তারই প্রমান মিললো বছর শুরুর ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম রবিবারে, বাংলার প্রিয় অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ী ধরা দিলেন গুলগালের সাথে এক জমাটিয়া আড্ডায়। পিঠে পুলির সাথে বাঙালীদের সম্পর্কটা বরাবরই খুব মিষ্টি, তা সে বাঙাল হোক কি ঘটি। সেই আনন্দকেই আরও এক ধাপ এগোতে বাঘাযতীন তরুণ সংঘ ময়দানে অনুষ্ঠিত হল পিঠে-পার্বন উৎসব, যার আয়োজনে ছিলেন বাংলা-ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার, আর সেখানেই আমাদের দেখা হল অভিনেত্রী সম্পূর্ণা লাহিড়ীর সাথে।

সারাদিনের পর স্টলের ফ্লুরোসেন্ট আলোতে অসম্ভব ব্যস্ততার ফাঁকে আমাদের সাথে ভাগ করে নিলেন তার সারাটা দিনের ব্যস্ততার কথা-

“সকালবেলা সাবর্ণ রায় চৌধুরীর বাড়িতে গেছিলাম, তার ব্যপারে নতুন করে তো কিছু বলার নেই, হয়তো কলকাতাটাই হতনা, যদি ওনারা না থাকতেন। প্রতি বছরই ওনাদের বাড়িতে কিছু এক্সক্লুসিভ জিনিস নিয়ে একটা এক্সিবিশন করেন। সবাই এসে দেখতে পারেন সেটা। এই বছর আমিও সেখানে যেতে পেরে খুবই প্রাউড ফিল করছি”, এমনটাই জানালেন সম্পূর্ণা।

‌আরও বললেন- “আজকের বিষয়টা খুবই ইন্টারেস্টিং। প্রদর্শনীর প্রথমেই রয়েছে ওনাদের বংশের প্রায় ১৭০০, ১৮০০ দশকের সময়কার মেহগনি কাঠ, অরিজিনাল হাতির দাঁতের বিভিন্নরকম সব গয়নার বাক্স, যেগুলি মহিলারা ব্যাবহার করতেন। তার সাথে সাথে অনেক ধরনের টোব‍্যাকো, লাইটার, চুরুটের মত প্রচুর অ্যান্টিক যা বাড়ির অন্যান্য লোকেরা ব্যাবহার করতেন।”

এমনভাবেই ব্যক্ত করলেন তার রাজবাড়ীর এক্সপেরিয়েন্স। শুধু তাই নয় সাথে আরো বলেন “এগুলির পাশাপাশি রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলামের মত আরো অনেকের বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত চিঠি। জানতে পারলাম অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুমাত্র একজন বড় মাপের অভিনেতাই ছিলেন না, উনি খুব বড় একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীও ছিলেন। আমাদের ছোটবেলা থেকে শুনে আসা বিনয়-বাদল-দীনেশ  নামগুলোর মধ্যে খুব সম্ভবত বাদলকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্ট্রংলি একজন ফ্রিডম ফাইটার ছিলেন এবং সেখান থেকেই তার অভিনয়ে আসা, সেটা আমাদের অনেকেরই অজানা, ইনফ্যাক্ট আমিও  আজই দেখলাম, জানলাম, বুঝলাম।এই সমস্ত তথ্য এক্সপেরিয়েন্স করা, রাজ পরিবার হিসেবে তাদের আতিথেয়তা ইটস রিয়ালি স্পেশাল।”

দিনের কথা শেষ হতে না হতেই আমাদের নিয়ে চলে গেলেন নিজের পিঠে-পুলির স্টলে এবং পিঠে কেমন বিক্রি হচ্ছে তা জানতে চাইতেই সহাস্যে বলে উঠলেন  “তো তুমি কিনছো না তো…কেনো!” এরকম এক বিশেষ উদ্যোগের কারণ ও তার উপস্থাপনের কথায় সম্পূর্ণা বলতে শুরু করেন,

“এটা এই ক্লাবেরও প্রথমবার, আর আমারও প্রথমবার। যদিও এই উদ্যোগটা প্রথম প্রিয়াঙ্কারই, ওই আমায় বলেছিল করবে? চলো না, অমি তো করছি, তুমিও করবে, মজাই হবে!’ তখন আমি মা’কে বললাম। যদিও একদিনের শর্ট নোটিশে ব্যাপারটা খুবই টাফ তবু মা সেটা দায়িত্ব নিয়ে সবটা করেছেন। আমার ভাই, বোন সবাই হেল্পও করছে অনেক।”

এইভাবেই সারাটা দিন সাবর্ণ রায় চৌধুরীর বাড়িতে কাটিয়ে বান্ধবী প্রিয়াঙ্কা সরকারের ডাকে সম্পূর্ণা চলে যান বাঘাযতীন তরুণ সংঘের ময়দানে মানুষকে মিষ্টি মুখ করাতে, আর সেখানেই শুরু করেন জীবনে প্রথমবার স্টলে দাঁড়িয়ে পিঠে বিক্রি করা। প্রিয়াঙ্কার ডাকে শুধু সম্পূর্ণাই নয় দেখা মেলে রাজ চক্রবর্তী, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কাঞ্চন মল্লিক, অনিন্দ্য চ্যাটার্জি’র মত বেশকিছু বড়মাপের সেলিব্রিটিদের সাথে সাথে অগণিত সাধারন মানুষের ঢল।

আর যার এই পিঠের স্টল অর্থাৎ সম্পূর্ণার স্টলে সে কোন পিঠেটা আগে টেস্ট করলো? সততার সাথে জবাবা,

“অনেস্টলি আমি এখনো কিছুই টেস্ট করিনি।আমি মনে মনে চাই এক বাটি পায়েস বাঁচুক,রাত্রিবেলা বাড়ি গিয়ে খাবো।কিন্তু যতক্ষণ দোকানে আছি,খাবোনা।”

সুতরাং বুঝতেই পারছেন এই অভিনেত্রী অভিনয়ের পাশাপাশি আনুসাঙ্গিক কাজেও কত বেশি প্রফেশনাল। এবং অবশ্যই অভিনন্দন প্রাপ্য প্রিয়াঙ্কা সরকারের জন্য এইরকমভাবে পাড়ার মেয়েদের, কলিগদের নিয়ে বাঙালির পিঠেপ্রেমকে আরও সতেজ করে তোলার জন্য…!